ট্র্যাফিক জ্যামে বসে থাকার সময়কে কাজে লাগান দারুণ ৯টি উপায়ে!

১। Audio Book!

জ্যামের মধ্যে বসে থেকে ক্ষণিকের খোরাকের জন্য আমরা গান তো শুনি বটেই। তবে প্রতিদিন যদি শুধু গান শুনেই পার করে ফেলি দীর্ঘ এই সময়, তবে কি তা বুদ্ধিমানের কাজ হবে? নিশ্চয়ই নয়। তাই অডিও বুক হতে পারে দারুণ এক সহায়!

বই আপনি চোখ দিয়ে দেখে না পড়ে, কানে ইয়ারফোন লাগিয়েই শুনতে পারবেন। যেন আপনাকে কেউ পড়ে শুনাচ্ছে! এর নামই অডিও বুক। ইন্টারনেটে, ইউটিউবে অসংখ্য অডিও বুক পাওয়া যায়। পছন্দ মতো বইটি বেছে নিয়ে জ্যামের মধ্যেই শুনে ফেলুন, অর্থাৎ পড়ে ফেলুন একটি করে বই। সময়ের সদ্ব্যবহার এর থেকে ভালোভাবে কি করা যায় আর?

২। কী চলছে জগৎ জুড়ে?

জ্যামেই যেহেতু বসে থাকতে হয় দুই ঘণ্টা, তাই গন্তব্যে পৌঁছে সাথেই সাথেই নেমে পড়তে হয় কাজে। আর কাজের ফাঁকে মন চায় শুধুই বিশ্রামটুকু নিতে, একটু চা-কফি খেতে, অথবা ছোট্ট একটি আড্ডা দিতে। কাজের চাপে বিরতিটাও হয়তো খুব দীর্ঘ হয় না। আর তাই এতো কিছুর মাঝে শান্তি নিয়ে পত্রিকা পড়ার কাজটিও যেন বোঝা হয়ে দাঁড়ায়!  

তাই জ্যামে যখন আটকে আছেন, তখনই সেরে ফেলুন পত্রিকা পড়ার কাজটি, জেনে নিন জগৎ জুড়ে কি চলছে। অনলাইনেই পড়তে পারেন  পছন্দের পত্রিকাটি, কিংবা পথিমধ্যে কিনে নিন হকারের কাছ থেকে।

life hacks, time management

৩। কথা বলুন প্রিয় মানুষগুলোর সাথে:

কাজের চাপে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরি সবাই। প্রতিদিনের এই একই রুটিনে কেটে যাওয়া জীবনে প্রিয় মানুষগুলোর জন্য সময় বের করা দায় হয়ে পড়ে। তবে প্রযুক্তি হয়তো এই শোক লাঘবের কিছু উপায় ঠিকই বের করে দিয়েছে আমাদের। কারোর কথা মনে পড়তেই মুঠোফোনটি তুলে নিয়েই খোঁজ নেয়া যায় আপনজনের।

তাই জ্যামে বসে শুধু বাইরের গাড়ি-রিকশা না দেখে, ঐ সময়টায় চেষ্টা করুন পুরানো বন্ধু, কিংবা আত্মীয়-স্বজনদের ফোন দিয়ে খোঁজ নিতে। সুস্থ রাখুন প্রতিটি সম্পর্ককে।

বি.দ্র.: যদি বাসে চলাচল করেন, তবে কথা বলার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখুন যেন আপনার গলার স্বর খুব উঁচু না হয় নাহলে তা অন্যের বিরক্তির উদ্রেক ঘটাতে পারে।

৪। মুভি দেখার সময় হচ্ছে না?

জ্যামে বসেই স্মার্টফোনটিতে দেখে ফেলুন আপনার প্রিয় মুভিটি। ডাউনলোড করে, বা ইউটিউবে অফলাইনে সেভ করে, অথবা অনলাইনেই স্ট্রিম করে দেখে নিন। সময় কিন্তু ভালোই কেটে যাবে!

দেখে নিতে পারেন শিক্ষামূলক কিছু ডকুমেন্টারিও!

৫। অ্যাসাইনমেন্টের কাজ বাকি?

বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের অ্যাসাইনমেন্টগুলো সামান্য গবেষণা না করে লেখা যায় না। মনিষী, এক্সপার্টরা কী বলেছেন,  বিষয়টি নিয়ে কোন আর্টিকেল প্রকাশিত হয়েছে কি না, পূর্বের গবেষণার ফলাফল কী বলে ইত্যাদি জানা যখন জরুরী কিন্তু আবার সময়সাপেক্ষ ব্যাপার, তখন জ্যামই আমাদের কাছে হাত বাড়িয়ে দেয় সামান্য একটু সাহায্যের জন্য।

মুঠোফোনটিতেই সেরে নিন টুকটাক গবেষণার এই কাজটি। জ্যামের সময়টিকে ব্যয় না করে, বিনিয়োগ করুন।

৬। পরিকল্পনা তৈরি করুন

সারাদিন কী কী কাজ করবেন, তার একটি লিস্ট তৈরি খুবই জরুরী হয়ে পড়ে। কেননা, কাজের চাপে অনেক সময়ই আমরা ছোটখাটো কাজগুলোর কথা ভুলেই বসি। তাই জ্যামে বসেই তৈরি করে ফেলুন আপনার সারাবেলার পরিকল্পনা। এর জন্য খাতা কলম লাগবে না। ফোনের ‘Memo’ তে গিয়েই লিখে রাখুন সব।

এরই মাঝে দেখবেন যে এমন কোন কাজের কথা মনে পড়ে গেলো যা আপনি অনেক ধরেই ‘করবো করবো’ বলে করে উঠতে পারছেন না। নিজেকে রিমাইন্ডার দেওয়ার এটি কিন্তু একটি চমৎকার উপায়!

life hacks, time management

৭। পর্যবেক্ষণ করুন:

বাস-লেগুনাতে হোক আর গাড়ির ভেতর বসেই হোক, পর্যবেক্ষণ করুন আশেপাশের মানুষগুলোকে।একেকজন মানুষ কঠিন পরিস্থিতিকে একেকভাবে সামাল দেয়।

বাসে বসে অনেককেই দেখেছি রাগের কাছে হেরে যেতে, ভাড়া নিয়ে কন্ট্রাক্টর বা ড্রাইভারের সাথে চরম কথা কাটাকাটিতে লিপ্ত হতে। তবে একেকজনের বলার ধরন একেকরকম। কেউ অকথ্য ভাষায় হেয় করে কথা বলেন আর কেউ কেউ যুক্তিসঙ্গতভাবে ভদ্র উপায়ে বুঝিয়ে বলেন। পর্যবেক্ষণ করুন এবং বুঝার চেষ্টা করুন যে কোনটি অনুসরণীয়।

মাঝেমাঝে মগ্ন হতে পারেন গঠনমূলক কিছু চিন্তায়

৮। দেরি হয়ে গেছে?

একদল মানুষকে দেখবেন জ্যামে ও গরমে অতিষ্ঠ হয়ে অযথা শোরগোল করতে, সরকারকে গালমন্দ করতে। আর অন্যদল মানুষকে দেখবেন উপরের কাজগুলো করতে। কোনটাতে আপনি লাভবান হবেন, ভেবে দেখেন তো?

জ্যামের জন্য দেরি হয়ে গেছে এই ভেবে রাগে উত্তেজিত হওয়াকে আমি  অস্বাভাবিক বলছি না। তবে চিন্তা করুন তো, দেরি তো আপনার হয়েই গেছে, সেটা কি ঠিক করার কোন উপায় আর আছে আপনার কাছে? যেহেতু নেই, সেহেতু বসকে বা শিক্ষককে কী অজুহাত দিবেন তা না চিন্তা করে চিন্তা করুন বাসে বসে থেকেই সবচেয়ে প্রোডাক্টিভ কোন কাজটি করতে পারেন।

life hacks, time management

বি.দ্র. দেরি করার জন্য মিথ্যা অজুহাত দিবেন না। বরং বাসা থেকে ১ ঘণ্টা আগে বের না হওয়ার ভুলটি স্বীকার করুন, দায়টি নিজের ঘাড়ে নিতে শিখুন। দেখবেন, অপর পাশের মানুষটিও তখন উত্তেজিত হবে না। তাছাড়াও, আপনাকে যে অবশ্যই হাতে সময় রেখে বের হতে হবে, তা নিয়েও আপনার আত্মোপলব্ধি হবে।

৯। মন কি চায় কিছু লিখতে?

জ্যামে বসে অলস সময়টিতে আমরা সবাই রাজ্যের চিন্তায় মগ্ন হয়ে পড়ি। এখন থেকে মাঝেমাঝে মগ্ন হতে পারেন গঠনমূলক কিছু চিন্তায়। চিন্তা করুন, জলাবদ্ধতার জন্য দায়ী কে? সরকার নাকি আপনি? রাস্তায় কোকের বোতলটি বা সেন্টার ফ্রেশের প্যাকেটটি কি মেয়র আনিসুল হক ফেলেছিলেন নাকি আপনি? প্লাস্টিকের এই সামগ্রীগুলো ড্রেনে পানি প্রবেশের পথ আটকে দিচ্ছে, কিন্তু এই সামগ্রীগুলো ফেললো কে? উপলব্ধি করুন।

অথবা চিন্তা করুন, দেশের জন্য কী করেছেন? কতটুকু নিয়েছেন দেশ থেকে আর কতটুকু দিয়েছেন? সমীকরণ যদি না মিলে, ভেবে দেখুন কী করা যায়।

কিংবা চিন্তা করুন, কাজ আর টাকা পয়সার পিছনে ছুটছেন তবে সম্পর্কগুলো ঠিক রেখেছেন তো? কীভাবে সময় দেওয়া যায় আপন মানুষগুলোকে? চিন্তা করুন।

এসব চিন্তা রোজ করলে আপনি নিজেই দেখবেন আপনার মাঝে ছোট্ট কিছু পরিবর্তন। দেখবেন আপনি আগের চেয়ে গুছিয়ে কাজ করছেন, গঠনমূলক আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে পারছেন।

এগুলো চিন্তা করে মন কি কিছু চায় লিখতে? তবে লিখে ফেলুন না! ফেসবুকের পোস্টেই হোক কিংবা ব্যক্তিগত ডায়েরিতেই হোক, টুকে রাখুন ভাবনাগুলো।

কার্টেসীঃ ফাবিহা বুশরা। 

 

 

এখন থেকে তবে সময়ের সদ্ব্যবহার করুন। অপচয় না করে, বিনিয়োগ করুন!

Advertisements

Leave a Reply/আপনার মতামত জানান

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s