আপনার জন্য

তরুণদের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা;

১) সময়ের ব্যাপারে প্রচন্ড স্বার্থপর হোন।

মনে রাখবেন আপনার সময় কেবল আপনারই

জন্য, আরো পরিষ্কার ভাবে বলতে গেলে

আপনার নিজের উন্নয়নের জন্য। আপনি যদি

স্বেছায় কাউকে সময় দেন সেটা ভিন্ন কথা

কিন্তু আড্ডাবাজী, ঘোরার নাম করে কেউ যেন

আপনার সময় নস্ট করতে না পারে সেদিকে

লক্ষ্য রাখবেন।

২) আপনার বন্ধুদের উন্নয়নের দায়ভার আপনার

না। যদি মনে করে থাকেন আপনারা দল বেধে

উন্নতি করতে পারবেন তাহলে ভুল ভাবছেন। এটা

কখনই হবেনা। যে দলের সাথে আপনি চলেন

তাদের অনেকে আপনার চেয়ে অনেক সফল

হবে

আবার অনেকে ধূলির সাথে মিশে যাবে, এটাই

বাস্তবতা, এটাই জীবন।

৩) পেশা বাছাই করার আগে নিজেকে বুঝুন, কি

করতে আপনার সবচেয়ে ভাল লাগে এবং কিসে

আপনি সবচাইতে দক্ষ? আপনার ভালো লাগার

সাথে আপনার দক্ষতা নাও মিলতে পারে, সেটাও

মাথায় রাখুন। যা করতে আপনার ভালো লাগে

সেটাতে যদি আপনার দক্ষতা থাকে তাহলে পেশা

জীবনে আপনার তর তর করে উঠে যাবার প্রবল

সম্ভাবনা আছে।

৪) ‘বন্ধুরা অমুক ভার্সিটিতে ঢুকেছে তাই

আমাকেও ঢুকতে হবে’ এই ধরনের মনোভাব

পরিহার করুন। আপনার জন্য যে ভার্সিটি আপনি

সেরা মনে করছেন তাতেই ঢোকার চেস্টা করুন,

ওটাতে না হলে সেকেন্ড বেস্ট ট্রাই করুন।

অন্যথায় যে বন্ধুত্বের খাতিরে পড়াশনার মান

উপেক্ষা করে আপনি ঝাক বেধে ভার্সিটিতে

ঢুকলেন, ভার্সিটির মানের কারনে জীবনে সফল

হতে না পারলে সেই বন্ধুত্ব কর্পূরের মতোই

উবে যাবে।

৫) ছাত্র অবস্থায় প্রেমে জড়ানো থেকে বিরত

থাকুন, আপনার জীবনের এই পর্যায়ে এগুলি টাকা

এবং সময়ের ‘ব্ল্যাকহোল’ ছাড়া আর কিছুই না।

আপনি একটা মেয়েকে পাগলের মতো

ভালবাসবেন, তার পেছনে টাকা এবং সময় দেবেন

এবং তারপর আপনি ‘প্রতিষ্ঠিত না’ এই যুক্তিতে

সেই মেয়ের অন্য জায়গায় বিয়ে হয়ে যাবে।

মাঝখান থেকে আপনার টাকা-সময়-কেরিয়ার সবই

নষ্ট। কোনো দরকার আছে এতোসব

ঝামেলার? যে টাকা গার্লফ্রেন্ড কে খাওয়াবেন

সেই টাকা নিজে খান, নিজের যত্ন নিন, আখেরে

কাজে দিবে।

৬) নিজের দক্ষতা বাড়ান। আমি এমন অনেক

তরুন দেখেছি যারা ফেসবুক ছাড়া ইন্টারনেটের

আর তেমন কোনো ব্যবহার জানেনা। যখন

কোনো প্রতিষ্ঠান আপনাকে নিয়োগ দেবার

চিন্তা ভাবনা করবে তারা আপনার ফেসবুক

ফ্রেন্ড লিস্ট দেখতে চাইবে না, বরং কয়টা

দরকারি প্রোগ্রাম আপনি দক্ষতার সাথে

ব্যবহার করতে পারেন সেটাই দেখবে।

৭) নিজের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট পরিষ্কার রাখুন,

অনেক কোম্পানিই এখন নিয়োগ দেয়ার আগে

চাকুরিপ্রার্থীর বিভিন্ন অন লাইন একাউন্ট চেক

করে দেখে। আপনার রাজনৈতিক মতবাদ বা সানি

লীওনের প্রতি আপনার ভালবাসা নিজের কাছেই

সীমাবদ্ধ রাখুন, প্রাইভেসি পাবলিক মোডে

রেখে এসব দুনিয়াকে জানানোর কোনই দরকার

নেই।

৮) ইংরেজিতে দক্ষতা অর্জনের চেস্টা করুন,

বিশ্বাস করবেন কিনা জানিনা, বিভিন্ন

গারমেন্টসে উচুপদে ইন্ডিয়ানদের নিয়োগের

এটাই প্রধান কারন। মুরাদ টাকলা জেনারেশন

দিয়ে হয়ত প্রেম ভালবাসা চলতে পারে কিন্তু

আন্তর্জাতিক লেনদেন কখনই চলেনা।

৯) নিজস্ব নেটওয়ার্ক তৈরি করুন, খেয়াল করে

দেখুন আপনার মহল্লায় গুরুত্বপুর্ন কেউ থাকে

কিনা, থাকলে দেখা হলেই সালাম দিন, সালাম

দেয়া চালিয়ে যান, ঈদে শুভেচ্ছা দিন, বেশ

কিছুদিন পর কি সাহায্য চান জানান, নিতান্ত

গারল না হলে তিনি অবশ্যই আপনাকে সাহায্য

করবেন। তবে এদের কাছে আবার টাকা পয়সা

চাইতে যাবেন না, এদের নেটওয়ার্ক (যা আপনার

চেয়ে অনেক ব্যপক হবে) ব্যবহার করার চেস্টা

করুন।

১০) সব চাইতে গুরুত্বপুর্ন ব্যপার যা কখনো

কোনো স্কুল কলেজে শেখানো হয়না,

শিষ্টাচার এর ব্যাপারে মনোযোগী হোন।

দেখে

শিখুন, আদব-বেয়াদব উভয়ের কাছ থেকেই। কম

বয়সে মনে হতে পারে এটার আবার কি প্রয়োজন

কিন্তু জীবনের কোনো এক বাকে এসে

টের

পাবেন এটাই জীবনের সব চাইতে গুরুত্বপুর্ন বিষয়

ছিল।

লিখেছেন :-কাজী ওয়াসিমুল হক

আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট

Advertisements

Leave a Reply/আপনার মতামত জানান

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s