“পিএইচডি ফোকাস “

—পিএইচডি’র ফোকাস—
অনেকেরই একটা প্রশ্ন থাকে, পিএইচডি’র সময় কী ফোকাস করবে? —কীভাবে ফোকাস করবে? —কোন বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিলে ভবিষ্যতের পথ সহজ হবে?

<!–more–>

পিএইচডি হলো একটা ট্রেনিং। এই ট্রেনিংয়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক থাকে। সে দিকগুলো একজন স্টুডেন্ট যতো ভালোভাবে রপ্ত করতে পারে, ততোই তার জন্য ভবিষ্যত সহজ হয়। বেশিরভাগ ছেলে-মেয়ে পিএইচডি শুরু করে শুধু পাবলিকেশনের চিন্তা মাথায় রেখে। পাবলিকেশন একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক, তবে একমাত্র দিক নয়! (শুধু ডিগ্রির জন্য যারা পিএইচডি করে, তাদের বিষয়ে আমার কোন পরামর্শ নেই)
—প্রথম বিষয় হলো, যে যা নিয়ে কাজ করছো সেটা গভীরভাবে বুঝতে পারছো কিনা, সেটা আগে খেয়াল রাখতে হবে। তোমার সাথে থেকে যাবে নলেজ এবং দক্ষতা। আর এই নলেজই তোমার জন্য পথ খুলে দিবে। সুতরাং ডিগ্রির দিকে ফোকাস না করে, জানার দিকে ফোকাস করতে হবে। —এক কথায়, Be expert in your own area!
—একজন সুপারভাইজর/প্রফেসরকে খুশি রাখতে হবে। তাকে উপহার দিয়ে বা বাসায় দাওয়াত দিয়ে নয়। তাকে খুশি রাখতে হবে তোমার কাজ, মেধা, আগ্রহ, শ্রম ও ইন্টিগ্রিটি দিয়ে। যে মানুষটি সারাজীবন তোমার জন্য সুপারিশপত্র লিখবে, তার জন্য তোমাকে এই কাজটুকু করতেই হবে। এটা দায়!
—বহু সুপারভাইজর মানুষ হিসেবে খারাপ হয়। অনেক সময় সেটা সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পরে! সেক্ষেত্রে করণীয় হলো, নিজের মেধাকে শাণিত করার চেষ্টা করা। কাজ ও মেধার মাধ্যমে তার মন জয় করার চেষ্টা করা। সুপারভাইজরের সাথে যথাসম্ভব দ্বন্দ্বে না জড়িয়ে কাজ শিখে, পিএইচডি শেষ করার চেষ্টা করা।
—পিএইচডি করার সময়, অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা দিক হলো, প্রচুর আর্টিকেল পড়া। নিজ নিজ গবেষণাক্ষেত্রের বড়ো বড়ো জার্নালগুলো প্রতিদিন চোখ বুলানো। আই মিন, প্রতিদিন!
—নিজ নিজ গবেষণাক্ষেত্রের বড়ো বড়ো সাইন্টিস্টদের চেনা। কে কোথায় কাজ করছে সেগুলো জানা। তুমি কোথায় বসে কাজ করছো, সেটা বিষয় নয়। তুমি সবার কাজের খোঁজ রাখছো কি-না সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। আমি অনেককেই দেখেছি, নিজের এরিয়ার বড়ো বড়ো সাইন্টিস্টদের নামই জানে না অথচ পিএইচডি শেষ!
—আমার মেন্টর আমাকে একটা কথা বলতো, ডিসকাস ইউর প্রবলেম! গবেষণা জীবনের সবচেয়ে বড়ো পাওয়া হলো মেধাবী সহকর্মী! তাদের সাথে আলোচনা। অন্যের সাথে আলোচনা করলে নিজের দুর্বলতা প্রকাশ পায় না বরং একসময় অনেক বেশি স্মার্ট হওয়া যায়। পিএইচডি’র সময় আমার কাছে মনে হয়েছে সবেচেয়ে বড়ো পাওয়া হলো, সহকর্মীদের সাথে আলোচনা। এছড়াও, সুযোগ হলেই বড়ো বড়ো গবেষকদের সাথে কথা বলা। তাদের কথা শুনা। যে গবেষক ত্রিশ বছর ধরে গবেষণা করছে, তার অভিজ্ঞতা তোমার চেয়ে অনেক বেশি। অভিজ্ঞের একটা ছোট্ট কথাই, অনেক সময় খুবই কার্যকর হয়ে যায়।
—গবেষণা আর্টিকেল লিখতে শেখা। লেখা একটা শিল্প। এটা একটা দক্ষতা। সাহিত্য লিখতে পারা আর সাইন্টিফিক রাইটিং লিখতে পারা এক বিষয় নয়। দুটা খুবই ভিন্ন! সাইন্টিফিক রাইটিং একটা স্কিল! পিএইচডি’র সময়ই সেটা শিখতে হবে।
—ভালো প্রেজেন্ট করতে শেখা। গবেষণা কাজ প্রেজেন্ট করতে শেখা একটা দক্ষতা।
—ওভার অল, পিএইচডি হলো নিজেকে স্বতন্ত্র, স্বাধীন একজন গবেষক তৈরির ট্রেনিং। এই ট্রেনিং শেষে একজন স্টুডেন্ট নিজে নিজেই গবেষণা/
প্রজেক্ট ডিজাইন করতে জানবে। সেটাকে পার্ফম করতে পারবে। গবেষণার ফলাফলকে লিখে প্রকাশের ক্ষমতার রাখবে এবং সেই ফলাফল অন্যের সামনে প্রেজেন্ট করতে পারবে। কেউ যদি পিএইচডি করার সময় এই বিষয়গুলো মাথায় রাখে, তাহলে সে একজন বিশ্বমানের গবেষক হবেই হবে। তার আর অন্য কিছুর দিকে ফোকাস করার দরকার নেই।
Advertisements

Leave a Reply/আপনার মতামত জানান

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.