অনুপ্রাণিত হোন

🙂

এক। জীবনের প্রধান দুটো সমস্যা হল, ভ্রান্ত বোধ নিজের মধ্যে ধারণ করা এবং সে বোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করা।
দুই। আমাদের জন্য কোনটা ঠিক, সেটা ঠিক সময়ে বুঝতে পারলে আমরা নিজেদের সঠিক পথে অনেকটাই এগিয়ে নিতে পারি।
তিন। সাময়িক আত্মসুখ বিসর্জন ও একাগ্র কর্মনিষ্ঠাই ব্যক্তিগত ও বৈশ্বিক সমৃদ্ধির অব্যর্থ উপায়।




চার। আমাদের প্রত্যেকটা কাজই হোক প্রার্থনার মতো সুন্দর ও আন্তরিক।


পাঁচ। নিজের মধ্যে ইগোকে ধরে রেখে কখনোই সুখী হওয়া সম্ভব নয়। জিততে চাইলে সবার আগে হারতে শিখতে হবে। কখনো কখনো লড়াই না করাই সবচাইতে বড় লড়াই।


ছয়। প্রতিদিনই একটু একটু করে নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার নামই জীবনযাপন। একই মানুষ হয়ে প্রতিদিন বাঁচা আর মৃত্যুর মধ্যে তফাৎ অল্পই।


সাত। যা শিখছি, তা যদি কাজে না লাগাই তবে শেখার সময়টা নিছকই অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়।


আট। যতক্ষণ দেহে প্রাণ আছে, ততক্ষণ কিছুতেই নিজের কাছে হেরে যাওয়া যাবে না। নিজের কাছে হেরে যাওয়ার চাইতে মৃত্যুও সম্মানের।


নয়। আমাদের যা আছে, সেটাকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করার মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস ও কাজের মান বৃদ্ধি করা সম্ভব। জীবনে এখনো পর্যন্ত যতটুকু পেয়েছি, অনেক পেয়েছি—স্রষ্ট
াকে ধন্যবাদ। এমন বোধ মানুষকে ধনী ও সাহসী করে।

দশ। চারপাশের পৃথিবী থেকে কেবল সুন্দর অনুভূতিগুলোই যেন আমরা আমাদের স্মৃতিতে গেঁথে রাখি। সুখের চাষে সুখ বাড়ে, কষ্টের চাষে কষ্ট বাড়ে।


এগারো। সত্যকে উপলব্ধি করার একমাত্র পন্থা হল, মনের সকল পূর্ব অনুমান ও বদ্ধমূল ধারণাকে বিসর্জন দিয়ে প্রকৃত ঘটনা কী, অহং ও আবেগশূন্য হয়ে তা জানার চেষ্টা করা। আমাদের কোনো জানাই শেষ জানা নয়। আমি যা জানি, তা-ই একমাত্র সত্য—এরই নাম অজ্ঞতা।


বারো। ক্রমাগত সুন্দর চিন্তার চর্চা আমাদের সুন্দর, অসুন্দর চিন্তার চর্চা আমাদের অসুন্দর করে তোলে।


তেরো। মিথ্যা ও কুৎসিত কোনোকিছু সাময়িকভাবে আমাদের যতোই সুখী কিংবা তৃপ্ত করুক না কেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা তা থেকে নিজেদের সরিয়ে আনতে না পারছি, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা অন্যদের চোখে ফালতু ও বাজেই থেকে যাবো।


চৌদ্দ। অন্য কারো পথে পরিপূর্ণভাবে বাঁচার চাইতে নিজের স্বপ্নের পথে কুকুরের মতো পড়ে থাকাও স্বস্তির।


পনেরো। আমাদের সামনে অনেককিছুই করার থাকতে পারে। সেসবকিছুর মধ্য থেকে আমরা সবসময়ই সে কাজটিকেই প্রাধান্য দেবো, যা আমাদের ও আমাদের প্রিয় মানুষদের শান্তি ও সম্মান এনে দেয়।


ষোলো। ভাল হয়ে বাঁচা ও ভালভাবে বাঁচা—এই দুইয়ের চাইতে বড় পুরস্কার আর নেই। ভালথাকার প্র্যাকটিস করতে হয় নিজেকেই; কারণ বেশিরভাগ সময়ই দেখা যায়, অন্যরা কেবল খারাপ থাকতেই জানে, ফলে ওরা ওটাই শেখায়।


সতেরো। নিজের দুর্বলতা অন্যের কাছে প্রকাশ করলে যা শান্তি পাওয়া যায়, পরিণামে তার চাইতে বহুগুণ অশান্তি সুদেআসলে ফেরত পাওয়া যায়। কাউকে নিজের দুর্বল দিকগুলি বলে দেয়ার মানেই হল, তাকে ভবিষ্যতে আপনার দুর্বলতার সুযোগ নেয়ার রাস্তা করে দেয়া। সুখকর নয়, সঠিক কাজই মানুষকে ক্ষমতাধর করে।


আঠারো। হোক সুখের, হোক দুঃখের, যাকিছু আমার এই মুহূর্তে প্রয়োজন নেই, তাকে দূরে সরিয়ে রাখা কিংবা তার কাছ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে আনাই জীবন। যে যতো অল্পে বাঁচতে জানে, সে ততো ঐশ্বর্যে বাঁচতে পারে।

Sushanta Paul

Advertisements

Leave a Reply/আপনার মতামত জানান

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s