About SCHOLARSHIP  in ABROAD 

To know in short please visit : https://educaresorg.wordpress.com/2017/02/04/study-in-usa-via-scholarship/#more-733

🚩কানাডাতে উচ্চশিক্ষা🚩

বিশ্বের স্বনামধন্য সব বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকার একটি বিরাট অংশজুড়ে থাকে কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। দেশটিতে রয়েছেঃ

১। ইউনিভার্সিটি অব ভিক্টরিয়া

২। ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটি

৩। ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলম্বিয়া

৪। ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো ও

৫। কুইনস ইউনিভার্সিটি

ইত্যাদির মতো সব নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়। সর্বশেষ প্রকাশিত বিশ্ব-র‌্যাংকিং অনুযায়ী ৯০ শতাংশের বেশি কানাডিয়ান রিসার্চ স্বীকৃতি পেয়েছে। স্বনামধন্য এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও ক্যারিয়ার গঠনে যা বিরাট ভূমিকা পালন করতে পারে।

www.facebook.com/Ananda.Mohan.shil

🚩বিশ্ববিদ্যালয় তথ্য
স্টাডি স্ট্রাকচার
কানাডায় বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ২-টা লেভেল:

১. আন্ডার গ্রাজুয়েট (ব্যাচেলর ডিগ্রি)

২. পোষ্ট গ্রাড (মাষ্টারস এবং পি এইচ ডি)
বছররে তিন সেমিস্টারে
১। ফল (সেপ্টেম্বর- ডিসেম্বর)
এটাকেই একাডেমিক ইয়ার-এর (শিক্ষা বর্ষের) শুরু ধরা হয়। সাধারণত সব ছাত্র ছাত্রীকে এই সেমিস্টারে ভর্তি করা হয়। ভর্তির আবেদন-এর সময় বিশ্ববিদ্যালয় অনুসারে আলাদা। সাধারণত আন্ডার গ্রাড লেভেল-এ জুন-এর দিকে এবং পোস্ট গ্রাড লেভেল-এ মার্চ-এপ্রিল-এর দিকে। উল্লেখ্য, ভাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা না করাই ভাল।

২। উইন্টার (জানুয়ারী-এপ্রিল)
আন্ডার গ্রাড লেভেল-এ অনেকেই উইন্টারে ছাত্র ছাত্রী ভর্তি করে। পোস্ট গ্রাডে এই সেমিস্টারে খুব বেশী নতুন শিক্ষার্থী নেয়া হয় না। তারপরেও চেষ্টা করতে পারেন। ভর্তির শেষ সময় অগাস্ট থেকে সেপ্টেম্বর-এর মধ্যে।

৩। সামার (মে- অগাষ্ট)
এই সময় বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর ছুটি থাকে। বিশেষ করে যারা আন্ডার গ্রাড লেভেল-এ পড়ে। পোস্টগ্রাড-দের গবেষণা অথবা অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। উল্লেখ্য বেশীর ভাগ ছাত্র ছাত্রী যারা এখানে বাংলাদেশ থেকে পোস্ট গ্রাড লেভেল-এ পড়তে আসে, তারা রিসার্চ ফান্ড থেকে সাহায্য পায়- বিনিময়ে অধ্যাপক ইচ্ছামত খাটিয়ে নেন।

🚩শিক্ষাগত মান
কানাডার শিক্ষার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল এদের মান প্রায় সমান। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারী কিন্তু স্বায়ত্ব শাসিত। যে বিশ্ববিদ্যালয় যে প্রোগ্রাম অফার করে, তার ভাল অবকাঠামো আছে। তাই কানাডার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-এর রেংকিং নিয়ে অনেকের দ্বিমত, ত্রিমত আছে। তাই আমি বলব কানাডায় পড়ার জন্য রেংকিং না দেখে অন্যান্য কিছু বিষয় দেখলে অনেক লাভবান হবেন। এগুলো নিয়ে পরে বলছি। এখানে বেশির ভাগ প্রোগ্রাম সেন্ট্রাল-লি কন্ট্রল করা হয়- বোর্ড এর মাধ্যমে। প্রকৌশল বিভাগ প্রত্যেক প্রভিন্স-এ (প্রভিন্স গুলো ইউ এস এ-র স্টেট-এর মত স্বায়ত্ব শাসিত) একটি বোর্ড দিয়ে কন্ট্রল করা হয়। অন্যান্য বিষয় কম বেশী তাই।

🚩খরচ
টিউশন ফি
কানাডার সব বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি একই রকম হয় না। অঞ্চল ও পড়ানোর প্রোগ্রামভেদে টিউশন ফিও ভিন্ন ভিন্ন হয়। স্থানীয় শিক্ষার্থীদের তুলনায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর টিউশন ফি বেশি হয়। আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের জন্য খরচ পড়বে ১৭ থেকে ২০ হাজার ইউএস ডলার। গ্র্যাজুয়েট, ডক্টরাল ও অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রির জন্য খরচ পড়বে ১২ হাজার ৫০০ থেকে ২০ হাজার ইউএস ডলার।

🚩থাকার খরচ
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস-এ থাকতে হলে ডর্মে (বাংলাদেশে হল-এর অনুরূপ) থাকতে হবে। খরচ হবে প্রতি চারমাসে ৩,০০০ থেকে ৭,০০০ ডলার পর্যন্ত- সুযোগ সুবিধার উপর ভিত্তি করে। খাওয়ার খরচ মিল প্লান-এ আলাদা ভাবে কিনতে হবে- ডর্মে থাকলে সেটা সাধারণত বাধ্যতা মূলক। ডর্মে থাকা বাঙ্গালী শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল খাওয়া। মোদ্দা কথা ডর্মে থাকা অনেক ব্যয়বহুল- কিন্তু ঝামেলা মুক্ত। যারা ক্যাম্পাসের বাইরে থাকেন তাদের খরচ একজনের জন্য এরকম হয়:

বাসা ভাড়া
২৫০- ৮০০ ডলার (শেয়ার করে থাকলে কম খরচ)

যোগাযোগ
বাস পাস (৬০$-১৫০$) অনেক প্রভিন্স-এ শিক্ষার্থীদের বাস পাস ফ্রি। (যেমন আলবার্টা)

খাওয়া
বাসায় রান্না করলে ১০০-২০০$; বাইরে খেলে: ৩০০-৬০০$

ফোন এবং ইন্টারনেট
শেয়ার করলে খরচ অনেক কমে যায়। কমপক্ষে ৫০-১০০$ ধরে রাখুন। (উল্লেখ্য: শহর থেকে শহর-এ আলাদা হতে পারে। আপনার থাকার উপর-ও নির্ভর করে। উপরের খরচ একজনের মোটামুটি থাকার মত খরচ।)
এখন পড়ালেখার খরচ-এ আসা যাক। প্রতি একাডেমিক ইয়ার-এ বিশ্ববিদ্যালয় ফি বাবদ খরচ প্রায় ১৫,০০০ থেকে ২৮,০০০ কানাডিয়ান ডলার পর্যন্ত। ইমিগ্রেন্ট বা সিটিজেন-দের জন্য এ খরচ ৪,০০০ থেকে ৭,৫০০ ডলার পর্যন্ত। কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার আরো অনেক কম বেতন (৮-১৪ হাজার ডলার)। সাধারণত এসব বিশ্ববিদ্যালয় একটু ছোট শহরে অবস্থিত হয়। তাই ক্যারিয়ার-এর দিকে সুবিধা কম থাকে। কিন্তু ভাল দিক হল খরচ অনেক কমে যায়।

🚩খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ
কানাডায় শিক্ষার্থীদের জন্য খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ আছে। সপ্তাহে একজন শিক্ষার্থী ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। শিক্ষক সহকারী, বিক্রয়কর্মী, ফুড ক্যাটারিং, গবেষণা সহকারী, কম্পিউটার ওয়ার্কসহ বিভিন্ন খণ্ডকালীন কাজ শিক্ষার্থীরা করতে পারেন।

আন্ডারগ্রাড
আন্ডারগ্রাড-দের জন্য কানাডায় খুব বেশি সুবিধা নেই। অল্প কিছু বিশ্ববিদ্যালয় এই লেভেল-এ স্কলারশিপ দেয়; যা মূল খরচ-এর চেয়ে অনেক কম। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়- যারা বেশী বেতন রাখে তারা স্কলারশিপ দিয়ে রেগুলার বেতন-এর সমান করে দেয়ার মত সৌজন্য দেখায়। ভাল রেজাল্ট করলে ছোট খাট কিছু স্কলারশিপ পাওয়া যায়। একাধিক স্কলারশিপ পেলে চাপ অনেক কমে যায়- যা পাওয়া অনেক কঠিন। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়-এর পলিসি-তে বলাই থাকে শুধু মাত্র আন্তর্জাতিক ছাত্র-ছাত্রী হওয়ার কারণে আপনি কোন স্কলারশিপ পেতে পারবেন না। এটা চেক করা গুরুত্বপূর্ণ। এখানে কিছু প্রোগ্রাম-এ কো-ওপ নামে একটি অপশন অফার করে। এটি অনেকটা ইন্টার্নশিপ-এর মত। তবে কোম্পানীগুলো পে করে এবং বেশ ভাল অঙ্কের। কো-অপ নিয়ে আরেকটি লেখা আমি শিঘ্রী লিখব। তবে কো-অপ-এ ঢুকতে হলে অনেক ভাল সিজিপিএ লাগে- একটি অতিরিক্ত কোর্স এবং কোন কোন ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পরীক্ষা দিতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়-কে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয় ফি বাবদ- তবে যা আসে তা অনেক সাহায্য করে।
এ ছাড়াও অফ ক্যাম্পাস ওয়ার্ক পারমিট-এর সুবিধা আছে। এই সুবিধা পেতে অবশ্য প্রায় এক বছর অপেক্ষা করতে হবে। ৬ মাস ফুল টাইম পড়া শুনার পরে আপনি এপ্লাই করতে পারবেন, কিন্তু কাগজ যোগাড় করতে সময় লাগায় মোট ৭-৮ মাস লেগে যায়। সম্প্রতি বাংলাদেশ-কে সন্দেহজনক দেশ-এর তালিকায় যুক্ত করায় প্রসেসিং সময় ১৫ দিনের বদলে কমপক্ষে ৩ মাস লাগে। সব মিলিয়ে প্রায় এক বছর অপেক্ষা করতে হবে কাজ করার পারমিশন-এর জন্য। এর আগে ক্যাম্পাসের বাইরে কাজ করা অবৈধ। তার আগে এবং পরে অন ক্যাম্পাসে ২০ ঘন্টা কাজ করতে পারেন- যা পাওয়ার সম্ভাবনা শুরুর দিকে খুবই ক্ষীণ। অফ/অন ক্যাম্পাস কাজ করে থাকা খাওয়ার খরচ তোলে সম্ভব। মূলত আমি বলব, যারা কমপক্ষে পুরো ৩ বছরের টিউশন ফি + প্রথম বছরের থাকার খরচ দেয়ার মত টাকা দিতে সক্ষম শুধু তাদের আসা উচিত। কেন? কানাডা-তে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পণ্যের মত দেখা হয়। কানাডা-র জাতীয় রপ্তানীর একটি বড় অংশ হল শিক্ষা। এখানকার ব্যবস্থা এমন ভাবে করে রাখা আছে যে আপনি কোন আর্থিক সমস্যায় পড়লে সাহায্য করার কেউ নেই। আবার টাকার অভাবে ক্লাস না করলে আপনাকে ওয়ার্ক পারমিট দিবেনা। তাই সবদিক থেকে বিপদ। একবার এরকম অবস্থায় পড়লে তা থেকে বের হওয়া কঠিন- অনেকটাই অসম্ভন। এখানেও আপনাকে সহজে ইমিগ্রেশন-ও দিবেনা। যদি আর্থিক সঙ্গতি না থাকে আমি বলব বাংলাদেশে ব্যাচেলরস শেষ করে আসুন। পোস্ট গ্রাড-এ এখানে অনেক সুবিধা।

🚩পোস্টগ্রাড
সাধারণত এই লেভেল-এ আসা সব ছাত্র ছাত্রী স্কলারশিপ এবং বিভিন্ন ফান্ডিং-এ আসে। টিএ (টিচিং এসিস্টেন্ট- ছাত্র ছাত্রীদের বিশেষ করে আন্ডার গ্রাড-দের সাহায্য করা), আর এ (রিসার্চ এসিস্টেন্ট- গবেষণায় সাহাযয় করা) এবং বৃত্তির টাকা মিলে সাধারণত যে টাকা অফার করে তাতে একা হলে নিজের টুইশন ফি, থাকা খরচ-এর পরেও বাসায় টাকা পাঠাতে পারবেন। তবে ভর্তি অনেক প্রতিযোগিতা মূলক। শর্ত একটাই- এভারেজ সাধারণত এ- রাখতে হবে। এর চেয়ে কমে গেলে বেতন আবার পুরোটা দিতে হবে আপনাকে। তাই এই কথাটি মাথায় রেখে মন দিয়ে পড়লে আশা করি কোন সমস্যা হবেনা। আর যারা সামর্থ রাখেন খরচ করার কিন্ত রেজাল্ট ভাল নেই তারা নিজ খরচে আসতে পারেন।

✏✏✏যে বিষয়ে পড়া যায়
কম্পিউটার সায়েন্স, বায়োলজি, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ফুড সায়েন্স, কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড রিসোর্সেস, ইলেকট্রনিক্স, মেডিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড সার্ভিসেস, মেরিন অ্যাফেয়ার্স, এগ্রিকালচার, ইকোনোমিক্স, অ্যাপ্লায়েড কম্পিউটার সায়েন্স, ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট, অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং, অ্যাসট্রোনমি, অ্যাপ্লায়েড জিওগ্রাফি, আর্কিটেকচারাল সায়েন্স, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল হেলথ, বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, এডুকেশন, হোম ইকোনোমিক্স, মিউজিক, ফিলোসফি, হিস্ট্রি অ্যান্ড রিলিজিওন, ইংলিশ, ল, থিয়েটারসহ আন্ডার গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে প্রায় দশ হাজার বিষয় এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে প্রায় তিন হাজার বিষয় পড়তে পারবেন।

✏✏✏পড়াশোনার ভাষা
ইংরেজি ও ফরাসি দুটি ভাষাতেই কানাডার প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়াশোনা করা যায়। তবে যে ভাষায় পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক সে ব্যাপারে আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করে নিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ভাষায় যথেষ্ট দক্ষতাও থাকতে হবে। ভর্তির শুরুতেই ভাষার ওপর দক্ষতা যাচাই করার জন্য অনলাইনে বিভিন্ন পরীক্ষা দেওয়া লাগে। যেমনÑ অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় TOEFL এ ১২০ নম্বরের পরীক্ষায় নূন্যতম ৭৯ পেতে হয়। তবে ১০০-এর বেশি নম্বর পেলে ভালো। এছাড়া বিজনেসের শিক্ষার্থীদের GMAT টেস্টে ভালো স্কোর পেতে হয়।

🚩ভর্তি
✏✏✏ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা
আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে ভর্তির জন্য কমপক্ষে ১২ বছরের শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে। গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রির জন্য লাগবে ১৬ বছরের শিক্ষাগত যোগ্যতা। কানাডায় উচ্চশিক্ষার জন্য ইংরেজি ও ফ্রেঞ্চ—এ দুটো ভাষার প্রতিষ্ঠান রয়েছে। একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এই দুটোর যেকোনো একটি ভাষা পড়তে পারবেন। ইংরেজি ভাষার প্রতিষ্ঠানগুলো ভাষাগত যোগ্যতা হিসেবে টোয়েফল, আইইএলটিএস, জিম্যাট, জিআরইকে প্রাধান্য দেয়। টোফেলের আইবিটি স্কোর থাকতে হবে ন্যূনতম ৭৫। অন্যদিকে যাঁরা IELTS করেছেন, তাঁদের জন্য স্কোর প্রয়োজন ন্যূনতম ৬.০০। ভাষাগত যোগ্যতা ছাড়াও কিছু প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী ভর্তি করায়। তবে এ ক্ষেত্রে ভর্তির পর প্রতিষ্ঠানে ভাষার ওপর ESL (English Second Language) মৌলিক কোর্স করতে হবে। ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের টোয়েফল, আইইএলটিএস, জিম্যাট, জিআরই না থাকলেও হবে। ফ্রেঞ্চ ভাষার প্রতিষ্ঠানে পড়তে চাইলে ওই প্রতিষ্ঠানে ফ্রেঞ্চ ভাষার ওপর লিখিত পরীক্ষা দিতে হয়। এটি তারা নিজস্ব নিয়মে নিয়ে থাকে। কানাডায় পড়ালেখার জন্য শক্ত পৃষ্ঠপোষকতা দেখাতে হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীকে তাঁর পৃষ্ঠপোষকের ন্যূনতম ২০ লাখ টাকা ব্যাংক হিসাব দেখাতে হবে এবং এই টাকা ন্যূনতম এক বছর ব্যাংকে থাকতে হবে।

✏✏✏ভর্তির জন্য যা যা প্রয়োজন
মাস্টার্স লেভেলে ভর্তির জন্য বাংলাদেশী স্টুডেন্টদের ১৬ বছরের শিক্ষা অভিজ্ঞতা দরকার। সে অর্থে ইন্টারমিডিয়েটের পরে চার বছর মেয়াদী অনার্স থাকাই যথেষ্ট। অনেক ইউনিভার্সিটিতেই ল্যাংগুয়েজ প্রফিসিয়েন্সি পরীক্ষা যেমন টোফল / আই ই এল টি এস বাধ্যতামূলক। তবে ক্ষেত্রবিশেষে এ নিয়ম তারা শিথিল করে থাকে। কানাডায় দুই একটি বাদে কোন ইউনিভার্সিটিতেই জি আর ই স্কোর প্রয়োজন হয়না অর্থাৎ জি আর ই’র স্কোর তারা বিবেচনা করেনা।
আর একটি দরকারী জিনিস হল রেকমেন্ডশন লেটার। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভর্তির সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এই সব রেকমেন্ডশন লেটার পড়ে। রেকমেন্ডশন লেটার হল আপনার একাডেমিক এবং গবেষণা করার যোগ্যতা মূল্যায়ন সম্পর্কিত একটি পত্র যা সাধারণত আপনার কাজের সাথে পরিচিত প্রফেসর দিতে পারেন। এর জন্য ইউনিভার্সিটিগুলোর নিজস্ব ফরম রয়েছে। তবে তার সাথে প্রফেসরদের লেটারহেড-এ আলাদা করে একটি চিঠি পাঠানো ভাল। সাধারণত ২-৩টি লেটার দরকার হয়। ভাল রেকমেন্ডশন লেটার না হলে ভর্তির সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
অনেক সময় আ্যপ্লিকেশন প্যাকেজে স্টেটমেন্ড অব ইন্টারেস্ট বা প্ল্যান অব স্টাডি লিখতে হয়। এটি মাস্টার্স লেভেল-এর জন্য তেমন গুরুত্বপূর্ণ না হলেও পি এইচ ডি’র জন্য খুবই দরকারী। আপনি মাস্টার্স আ্যপ্লিক্যান্ট হলে তারা দেখতে চায় আপনার রিসার্চ ইন্টারেস্ট কোনদিকে। কোন স্পেসিফিক একটা এরিয়াতে ফোকাস না করে কয়েকটি এরিয়াতে ইন্টারেস্ট দেখানো আমার মনে হয় ভাল। তবে ডিপার্টমেন্টের প্রফেসরদের ওয়েবসাইট দেখে সে মোতাবেক একটা প্ল্যান তৈরী করা উচিৎ।
আ্যপ্লাই করার শেষ সময় ইউনিভার্সিটিভেদে আলাদা হয়। তবে সাধারণত ফল সেশনের জন্য সেই বছরের জানুয়ারী বা কোন কোন ক্ষেত্রে আগের বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই সব ডকুমেন্ট নির্ধারিত ঠিকানায় পাঠাতে হয়। যেমন আপনি যদি ২০১৩ এর ফল এ ভর্তি হতে চান তাহলে ২০১২ এর জানুয়ারী বা এ বছরের (২০১২) ডিসেম্বর নাগাদ আপনার আ্যপ্লিকেশন ফরমস, ফি, ল্যাংগুয়েজ স্কোর, রেকমেন্ডেশন লেটার ইত্যাদি পাঠাতে হবে। সাধারণত টোফল / আই ই এল টি এস এর স্কোর পেতে ১ থেকে দেড়মাস সময় লাগে। তাই নভেম্বরের শেষ অথবা ডিসেম্বরের শুরুর মধ্যে অবশ্যই এসব পরীক্ষা দিয়ে ফেলা উচিৎ। অনেক সময় পোস্টাল ডেলিভারির ভুলের কারণে দরকারী কাগজপত্র সময়মত পৌঁছায় না বা হারিয়ে যায়। তাই আ্যপ্লাই করার পর ইউনিভার্সিটির সাথে ইমেইলে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হতে হবে যে তারা আপনার সম্পূর্ণ আ্যপ্লিকেশন হাতে পেয়েছে। তারা কিন্তু নিজেরা আপনাকে জানাবে না যে আপনার টোফল / আই ই এল টি এস স্কোর তারা পায়নি। সেক্ষেত্রে আপনার অসম্পূর্ণ আ্যপ্লিকেশন তারা বিবেচনা করবে না। অনেক সময় কাগজপত্র দেরীতে পৌঁছুলে তারা দেরীতেই আপনার ফাইল প্রসেস করবে। তবে সেক্ষেত্রে স্কলারশীপ বা অন্যান্য ফান্ডিং পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবেনা অথবা কমে যায়। আর স্কলারশীপ না দিতে পারলে আপনাকে ওরা আ্যডমিশনও দেবেনা তা প্রায় নিশ্চিত করেই বলা যায়।
বাংলাদেশের এজেন্ট আর দালালদের দৌরাত্মে হয়তো ভয় পেতে পারেন। বাংলাদেশ থেকে আন্ডার গ্রাড লেভেল-এ ডাইরেক্ট এপ্লাই করা একটু কষ্টসাধ্য। তবে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড থাকলে কাজটি অনেক সহজ হয়ে যায়। নিচে কিছু লিন্ক দিব যেগুলো আপনাকে অনেক সাহায্য করবে। বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর ওয়েব সাইটে গেলেই দেখবেন শুরুর পেইজ-এ “প্রোস্পেক্টিভ স্টুডেন্ট” অথবা “ফিউচার স্টুডেন্ট” নামে একটি লিন্ক আছে। মোটা মুটি সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইটে এটি একই। এখানে ক্লিক করলে জানতে চাবে আপনি কোন লেভেল-এ আগ্রহী। এখন নিশ্চয়ই জেনে গেছেন কোন লেভেল। সেখানে প্রয়োজনীয় সব তথ্য, যোগ্যতা, আবেদন পত্র পাবেন। ২-ভাবে আবেদন করা যায়ঃ
১. কাগজের মাধ্যমে
২. অনলাইন-এ সরাসরি।
কাগজের মাধ্যমে আবেদন করার ফরম অনলাইন থেকে ডাউনলোড করে প্রিন্ট আউট করতে পারেন। ব্যাঙ্ক ড্রাফট করতে যে কি ঝামেলা হবে সেটা আমি কিছু বলতে চাইনা- হয়তো এটাই হবে আপনার প্রথম বাধা। অনলাইনে এপ্লাই করার সময় মনে রাখবেন- এটা সিরিয়াস ব্যাপার। আবেদন পত্র শেষ হওয়ার পরে প্রয়োজনীয় ফি না দিলে এটা কোন কাজে আসবেনা। এবং আবেদন করার আগে শিওর হয়ে নিবেন সেটা ঠিক সাইট। অনেক ভুয়া সাইট-এ প্রতারিত হতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয় সম্বন্ধে অবশ্যই খবর নিবেন। ওয়েব-এ ঐ বিশ্ববিদ্যালয়-এর নিজের সম্বন্ধে বলা সব কথা বিশ্বাস করবেন না। অনেকে অদ্ভুত কিছু রেংকিং-এ নিজেদের ভাল অবস্থান দাবি করে- তাতে খুব একটা পাত্তা দিবেন না।

🚩ভর্তির আগে বিবেচ্য
১। বিশ্ববিদ্যালয়-টির নাম আপনি আগে কারো কাছ থেকে শুনেছেন কিনা।
২। শুনে থাকলে কি শুনেছেন।
৩। আপনি যে বিষয়ে আগ্রহী সেই বিষয়-এ ঐ বিশ্ববিদ্যালয়-এর আলাদা সাইট আছে- সেখানে যান। তাদের ফেকাল্টিদের প্রোফাইল দেখুন। কি কি রিসার্চ করে তা দেখুন।
৪। আপনার আগ্রহের প্রোগ্রামে কি কি ফেসিলিটি আছে তা দেখুন।
৫। ঐ বিষয়ে তাদের কোন সাম্প্রতিক সাফল্য দাবি করার মত কিছু আছে কিনা দেখুন। থাকলে তা যাচাই করুন।
৬। বিশ্ববিদ্যালয়-টি স্কলারশিপ প্রদানে কতটা উদার খবর নিন।
৭। পোস্ট গ্রাড লেভেল-এ হলে ডিপার্টমেন্ট-এর উপরের দিকে কারো (চেয়ার, ডিন, এসোসিয়েট ডিন অথবা আপনার গবেষণার বিষয়ের সাথে মিলে এমন কোন অধ্যাপক-এর সাথে যোগাযোগ করুন এপ্লাই করার আগে।
৮। বিশ্ববিদ্যালয়-টি যেই শহর-এ অবস্থিত তা সম্পর্কে জানুন। সেখানে কি কি ইন্ডাস্ট্রি আছে- সেসব জায়গায় আপনার বিষয়ের চাহিদা কিরকম। দিন শেষে লোকাল-দের প্রাধান্য সবাই দেয়।
৯। থাকার সুবিধা এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধা সম্পর্কে খবর নিন। এসব খবর সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়-এর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী-দের অফিস-এ পাওয়া যায়। (আই এস ও নামে সাধারণত পরিচিত)র
পোস্ট গ্রাড লেভেল-এ কোথাও কোথাও আপনাকে বলবে আসার পরে একটা পরীক্ষা দিতে- কোন মডিউলে পাস না করলে কিছু আন্ডার গ্রাড কোর্স নিতে বলবে।
🚩কানাডায় স্কলারশিপ🚩
আর্থিকভাবে সচ্ছল শিক্ষার্থীরা কানাডাতে পড়াশোনা করার সুযোগ তো পাচ্ছেই। সেই সাথে যারা অসচ্ছল তাদের জন্যও রয়েছে বিভিন্ন স্কলারশিপের ব্যবস্থা। অর্থনৈতিক কারণে যেন কারও উচ্চশিক্ষা বাধাগ্রস্ত না হয় সে ব্যাপারে কানাডার সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সচেতন। কানাডার প্রধান প্রধান স্কলারশিপগুলো হলোঃ

ভেনিয়ার কানাডা গ্রাজুয়েট স্কলারশিপ
কানাডায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণে ইচ্ছুক এমন শিক্ষার্থীদের কাছে সর্বাধিক জনপ্রিয় বৃত্তি এটি। কানাডার সরকার এই বৃত্তি দিয়ে থাকে। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে বছরে ৫০ হাজার কানাডীয় ডলার দেওয়া হয়। মেয়াদ তিন বছর। সাধারণত পিএইচডি গবেষণার জন্য এই বৃত্তি দেওয়া হয়।

আইডিআরসি ডক্টরাল রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড
এই বৃত্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পায়। প্রতিবছরই এই বৃত্তি প্রদান করা হয়।

ভিজিটিং ফেলোশিপ ইন কানাডিয়ান গভমেন্ট ল্যাবরেটরিজ
এই ফেলোশিপ প্রোগ্রাম উন্নয়নশীল দেশের তরুণ বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের কানাডার গভর্মেন্ট ল্যাবরেটরিতে কাজ করার সুবর্ণ সুযোগ করে দেয়।
এ ছাড়া আরও কিছু জনপ্রিয় স্কলারশিপ প্রোগ্রাম হলো-

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পোস্ট গ্রাজুয়েট স্কলারশিপ প্রোগ্রাম
ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইন্টার্নশিপ (আইআরডিআই) প্রোগ্রাম ও
রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট প্রোগ্রাম।

ক্রেডিট ট্রান্সফারের সুবিধা
বাংলাদেশে থেকে কানাডার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রেডিট ট্রান্সফারের সুবিধা রয়েছে। এ ছাড়া কানাডায় এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রেডিট ট্রান্সফার করা যায়। গ্র্যাজুয়েট ও আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়েই মূলত ক্রেডিট ট্রান্সফার হয়। তবে ক্রেডিট ট্রান্সফার কত শতাংশ পর্যন্ত করা যাবে, তাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শর্তারোপ করে।

কিছু প্রয়োজনীয় সাইট
১। http://www.ouac.on.ca/
এটি অন্টারিওর বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ভর্তির অনলাইন সাইট। এটার মাধ্যমে এপ্লাই করতে পারেন অথবা সরাসরি এপ্লাই করতে পারেন। এটা নির্ভরযোগ্য। খরচ একটু বেশী- কিন্তু টাকা কোথায় ঢাললেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হবেনা এবং অনলাইনে আপনার ভর্তির স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন। এপ্লাই করার পর এই সাইট নিয়মিত চেক করা উচিত। গুরুত্বপূর্ণ: সঠিক ফরম পূরণ করবেন।

২। http://www.aucc.ca/index_e.html
কানাডিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাইট। এখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাবেন। কিন্তু সব সঠিক নয় (কিছুটা এদিক সেদিক)।

৩। http://oraweb.aucc.ca/dcu_e.html
প্রোগ্রাম অনুসারে সার্চ করে, বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর একটি লিস্ট বানাতে পারেন।

৪। http://cic.gc.ca/english/study/index.asp
সরকারী সাইট- এখানে স্টাডি পারমিট এবোং পড়াশুনা বিষয়ক সব ধরণের ফর্ম এবং সরকারী সিদ্ধান্ত জানতে পারবেন।

৫। http://www.studyincanada.com/english/index.asp
আরেকটি উপকারী সাইট।

🚩কানাডায় পড়াশোনার লাভ
কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ডিগ্রি আপনাকে চাকরির বাজারে অধিকতর যোগ্য বলে উপস্থাপন করবে। দেশটির শিক্ষাব্যবস্থা তাত্ত্বিক দক্ষতার পাশাপাশি প্রায়োগিক অভিজ্ঞতাকেও সমানভাবে গুরুত্ব দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও বিভিন্ন শিল্প ও পেশার সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যারিয়ার সেন্টারগুলো শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠনের কাজে নিয়োজিত। এসব নানাবিধ সুবিধা আপনাকে চাকরির জন্য যোগ্য করে তুলবে।

উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিকানা
University of Torento
১৮২৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়টি। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য রয়েছে পৃথিবীর বিখ্যাত লেখকদের বইয়ের সর্ববৃহৎ সংগ্রহশালা The Thomdas Fisher Rare Book লাইব্রেরি। এখানে আর্টস ও সায়েন্সে আন্ডার-গ্র্যাজুয়েটদের জন্য প্রায় দুই হাজার কোর্স, ১৪টি প্রফেশনাল ফ্যাকাল্টিতে ১০০টি কোর্স এবং ৮১টি ডক্টরাল প্রোগ্রাম রয়েছে। এখানে সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর পর্যন্ত শীতকালীন সেশন এবং মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত গ্রীষ্মকালীন সেশন চালু রয়েছে।
Web : www. utoronto.ca

University of Victoria
মনোরম সমুদ্র সৈকত আর পৃথিবী-বিখ্যাত রডোডেনড্রন অরণ্য সমৃদ্ধ ইকোপার্কের পাশে অবস্থিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বের প্রায় ১৮,০০০ ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা করছে। প্রথম টার্ম সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর, দ্বিতীয় টার্ম জানুয়ারি থেকে এপ্রিল এবং তৃতীয় টার্ম মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত।
Web : http://www.uvic.ca

University of Ottawa
রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এ বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৪৮ সালে।
Web : http://www.uottawa.ca

University of Alberta
Web : http://www.ualberta.ca

Concordia University College of Alberta
Web : http://www.concordia.ab.ca

British Columbia Open University
Web : http://www.ola.bc.ca

এছড়াও আছেঃ
http://www.yorku.ca
http://www.ucan.ca
http://www.mcgill.ca
http://www.mcmaster.ca
কানাডায় বিশ্ববিদ্যালয়/কলেজ নির্বাচন এবং আরো কিছু প্রয়োজনীয় পরামর্শ
১। স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে যারা কানাডা আসতে চান তাদের জন্য কিছু টিপসঃ

আগে ঠিক করুন আপনি কি করতে যেতে যাচ্ছেন কানাডা। মাষ্টার্স নাকি ডিপ্লোমা? কয় বছরের কোর্স করতে যেতে চান। এখানে বলে রাখা ভাল যে ডিপ্লোমা কিংবা সার্টিফিকেট প্রোগ্রামের জন্য বাংলাদেশ থেকে ভিসা সাধারণত দেয়া হয় না। মূলত এগুলো লং প্রোগ্রাম নয় বলেই হয়তো এমন। তবে আপনি যদি মাষ্টার্স প্রোগ্রামের জন্য আসেন তাহলে ২ বছরের জন্য আসলেই ভাল। সাধারণত কানাডায় মাষ্টার্স ২ বছর মেয়াদী। আর তাই ভেবে চিন্তে ডিসিশন নিন।

২। এইবার আসি বিশ্ববিদ্যালয় / কলেজ নির্বাচন প্রসঙ্গে। এখানে আপনাকে অবশ্যই প্রভিন্স এবং শহর দুটোকেই প্রাধান্য দিতে হবে। তবে ১ টা কথা মাথায় রাখবেন যে হয়ত আপনি কোন প্রভিন্সেই আপনার মনের মত শতভাগ কিছু পাবেন না। হয়ত দেখা যাবে আপনি যেই সাবজেক্টে পড়তে যেতে চান সেই সাবজেক্টে পড়ার খরচ অনেক বেশি। কিংবা যেই প্রভিন্স এ যেতে চান সেখানে আপনার যাওয়ার ইচ্ছে নেই। তাই বলে হতাশ হবেন না। এসব নিয়ে চিন্তা না করাই ভাল। http://uwaterloo.ca/canu/ এখান থেকে কানাডার যত প্রভিন্স আর শহর আছে সব গুলোর লিস্ট পাবেন সাথে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় / কলেজ এর নাম আছে। একটা একটা করে দেখতে পারবেন।
এই লিংকে আপনি পাবেন কানাডার সেরা বিশ্ববিদ্যালয়/কলেজ এর নাম। http://www.4icu.org/ca/

৩। এইবার আসি বিশ্ববিদ্যালয় / কলেজ নির্বাচন এর পর কি করবেন সেই প্রসঙ্গে। যেই বিশ্ববিদ্যালয় / কলেজ নির্বাচন আপনি করেছেন সেই বিশ্ববিদ্যালয় / কলেজ এর ওয়েব সাইটটি ভাল করে ঘাটুন। তারা কি কি চাচ্ছে আর আপনার কি কি আছে সব মিলিয়ে দেখুন। যদি কোন প্রশ্ন থেকে থাকে তাহলে তাদের সরাসরি ফোন করুন নয়তো মেইল করে জিজ্ঞেস করুন।
এখানে বলে রাখা ভাল কানাডার বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় / কলেজ এখন IELTS , GMAT ২ টাই চাচ্ছে। আর এতে মিনিমাম স্কোর 6.50 চাচ্ছে তারা। কলেজ গুলোতেও এর ব্যতিক্রম নয়। জিম্যাটে ভাল স্কোর থাকা বাধ্যতামূলক। এর এসবে ভাল স্কোর থাকলে আপনি স্কলারশিপের জন্য আবেদন ও করতে পারেন।
তবে আপনার ভাগ্য যদি ভাল হয় তাহলে আপনি IELTS , GMAT না করেও এ থেকে অব্যাহতি পেতে পারেন। আর তাই এই সুবিধা আপনি পাবেন কি না তার জন্য আপনাকে অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয় / কলেজ এর ওয়েব সাইট আদ্যপান্ত ঘাটাঘাটি করতে হবে। এটা নির্ভর করবে আপনি বাংলাদেশের কোন প্রতিষ্ঠান থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন তার উপর।

৪। ধরে নিলাম আপনার বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন শেষ হয়েছে। এইবার আপনি এর পরের ধাপে। আপনি যেই প্রোগ্রাম নির্বাচন করেছেন সেই প্রোগ্রামের অ্যাডভাইজার / ডিনকে মেইল করুন। উনাদের জানান আপনার পড়ার আগ্রহের কথা। আমার নিজের অভিজ্ঞতার আলোক বলতে পারি তারা আপনার একটা মেইল পেয়েই যে উত্তর দিয়ে দিবে এমনটি ভাবা বোকামী। আপনি তাই তাদের একটা মেইল দেয়ার পর ২/৩ দিন অপেক্ষা করে আবার মেইল পাঠান। দেখা যাবে যে আপনি ২০ টা মেইল দিলে তারা আপনাকে ১ / ২ টা মেইলের উত্তর দিবে। তাদের কাছে মেইল করে আপনি উক্ত প্রোগ্রামের আদ্যপান্ত জেনে নিন। তারা আপনাকে তাদের সাধ্যমত চেষ্টা করে যাবেন। এইবারের ধাপ হচ্ছে অ্যাপ্লিকেশন প্রসেসিং। আপনার ইচ্ছে সামার (মে – আগস্ট) সেশন ধরার। আর আপনি যদি ডিসেম্বর / জানুয়ারিতে সব কাগজপত্র জমা দেন তাহলে ধরে নিন আপনি সামার সেশন ধরতে পারবেন না। নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি আমিও সব প্রসেস করে জমা দিতে দিতে ডিসেম্বরের প্রায় পুরো সময়টা চলে গিয়েছিল। যদিও আমি আস্তে আস্তে করে পাঠাচ্ছিলাম তাদের। হাতে সব কাগজপত্র আসতে আমার দেরি হচ্ছিল। এর ফলে আমি সামার সেশন ধরতে পারি নি। তারা আমাকে অফার লেটার পাঠিয়েছিল ৩ মাস পর।যাই হোক, কমপক্ষে ৬/৭ মাস আপনার হাতে রেখে তারপর সব কাগজপত্র পাঠান। মনে রাখবেন বাংলাদেশ থেকে ভিসা পেতে আপনার প্রায় ২ মাস সময় লাগবে। আর তাই অফার লেটার আপনার হাতে আসার ১ সপ্তাহের মধ্যেই ভিসার কাগজপত্র জমা দেয়াটা ভাল।

৫। এইবার আসি ভিসার পাওয়ার জন্য আপনি কোথায় যাবেন। http://www.vfs-canada.com.bd/wheretoapply.aspx
এই ওয়েব সাইটে আপনি যাবতীয় তথ্য পাবেন। প্রয়োজনে তাদের ফোন করে কিংবা অফিসে যেয়ে বিস্তারিত জেনে আসুন। তারা আপনাকে লেটেস্ট তথ্য দিয়ে সহায়তা করবেন। কানাডাতে যদি আপনার কোন আত্মীয় বা ভাই / বোন কেউ থাকে তাহলে তাদেরকে আপনি স্পন্সর হিসেবে দেখাবেন না। এতে করে কানাডার ভিসা পাওয়া আপনার জন্য কঠিন হয়ে যেতে পারে।
যিনি আপনাকে স্পন্সর করবেন উনার চাকরি / ব্যবসা সঙ্গক্রান্ত যাবতীয় তথ্য, জমি জমার হিসেব, ব্যাংক ব্যা্লেন্স, ব্যাংক স্টেটমেন্ট এসগুলো আপনার ভিসা প্রসেস করতে লাগবে। আপনার প্রোগ্রাম যদি ২ বছরের জন্য হয় তাহলে ১ বছরের ব্যাংক হিসেব দেখাতে হবে।
লেটেস্ট তথ্যের জন্য এই ওয়েব সাইট নিয়মিত ভিজিট করুন http://www.cic.gc.ca/ ব্স্টুডেন্ট ভিসায় কানাডা আসার কথা যদি বিবেচনা করে থাকেন তাহলে কিছু কিছু বিষয় আপনাকে লক্ষ রাখতে হবে। যারা স্কলারশীপ নিয়ে আসেন তাদের কথা ভিন্ন তবে যারা নিজের ফান্ডিং নিয়ে আসেন তাদের জন্য একটু সমস্যা বৈ কি। কারণ কানাডা আসার পর প্রথম ৬ মাস আপনি কোন অফ ক্যাম্পাস চাকরি করতে পারবেন না। অন ক্যাম্পাস চাকরি করা যাবে। তবে ক্যাম্পাসে চাকরি পাওয়াটা একটু সময়ের ব্যপার। যেমন অনেক সময় দেখা গেল যে চাকরির নোটিশ দেয়া হয়েছে কিন্তু হঠাৎ করেই দেখা গেল অ্যাপ্লিকেশন জমা নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে।
ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করা যায় এবং তা সহজলভ্য। তবে আপনার যদি মাগনা খাটার মন মানসিকতা থাকে তাহলে তা করতে পারেন। যারা স্কলারশীপ বা ফান্ডিং পেয়ে পড়তে আসেন তারা সাধারণত বাহিরে কোথাও কাজ করার অনুমতি পান না তার ফ্যাকাল্টির কাছ থেকে। অফ ক্যাম্পাস কোন চাকরি করতে হলে তাকে না জানিয়ে করতে হয় এখানে। আর কোনমতে যদি জেনে যান ফ্যাকাল্টি তাহলে ফান্ডিং কমিয়ে দিতে পারেন উনি।
যারা নিজের ফান্ডিং নিয়ে পড়তে আসেন তারা সাধারণত চান যে বিষয়ে পড়তে আসছেন সেই বিষয়ের কিছু কোর্সে যদি ক্রেডিট ট্রান্সফার করা যায় তাহলে খুব ভাল হয়। আপনাদের এখানে জানিয়ে রাখা ভাল যে এই কাজ করে নিজের পায়ে কুড়াল মারার চেয়ে না মারাই ভাল। কারণ আপনি নিশ্চিত থাকুন যে ক্রেডিট ট্রান্সফার করতে চাইলেও আপনাকে কানাডার ইউনিভার্সিটি থেকে দিবে না। তারা আপনাকে উক্ত কোর্সের জন্য অ্যাডভান্স স্ট্যান্ডিং করার অফার করবে। যা আপনি মেনে না নিলেও কিছু করার নেই। করতেই হবে আপনাকে।
কানাডার নিয়ম কানুন অনেক কড়া। এখানে নিয়ম ভাঙ্গলে জেল জরিমানা কিংবা দেশে পাঠিয়ে দেয়া এসবের নজির ও আছে। এমন অনেক ছাত্র আছে যারা ৬ মাস পুরণ হওয়ার আগেই অফ ক্যাম্পাস চাকরি শুরু করে দেয়। সাবধান! এটা করলে আপনার বিশাল সমস্যা হবে। একবার যদি ধরা পরেন তাহলে ক্ষতি আপনারই হবে।
থাকা খাওয়ার খরচ বলতে গেলে অনেক বেশি কানাডায়। এক রুমের বাসা ভাড়া ৫০০ ডলার এর উপরে বলতে পারেন। মাঝে মাঝে আবার ৭৫০ ডলার ও হয়। তবে সেই এক রুমে আপনি যদি শেয়ার করে থাকেন কারো সাথে তাহলে তা কমে আসবে। এছাড়া রয়েছে বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল। খাওয়ার খরচ নির্ভর করে আপনার উপর। আপনি কিভাবে খরচ করবেন তার উপর। হোস্টেলে যদি থাকতে চান তাহলে খরচের ভিন্নতা আছে। সেটা হোস্টেল ভেদে তা হয়।
আপনারা বুঝতেই পারছেন যে অন্তত ৬ মাসের থাকা খাওয়ার খরচ পর্যাপ্ত নিয়ে আসতে হবে আপনাকে। যে ইউনিভার্সিটিতে আপনি যে কোর্সের জন্য পড়তে আসতে চাইছেন সেই বিভাগের ডিন কিংবা প্রোগ্রাম অ্যাডভাইজারের সাথে যোগাযোগ রাখুন। কারণ তিনি আপনাকে জানাবেন ভর্তির সব নিয়ম কানুন। তবে মাথায় রাখবেন সবসময় যে ১ টা মেইল দিলে চলবে না। আপনাকে বার বার মেইল করে রিমাইন্ডার দিতে হবে তাদের। আপনি যদি তাদের ১০ টা মেইল দেন তাহলে তারা ১ টা উত্তর দিতে পারে।
আপনি যদি মে মাসে পড়তে আসেন তাহলে আপনাকে অবশ্যই ৬/৭ মাস আগে থেকেই অ্যাপ্লিকাশন প্রসেস শুরু করতে হবে। কারণ মাঝে মাঝে ইউনিভার্সিটি অফার লেটার পাঠাতে দেরি করে। এর ফলে দেখা যায় যেই সেমিস্টারে আপনি আসতে চেয়েছিলেন সেই সময়ে আপনি আসতে পারছেন না। ফলে ৪ মাস সময় আপনার নষ্ট হয়ে গেল। ইউনিভার্সিটি থেকে অফার লেটার পাওয়ার পরই আপনাকে ভিসা প্রসেস করতে হবে। আর বাংলাদেশ থেকে ভিসা পাওয়া একটু সময় সাপেক্ষ ব্যপার। আর তাই এসব কাজ করার সময় আপনাকে অবশ্যই সঠিক সময় হিসেব করে নিতে হবে।
আপনার পড়াশোনার যাবতীয় খরচ (স্পন্সর) যিনি বহন করবেন উনি কানাডায় যদি অবস্থান করেন তাহলে তাকে স্পন্সর হিসেবে নিন। ইন্টারভিউ দিয়ে ভিসা সংগ্রহ করতে হবে।

কানাডিয়ান হাই কমিশনের ঠিকানা
High Commission of Canada

United Nations Road

Baridhara, Dhaka-1212

Bangladesh

Telephone: +880 2 988 7091 to 988 7097

Fax: +880 2 882 3043 & +880 2 882 6585

Email: dhaka@international.gc.ca

http://www.vfs-canada.com.bd
বিদেশে উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের জন্য ভিজিট করুনঃ http://www.eduhighway.com

———————————————————————
🚩জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা🚩
জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার প্রায় ৩০০ ইনস্টিটিউশন রয়েছে। এর মধ্যে ৮২টি বিশ্ববিদ্যালয়, ১৩৬টি অ্যাপ্লাইড বিশ্ববিদ্যালয় এবং মিউজিক ও ফাইন আর্টবিষয়ক ৪৬টি কলেজ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ২০ লাখ ছাত্রছাত্রীর মধ্যে ১২ শতাংশ বিদেশী। বিদেশীদের মধ্যে আবার ৯ শতাংশই পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষা জার্মানিতে শেষ করেছেন। গত ১৫ বছরে জার্মানিতে বিদেশী ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়েছে।

🚩জার্মানীর বিশ্ববিদ্যালয়
জার্মানিতে মূলত তিন ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় আছে।
প্রথমত, অ্যাপ্লায়েড বিশ্ববিদ্যালয় (Applied Science University)। যেখানে ছাত্রদের মূলত চাকরি অরিয়েন্টেড বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেয়া হয়। গবেষণামূলক কাজ এখানে হয় না বললেই চলে।
দ্বিতীয়ত, টেকনিক্যাল বা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (Technical University), যেখানে প্রকৌশলসহ বিজ্ঞান বিভাগের বিষয়গুলো পড়ানো হয়। সাথে সাথে রয়েছে ব্যাপক গবেষণামূলক প্রকল্প।
তৃতীয় ভাগে আছে নরমাল বিশ্ববিদ্যালয়, যেগুলো মূলত ইউনি (UNI) হিসেবে পরিচিত। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান, কলা, বাণিজ্যসহ সব অনুষদই পড়ানো হয়। আকারে ইউনিগুলো বড় হয়ে থাকে।
অনেক ইংলিশ ভাষাভাষী দেশে ছাত্রবৃত্তি নিয়ে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি নিজ অর্থায়নে (Self Finance) পিএইচডি করার সুযোগ থাকলেও জার্মানিসহ অনেক ইউরোপীয় দেশ এই নিয়মের ব্যতিক্রম। এখানে পিএইচডি পর্যায়ের সব ছাত্রই প্রায় চাকরির সমপরিমাণ বৃত্তি বা বেতন পেয়ে থাকেন। কিন্তু এসব সুযোগ বিজ্ঞান বা প্রকৌশল বিষয়ের ছাত্রদের জন্যই বেশি।
জার্মানির উল্লেখযোগ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হচ্ছে লুদভিক ম্যাক্সিমিলিয়ান ইউনিভার্সিটি অব মিউনিখ, ফ্রি ইউনিভার্সিটি অব বার্লিন, হাইডেলবার্গ ইউনিভার্সিটি, উলম ইউনিভার্সিটি, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাড হনেফ প্রভৃতি।
🚩🚩কখন যাবেন জার্মানী
জার্মানিতে পড়াশোনার জন্য আসতে পারেন কয়েকভাবে। উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে কেউ চাইলে তাকে জার্মান ভাষা কোর্সে ভর্তি হতে হবে। খুব কমসংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্ডারগ্রাজুয়েট পর্যায়ে ইংলিশ ভাষায় কোর্স চালু আছে। প্রথম চেষ্টা করতে পারেন ইংলিশ ভাষায় পড়ানো হয় এমন কোনো subject-এ ভর্তি হতে। তা না পেলে দু’ভাবে ব্যাচেলর কোর্সে ভর্তি হওয়া যেতে পারে। প্রথমত, বাংলাদেশে জার্মান ভাষার কিছু প্রাথমিক জ্ঞান নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য apply করুন। ভর্তি হতে পারলে এখানে এসে মূল কোর্স শুরুর আগে ছয় থেকে এক বছরের মধ্যে জার্মান ভাষার বাকি কোর্স করে ফেলুন। অন্যভাবেও আসা যায়, আপনি সরাসরি বাংলাদেশ থেকে জার্মানির যেকোনো ভাষা শিক্ষা কেন্দ্রে apply করুন। ভর্তি হতে পারলে ভাষা শিক্ষার জন্য ভিসা পাবেন। এখানে এসে ভাষা শিক্ষা সমাপ্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনার পছন্দের subject-এ ভর্তি হতে পারেন। তবে এই প্রক্রিয়া বেশ costly. মাস্টার্সে ভর্তির জন্য প্রথমে ডাড (daad.de)-এর ওয়েবসাইট থেকে কোনো কোনো ভার্সিটিতে আপনার সাবজেক্ট আছে তার তালিকা তৈরি করুন। আপনার যোগ্যতা (যেমন­ রেজাল্ট, TOEFL/IELTS ইত্যাদি) পুরোপুরি খাপ না খেলেও নির্দ্বিধায় apply করুন।
পিএইচডি’র জন্য সরাসরি apply করতে পারেন। ভার্সিটির ওয়েবসাইট থেকে আপনার সাবজেক্ট সংশ্লিষ্ট ফ্যাকাল্টির ইনস্টিটিউটগুলোর তালিকা তৈরি করুন। ইনস্টিটিউট প্রফেসরকে সরাসরি email করুন। জানতে চান পিএইচডি’র সুযোগ আছে কি না। যদিও জার্মান বা ইউরোপীয় মাস্টার্স ডিগ্রি না থাকলে সরাসরি পিএইচডিতে নিতে চান না। প্রফেসর যদি রাজি হন সে ক্ষেত্রে বুঝবেন তার পর্যাপ্ত ফান্ড আছে আপনার জন্য। আরেকটা কথা বলে রাখা ভালো, বাংলাদেশে অনেকের একটা ভুল ধারণা হচ্ছে, উচ্চশিক্ষা করতে হবে স্কলারশিপ নিয়ে, আর তা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য। পিএইচডি’র জন্য স্কলারশিপ জরুরি।

✏✏✏উচ্চশিক্ষার তথ্য
জার্মানির উচ্চশিক্ষা সম্পর্কে তথ্য পাবেন কিভাবে? প্রথম কথা, আপনাকে ইন্টারনেটে লেগে থাকতে হবে। নিয়মিত ইন্টারনেটে বসা, সার্চ করা ও ব্যাপক যোগাযোগ অত্যাবশ্যক। ইন্টারনেটে আপনার পরিচিতি সার্কেল বাড়াতে হবে। জার্মানি ও এর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি তথ্য, ছাত্রবৃত্তিসহ অন্যান্য তথ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উৎসগুলোর মধ্যে জার্মান একাডেমিক একচেঞ্জ সার্ভিস DAAD,( https://www.daad.de/en/ ) গুরুত্বপূর্ণ। এখানে বিভিন্ন সাবজেক্টের তালিকা ও স্কলারশিপের তথ্য পাবেন। স্কলারশিপের জন্য জার্মান সায়েন্স ফাউন্ডেশন DFG,( http://dfg.de/en ) জার্মান শিক্ষা ও গবেষণা মন্ত্রণালয় BMBF( http://www.bmbf.de/ ) উল্লেখযোগ্য। এসব সংস্থার ওয়েবসাইটের সংশ্লিষ্ট ইংলিশ সংস্করণে আপনাকে ব্যাপক সার্চ করতে হবে।

🚩বৃত্তির সুযোগ
জার্মান বার্তা সংস্থা ডয়েচে ভেলের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, প্রতিবছর আড়াই লাখ বিদেশি শিক্ষার্থী এবং ২৩ হাজার পিএইচডি গবেষক জার্মানির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হন৷ এই বিশাল সংখ্যার শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৫ শতাংশ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বৃত্তি পেয়ে থাকেন৷ ডিএএডি বা জার্মান ছাত্রবিনিময় কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবছর অনেক শিক্ষার্থী জার্মানি পড়াশোনার সুযোগ পান৷
বর্তমানে ৪৫ হাজার বিদেশি শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি৷ এই প্রতিষ্ঠানের বৃত্তিভোগীদের ৭০ শতাংশই আসেন বিদেশ থেকে৷ স্নাতক কোর্সের শিক্ষার্থীরা মাসে ৬৫০ ইউরো, স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীরা ৭৫০ ইউরো আর পিএইচডি গবেষকেরা এক হাজার ইউরো পেয়ে থাকেন বৃত্তি হিসেবে৷ তবে স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের বৃত্তির সুযোগ সীমিত। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর বৃত্তি নিয়ে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে পড়াশোনার জন্য জার্মানিতে যান শিক্ষার্থীরা।
‘স্টিপেন্ডিয়াটেন ডেয়ার স্টুডিয়েনস্টিফটুং ডয়েচেস ফল্ক’, ‘ডয়েচলান্ড স্টিপেন্ডিয়ুম’ নামের বৃত্তিসহ বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের বৃত্তি পাওয়ার সুযোগও রয়েছে। ডিএএডি কনরাড আডেনাওয়ার ফাউন্ডেশন, হাইনরিশ ব্যোল ফাউন্ডেশন, ফ্রিডরিশ এবার্ট ফাউন্ডেশন, বোরিংগার ইংগেলহাইম ফাউন্ডেশন প্রভৃতি ফাউন্ডেশন থেকে বৃত্তি পেয়ে থাকেন শিক্ষার্থীরা।

✏✏✏জার্মানিতে পড়ার বিষয়
জার্মানিতে বর্তমানে ৪৫০টির বেশি উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি বিষয়ে পড়ার সুযোগ আছে। জার্মানির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গভর্ন্যান্স, পলিটিক্যাল সায়েন্স, অ্যাডভান্সড ম্যাটারিয়ালস, অ্যাডভান্সড অনকোলজি, কমিউনিকেশন টেকনোলজি, এনার্জি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ফিন্যান্স, মলিকিউলার সায়েন্স, বিভিন্ন ভাষা বিষয়ে পড়াশোনা, পদার্থবিজ্ঞান, গণিত, কম্পিউটার সায়েন্সসহ প্রকৌশল ও জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে পড়ার সুযোগ আছে।

✏✏✏আবেদন-প্রক্রিয়া
অনলাইনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে জার্মানির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনের সব প্রক্রিয়া ও বৃত্তি সর্ম্পকে জানা যায়। বাংলাদেশি স্টুডেন্ট অ্যান্ড অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ইন জার্মানির ওয়েবসাইট (bsaagweb.de) থেকেও শিক্ষার্থীরা জার্মানিতে বর্তমানে পড়ছেন এমন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সরাসরি পরামর্শ নিতে পারেন। জার্মানির শিক্ষাব্যবস্থা, দৈনন্দিন জীবনযাপন, পড়ালেখা-চাকরির সুবিধাসহ যাবতীয় তথ্য পাওয়া যাচ্ছে এ সাইট থেকে।

🚩প্রয়োজনীয় ওয়েবসাইট
স্টাডি ইন জার্মানি: study-in.de,
ডিএএডি: daad.de/en,
ঢাকার জার্মান দূতাবাস: dhaka.diplo.de,
গ্যেটে ইনস্টিটিউট, ঢাকা: goethe.de/ins/bd/en/dha.html

✏✏✏বিষয় নির্ধারণ
উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বিষয় নির্ধারণের ব্যাপারে আপনাকে বুদ্ধিমান হতে হবে। সব বিষয়ে (Subject) ফান্ড পর্যাপ্ত নয়। বাংলাদেশ থেকে একজন ছাত্র যা ব্যবহারিক জ্ঞান নিয়ে আসে, তা জার্মানির মতো হাইটেক দেশের জন্য পর্যাপ্ত নয়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ছাত্রদের নতুন জিনিস জানা এবং শেখার স্পৃহা থাকতে হবে। ভালো বিষয়, ভালো বিশ্ববিদ্যালয় এবং ছাত্রবৃত্তির জন্য যথেষ্ট ধৈর্য নিয়ে ইন্টানেটে সার্চ করা এবং যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে হবে। বিগত বছরগুলোতে যেসব ছাত্র উচ্চশিক্ষার জন্য জার্মানিতে পাড়ি জমিয়েছে তার প্রায় ৯৫ শতাংশ ছাত্রই সফলভাবে উচ্চশিক্ষা সমাপ্ত করে চাকরি, পিএইচডি, পোস্ট ডক্টরেট গবেষণা বা বিভিন্ন গবেষণা কাজে নিয়োজিত আছেন। মজার ব্যাপার হলো সংখ্যায় কম হলেও বাংলাদেশী ছাত্ররা পার্শ্ববর্তী ভারত বা পাকিস্তানের ছাত্রদের তুলনায় বেশিগুণ সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছে।
বর্তমানে প্রায় অর্ধশতাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক বিষয়ে আন্তর্জাতিক মাস্টার্স ও পিএইচডি কোর্স চালু আছে। ধীরে ধীরে সব বিশ্ববিদ্যালয় একাধিক বিষয়ে ইংরেজি মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মাস্টার্স কোর্স চালুর পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। ছাত্রদের দৈনন্দিন কাজের প্রয়োজনে ব্যবহারিক জার্মান ভাষা শিক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক কোর্সগুলোতে জার্মান ভাষার কোর্স বিনামূল্যে শেখানো হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে খণ্ডকালীন ছাত্র চাকরি বা পিএইচডি গবেষণার জন্য জার্মান ভাষা তেমন একটা জরুরি নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে পার্টটাইম কাজের জন্য জার্মান ভাষা জানা জরুরি।

🚩খন্ডকালীন কাজ
একজন ছাত্র পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতি মাসে ৮৬ ঘণ্টা কাজের অনুমতি পায়। ৫০-৬০ ঘণ্টা পার্টটাইম কাজ পেলেই মোটামুটি খরচ চালানো যায়। এ ছাড়া ছয় মাস অর্ধদিবস বা তিন মাস পূর্ণদিবস কাজের অনুমতি ছাত্র ভিসাতে দেয়া হয়। কম্পিউটার সংশ্লিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতা (যেমন­ কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, ওয়েবপেজ ডিজাইন বা অন্যান্য) থাকলে খণ্ডকালীন ছাত্র চাকরি বা পড়াশোনা শেষ করার পর চাকরি পেতে যথেষ্ট সহায়ক হয়।

🚩চাকরি
চাকরির ক্ষেত্রে জার্মান ভাষা জানা থাকলে বাড়তি সুবিধা এবং চাকরি পাওয়া সহজ হয়। জার্মানিতে অবস্থিত বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানিগুলোতে জার্মান ভাষা জানা জরুরি নয়। এ ব্যাপারে কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান ইনফিনিয়ান টেকনোলজি (Infineon Technology)-এর সহযোগী কোম্পানিতে সস্ত্রীক চাকরিরত ইঞ্জিনিয়ার মোঃ সাইফুল্লাহ বলেন, ‘জার্মানি ভাষা জানা থাকলে এখানে চাকরির সম্ভাবনা ৯০ শতাংশের বেশি। বাংলাদেশের ছাত্ররা জার্মানি এবং এর শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য জানে না। এখানে টিউশন ফি ছাড়া পড়াশোনা করা যায়, উপরন্তু স্কলারশিপের সুযোগও প্রচুর। আমার স্ত্রী জার্মানিতে এসে সিমেন্স কোম্পানির স্কলারশিপ অর্জন করে। এখানের সুযোগগুলো সম্পর্কে বাংলাদেশী ছাত্রদের আরো বেশি জানা দরকার এবং মিডিয়াতে আসা দরকার।
জার্মানিসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা হলো ইইউ ভিসা (EU Visa)। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত যেকোনো একটি দেশের ভিসা থাকলে আপনি সেই ভিসা ব্যবহার করে যেতে পারবেন অন্যান্য দেশেও। এ ক্ষেত্রে চাকরি, গবেষণা বা ভ্রমণের জন্য ইইউভুক্ত দেশগুলোকে এক দেশ হিসেবে ভাবতে পারেন।

🚩🚩জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার জন্যে এপ্লাই করার ধাপসমূহ
১..কোর্স সার্চ
পড়ার জন্য বিভিন্ন কোর্স খোঁজার জন্যে সরাসরি http://www.daad.de/deutschland/studienangebote/international-programmes/07535.en.html লিঙ্কে গিয়ে লেভেল, ফিল্ড অফ স্টাডি, এন্ড এ সাবজেক্ট এই প্যারামিটারগুলো ঠিক করে দিলে নিচে সবুজ বক্সে এভেইলেবল প্রোগ্রামের সংখ্যা দেয়া থাকবে। হলুদ বক্সে শৌ প্রোগ্রামস-এ ক্লিক করলে সব সাব্জেক্টের নাম লিঙ্ক সহ দেখাবে।

২. কোর্স বাছাইঃ
জার্মানিতেই শুধু না, বাইরের যে কোনো দেশে পড়তে যাওয়ার আগে অবশ্যই দেখে নেয়া লাগে যেসব বিষয় সেগুলো হলো-
a) সাবজেক্টঃ

উপরের লিঙ্ক থেকে প্রোগ্রাম সার্চ দিলে অনেক প্রোগ্রামই হয়ত আসবে, কিন্তু সব প্রোগ্রামইতো আর আমাদের পড়ার জন্যে উপযুক্ত না।
b) ভাষাঃ

অনেক সাবজেক্ট আছে জার্মান ভাষায়, অনেকেরই হয়তো জার্মান ভাষার কোর্স করা থাকতে পারে, তবে আমার পরামর্শ জার্মান ভাষার সাবজেক্টগুলো আমাদের জন্য কঠিনই হবে। কারণ টিচারের লেকচার বুঝতে হবে ভিনদেশি ভাষায়, আবার পরীক্ষার খাতায় বুঝাতেও হবে সেই ভাষায়। উপরের লিঙ্কে সার্চ করে যে কোনো প্রোগ্রাম পেজ-এ ঢুকলেই Course Language দেয়া থাকে। যে লিঙ্কটা দেওয়া হল তাতে সব ইংরেজী ভাষার কোর্স। কারো যদি ইচ্ছা হয় জার্মান ভাষায় পড়ার তাহলে http://www.daad.de/deutschland/studienangebote/alle-studiengaenge/06539.en.html এই লিঙ্কে গেলে জার্মান, ইংরেজী সব মাধ্যমের সাবজেক্ট একসাথে পাওয়া যাবে।
c) Admission semester, etc.:

এই ব্যাপারটা কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেয়া থাকে Winter Semester only অথবা Summer semester only বা Both semester দেয়া থাকে। এটা অবশ্যই খেয়াল করতে হবে। Beginning of program, Program duration এগুলোও লিঙ্কে দেয়া থাকে। আর Application deadline-তো অবশ্যই দেখা উচিত। Description of Content – এই জিনিসটা হাল্কা দেখে নেয়া ভালো, ভিসার ক্ষেত্রে ইন্টারভিউতে এটা অবশ্যই কাজে লাগবে (যদি বাঙ্গালী ইন্টারভিউয়ার থাকে তাহলেতো এটা জানতেই হবে।) সাথে সাথে এর ঠিক নিচে Course Description (Read More)-এইটা পড়তে হবে, অন্ততপক্ষে কত ক্রেডিটের কোর্স তা জানার জন্যে।
d) Cost, Fees, and Funding:

এইটা হলো পেজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দেখার বিষয়। টিউশন ফি, এনরোলমেন্ট ফি অনেক ভার্সিটিতে লাগেনা, কোথাও আবার লাগে প্রতি সেমিস্টার ৫০০-৭০০ ইউরোর মত। তবে কিছু সাবজেক্ট, যেমন- এরোস্পেস, লাগে ২ বছরে ২০০০০ ইউরো+ ভ্যাট। Cost of Living ৮০০ইউরো দেয়া থাকলেও জার্মানিতে পড়ছেন এরকম সিনিয়ররা বলেছেন ৫০০ ইউরো অনেক যথেষ্ট। মিউনিখের মত বড় শহরগুলোতে খরচ একটু বেশি, তবে ৫০০র বেশি না। খরচের একটা ব্যবচ্ছেদ জানলাম মিউনিখের এক সিনিয়রের কাছ থেকে- খাওয়া ৬০+ হেলথ ইন্সুরেন্স ৮০+বাসা ভাড়া ৩০০+ বিবিধ ৩০। বেশি বেশি করে ধরেই বললাম এটা। অনেকের মনেই হয়তো প্রশ্ন জাগবে ট্রান্সপোর্টেশনের খরচ কই? এখানেই হলো টিউশন ফি-র মজা। টিউশন ফি অনেক ভার্সিটিতে নেয়া হয় স্টুডেন্ট ইউনিয়নের জন্যে, এরা আবার বাস-ট্রামের অথরিটির সাথে চুক্তি করে রাখে। স্টুডেন্টদের একটা কার্ড দেয়া হয়, এটা সাথে নিয়ে চললে ট্রান্সপোর্টেশন খরচ নাই। আবার ক্যান্টিনে ডিস্কাউন্টে খাওয়াও যাবে এই কার্ড দেখিয়ে। কিছু ভার্সিটি আবার কোনো টিউশন ফি না নিয়েই এই সুবিধাগুলো দেয়।

এখানে আবার ফান্ডিং নিয়েও তথ্য দেয়া থাকে, যেমন ইন্টার্নশীপ অপরচুনিটি, স্কলারশিপ ইত্যাদি।
e) Required Entry Qualification Profile:

Ielts, Toefl লাগবে কিনা, কত লাগবে এইসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় এ সেকশনে। মজার ব্যাপার হলো, আমরা চার বছর ইংলিশ মিডিয়ামেই পড়ি, এই জন্যে অনেক ভার্সিটিই Ielts, Toefl চায়না। তবে হাইর‍্যাঙ্কড ভার্সিটিগুলো চাইতে পারে, ইভেন Gre-ইও। আর সেইফ সাইডে থাকার জন্যে IELTS, TOEFL, GRE করা থাকলে গ্রহণযোগ্যতাও বাড়ে, ভিসাতেও সুবিধা হয়। তবে এগুলা করার ভয়ে এপ্লাই করা থেকে বিরত থাকাটাও বোকামি।

অনেক ভার্সিটি আবার হয়তো ইন্টারভিউও নিতে পারে।
f) শহর, ভার্সিটিঃ

Relevant additional information অংশটা দেখাটা জরুরি এই কারণে যে, ভার্সিটির অবস্থান (র‍্যাঙ্কিং), শহরের অবস্থা, থাকার ব্যবস্থা কেমন – এই ব্যাপারগুলা ক্লিয়ার করা যাবে। বিশেষ করে শহর- অনেক শহরের ক্ষেত্রে লেখা থাকে “Only a little chance of parttime jobs”. সুতরাং সাবধাণে স্টেপ নিলে থাকা-খাওয়া-বাঁচা-মরা নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা থাকবেনা।
৩. এপ্লাই করাঃ
এই সবগুলো বিষয় মনমতো হলে পেজের উপরের দিকে ডানপাশে Contact বা Submit Application to থেকে এড্ড্রেস নিয়ে এপ্লাই করা শুরু করতে হবে। বেশিরভাগ ভার্সিটির অনলাইনে এপ্লাই করার সু্যোগ আছে। তবে যাই হোক, হার্ডকপি অবশ্যই পাঠাতে হবে (ব্যাতিক্রমও হতে পারে)। আরেকটা ব্যাপার, ২০দিনের বেশি সময় হাতে থাকলে হার্ডকপি সরকারি ডাকেই পাঠানো ভালো, মাত্র ২০০টাকার মত খরচ হয়, সময় লাগে ৭-১৫দিন। আর সার্টিফাইড ফটোকপি নিয়েও একটা কনফিউশন হয় কমনলি, কেউ বলে ট্রু কপি দিতে হবে আবার কেউ বলে নোটারাইজড কপিই এনাফ। এটা একটু খোঁজখবর নিয়ে দেয়া ভালো। জার্মান এম্বাসিতে গিয়ে ফ্রি এটেস্টেড করানো যায়, তবে হাতে ৭ দিন সময় নিয়ে সেটা করাটা ভালো। এপ্লাই করা শেষ হলে এরপর হয়তো সর্বোচ্চ ২ মাস পর্যন্তও ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে। সময় কাটানোর জন্যে যারা জার্মান ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্সে ভর্তি হওয়া যায় কিংবা, Rosetta Stone – German Language Course সফটওয়ারটা ডাউনলোড করে ঘরে বসে জার্মান ভাষা প্র্যাকটিস করা যায়।

৪. ভিসা ও অন্যান্যঃ
ভার্সিটি থেকে অফার লেটার মেইলে আসার সাথে সাথে http://www.dhaka.diplo.de/Vertretung/dhaka/en/02/Einreise__Hauptbereich.html এখান থেকে টেলিফোন নাম্বার নিয়ে ভিসা এপয়েন্টমেন্ট নিয়ে ফেলতে হবে, যারা ঢাকায় থাকে তারা ফোন না করে সরাসরি এম্বাসিতে চলে যাওয়া উচিত। অবশ্যই ৬-৭ সপ্তাহ সময় হাতে রেখে ভিসার জন্যে এপ্লাই করতে হবে।
সিমুল্ট্যনাসলি আরো একটা জিনিস করে রাখতে হবে। সেটা হলো ব্লকড একাউন্ট। ব্লকড একাউন্ট নিয়া সবার মধ্যে একটা ভয় কাজ করে- অন্যদের কাছ থেকে শোনার পরে বলছি, এখান থেকে প্রয়োজন না হলে ১টাকাও তোলা লাগেনা, যদিনা কেউ জার্মানিতে গিয়ে কোনো কাজকাম না করে মাসে মাসে এখান থেকে টাকা তুলে খাওয়ার প্লান করে। এইটা জাস্ট একটা ভিসা ফরমালিটি। কমার্শিয়াল ব্যাঙ্ক অফ সিলন পিএলসি আর ইবিএল ব্যাঙ্কের এই ব্যাপারে বেশ নামডাক আছে।কমার্শিয়াল ব্যাঙ্ক থেকে আমাকে বলছে ভিসা হওয়ার পরপরই নাকি এটা তুলে ফেলা যায়। যাচাই করে দেখা হয়নাই এখনো আমার।তাই আমার কথার উপর ভরসা না করাই বুদ্বিমানের কাজ হবে। এই ব্যাপারটা নিয়ে ভালোভাবে খোঁজখবর নিয়ে রাখা ভালো, তবে বেশি ভয় পাওয়ারও কোনো মানে নাই।
টাকাপয়সা রেডি থাকলে ব্লকড সার্টিফিকেট দিতে ১দিন মাত্র সময় লাগে ব্যাঙ্কের। এই ব্লকড সার্টিফিকেট আর উপরের পিডিএফ ফাইলের কথামতো সব সার্টিফিকেট (ইনক্লুডিং Registration Card, Admit Card of S.S.C & H.S.C), ফটোকপি (২ কপি লেখা থাকলেও আসলে ৩ কপি নিতে হবে) এবং ফরম ২ কপি ফিলাপ করে প্রিন্ট করে নিয়ে যেতে হবে ভিসা ইন্টারভিউয়ের দিন এম্বাসিতে। অনেকসময় নাকি এম্বাসি এগুলো আগেই জমা নেয়।
আরো ডিটেইলস জানতে নিচের সাইটগুলো বেশ হেল্পফুল-
http://www.dw-world.de/dw/0,,13795,00.html
http://www.orkut.com/CommTopics?cmm=3946929
http://www.facebook.com/groups/BSAAG/
🚩🚩জার্মানিতে পড়তে আসার আগে যা জানা প্রয়োজন
প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থী জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা নিতে আসেন৷ জার্মানিতে কম খরচে উচ্চমানের শিক্ষা পাওয়া যায়৷ তবে জার্মানির উদ্দেশ্যে বিমানে চড়ার আগে শিক্ষার্থীদের কিছু বিষয় জেনে রাখা প্রয়োজন৷ পড়ে নিন সেগুলো৷

টিউশন ফি নেই, তবে
জার্মানির ১৬টি রাজ্যের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোনো টিউশন ফি নেই৷ এটা সত্য৷ তবে এক্ষেত্রে শর্ত প্রযোজ্য৷ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় সুনির্দিষ্ট ডিগ্রি প্রোগ্রামে আবেদন করলে বিনা খরচায় পড়ার সুযোগ আছে৷ সেক্ষেত্রে স্থানীয়রা যেসব শর্ত মনে লেখাপড়া করে, বিদেশিদেরও সেগুলো মানতে হবে৷ ‘স্টাডি এবরোড’ প্রোগ্রাম এবং প্রাইভেট ইন্সটিটিউটে পড়াশোনা ফ্রি নয়৷

বেশি কাজের মানসিকতায় লাগাম টানুন
একজন বিদেশি শিক্ষার্থী হিসেবে পড়ালেখার ফাঁকে আপনি কতটা কাজ করতে পারবেন, সেটা নির্ধারণ করে দেয়া থাকে৷ ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ-র কোনো দেশের পাসপোর্টধারী নয়, এমন শিক্ষার্থীরা বছরে ১২০ দিন পূর্ণদিবস কিংবা ২৪০ দিন অর্ধদিবস কাজ করতে পারেন৷ এছাড়া সেমিস্টার চলাকালে সপ্তাহে ২০ ঘণ্টার বেশি কাজ করা যাবে না৷ ভালো কথা, গোপনে বাড়তি কাজের চেষ্টা করবেন না৷ ধরা পড়লে বড় সমস্যা হতে পারে৷

✏✏✏যথাযথভাবে অনুদানের আবেদন করুন
আশার কথা হচ্ছে, বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন অনুদান এবং ফেলোশিপের ব্যবস্থা রয়েছে জার্মানিতে৷ আপনার বিষয় যাই হোক না কেন, আপনি যদি তাতে মেধাবী হন এবং উচ্চশিক্ষার জন্য পরিশ্রমে আগ্রহী হন, তাহলে অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারেন৷ ‘জার্মান অ্যাকাডেমিক এক্সচেঞ্জ সার্ভিস’ বা ডিএএডি এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করে থাকে৷ তবে অনুদানের আবেদন প্রফেশনালদের মতো হওয়া চাই৷

🚩ভিসা জটিলতা
উন্নয়নশীল দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে জার্মানিতে পড়তে আসার ভিসা পাওয়া একটু জটিল৷ তাঁদের বেশকিছুদিন সময় হাতে রেখে ভিসার আবেদন করতে হয়৷ আর জার্মানিতে আসার পর মাঝেমাঝেই যেতে হয় ‘আউসলান্ডারবেহ্যোর্ডে’ বা বিদেশিদের জন্য নির্ধারিত সরকারি কার্যালয়ে৷

🚩সব কিছুর কপি রাখুন
জার্মানিতে আসার পর আপনি নিয়মিতই বিভিন্ন চিঠি পাবেন৷ এমনকি কবে কবে বাড়ির সামনে কোন কোন ধরনের ময়লা রাখা যাবে, সেটাও জানবেন চিঠির মাধ্যমে৷ বুদ্ধিমানের কাজ হবে সব চিঠি জমা করে রাখা৷ তবে প্রয়োজন অনুযায়ী উত্তর দিতে ভুল করবেন না যেন৷ জার্মানিতে বসবাসের এক বিরক্তিকর দিক হচ্ছে দেশটির জটিল আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া৷ সেই প্রক্রিয়ার অংশ এ সব চিঠি৷

🚩জার্মান বলতে পারলে অনেক সুবিধা
এটাও সত্য, জার্মানির বড় শহরগুলোতে জার্মান না জেনেও বসবাস করা য়ায়৷ এছাড়া বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন ইংরেজিতে পড়ালেখার সুযোগ রয়েছে৷ তবে কিছুটা জার্মান ভাষা শিখতে পারলে দেশটিতে জীবনযাপন অনেক সহজ হয়ে যাবে৷ আর আপনি যদি পড়ালেখা শেষে জার্মানিতে চাকুরি করতে চান, তাহলে ভাষা জানাটা অনেক জরুরী৷ এক্ষেত্রে ডয়চে ভেলের জার্মান ভাষা শিক্ষা কোর্স আপনাকে সহায়তা করতে পারে৷

🚩নিজেকে নিজেরই সহায়তা করতে হবে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রাইভেট কলেজগুলো ব্যয়বহুল হলেও শিক্ষার্থীদের অনেক খেয়াল রাখেন৷ শিক্ষার্থী কোনো ক্লাস ক্রমাগত মিস করে গেলে তাকে তা জানানো হয়৷ ক্যাম্পাসে কখন, কোন প্রোগ্রাম হচ্ছে তাও সুনির্দিষ্টবাবে শিক্ষার্থীদের জানাতে উদ্যোগ আছে৷ জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম৷ কখন, কোথায় কেন ক্লাস হচ্ছে কিংবা কোন প্রোগ্রাম চলছে তার খোঁজ রাখার দায়িত্ব আপনার৷

জার্মানদের সঙ্গে থাকুন
জার্মানির বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিদেশি শিক্ষার্থীদের আবাসনের ব্যবস্থা করে থাকে৷ তবে তাদের সেবা নেয়া বাধ্যতামূলক নয়৷ অনেক সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বেছে দেয়া অ্যাপার্টমেন্ট শিক্ষার্থীর পছন্দ হয় না৷ আশার কথা হচ্ছে, অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে যেগুলো থেকে থাকার জায়গা বেছে নেয়া যায়৷ কাজটা কঠিন৷ তবে চেষ্টা করবেন এমন জায়গায় থাকার যেখানে জার্মান শিক্ষার্থীরা থাকেন৷ তখন ভাষা শেখাটা আপনার জন্য সহজ হবে৷

আপনি একা নন
শিক্ষার্থী হিসেবে জার্মানিতে বসবাস শুরুর দিকে অনেক কঠিন মনে হতে পারে৷ মনে হতে পারে আপনি একাই বুঝি এত পরিশ্রম করছেন৷ তবে বাস্তবতা হচ্ছে, আপনার আগেও অনেক আপনার মতোই পরিশ্রম করে জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন৷ তাই নিজের সমস্যা নিজেই সমাধান করতে শিখুন৷ এ জন্য বিভিন্ন অনলাইন ফোরামের সহায়তা নিতে পারেন৷

থাকবেন, নাকি চলে যাবেন?
শুরুর দিকে জার্মানিতে বসবাস কঠিন মনে হলেও দেশটি ক্রমশ আপনার ভালো লাগতে শুরু করতে পারে৷ অনেকের ক্ষেত্রে এমন হয়েছে৷ ডিগ্রি, চাকুরি আর নিরাপদ জীবন – এসব বিবেচনা করে আপনি হয়ত একসময় জার্মানিতে থেকে যেতে চাইবেন৷ কিংবা থাকবেন নাকি চলে যাবেন সেই দ্বিধায় পড়ে যাবেন৷ সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব আপনার, আমরা শুধু আপনাকে আগেভাবে জানিয়ে রাখলাম৷

✏✏✏ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া
জার্মানীতে যেতে আগ্রহী ব্যক্তিকে তার নিজ দেশের জার্মান অ্যাম্বেসীতে ভিসার আবেদন করতে হয়। বাংলাদেশের নাগরিকগণ ঢাকাস্থ জার্মান অ্যাম্বেসীতে ভিসার জন্য আবেদন করবেন। ভিসার আবেদনপত্র দূতাবাস থেকে সংগ্রহ করতে হবে।
দূতাবাস কর্তৃপক্ষ ভিসার ক্যাটাগরি অনুযায়ী তা যাচাই বাছাই করার জন্য সে দেশের নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবেন। যেমন, আপনি যদি “Residence Permit” এর জন্য আবেদন করেন তাহলে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ আপনার আবেদন ফরম সেদেশের ইমিগ্রেশন দপ্তরে (the Auslaenderbehoerde) পাঠিয়ে দেবেন। ইমিগ্রেশন দপ্তর, স্থানীয় কর্মসংস্থান দপ্তরের (the Arbeitsamt)সুপারিশ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহন করবেন।
যদি কর্তৃপক্ষ আবেদনপত্রটি অনুমোদন করেন তবে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ প্রার্থীকে ভিসা প্রদান করবেন।

ভিসার ক্যাটাগরী
Residence Permit/Employment Visa (স্থায়ী বসবাস/কর্মসংস্থান ভিসা)
Study Visa (পড়াশোনার জন্য ভিসা)
Tourist Visa (স্বল্পকালীন ভ্রমন ভিসা)
Business Trip Visa (ব্যবসায়িক ভ্রমন ভিসা)
স্টাডি ভিসার জন্য যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন
২টি যথাযথভাবে পূরণকৃত আবেদনপত্র এবং প্রয়োজনীয় ডিক্লারেশন লেটারের অনুলিপি।
২ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি
মূল পাসপোর্ট এবং এর ফটোকপি
যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়তে যাবেন সেখান থেকে ইস্যুকৃত ‘Letter of Acceptance’
আর্থিক স্বচ্ছলতার প্রমানপত্র ও এর ফটোকপি (যা প্রমান করবে জার্মানীতে অবস্থানকালীন সময়ে আপনি আর্থিকভাবে স্বচ্ছল অবস্থানে থাকবেন।

—————————————————————————
🚩মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষা🚩
মালয়েশিয়া বর্তমানে শুধুমাত্র এশিয়ার মধ্যেই নয়, বরং সারাবিশ্বে একটি উন্নত দেশ হিসাবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি সর্বক্ষেত্রে মালয়েশিয়া পৃথিবীর বুকে একটি মডেল হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে। আর তাই বিশ্ববাসীর নজর এখন এশিয়ার এই দেশটির দিকে। শিক্ষা ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে করেছে অভূতপূর্ব উন্নতি। সারা মালয়েশিয়া জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য উন্নতমানের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ছাত্রছাত্রীরা বিশেষত দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের ছাত্রছাত্রীরা উচ্চ শিক্ষা গ্রহনের জন্য মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমাচ্ছে। বাংলাদেশ থেকেও প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছাত্রছাত্রী মালয়েশিয়ায় পড়তে যাচ্ছে।

🚩উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থা
মালয়েশিয়ায় উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থা ৪টি পর্যায়ে বিন্যস্ত। এগুলো হচ্ছে-
১। ডিপ্লোমা কোর্স- ২ থেকে ৩ বৎসর মেয়াদী
২। আন্ডার গ্র্যাজুয়েট কোর্স- ৩ থেকে ৫ বৎসর মেয়াদী
৩। পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কোর্স- ১ থেকে ২ বৎসর মেয়াদী
৪। ডক্টরাল (PhD) কোর্স- ৩-৫ বৎসর মেয়াদী

এখানকার উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থা সেমিষ্টার ভিত্তিক।প্রতি শিক্ষা বর্ষ ৩টি সেমিষ্টারে বিভক্ত। যথা:
১। ১ম সেমিষ্টার : জানুয়ারী-এপ্রিল
২। ২য় সেমিষ্টার: মে-আগষ্ট
৩। ৩য় সেমিষ্টার: সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর
✏✏✏ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা
১। আন্ডার গ্র্যাজুয়েট কোর্সের জন্য ন্যূনতম ১২ বৎসরের পূর্বতন শিক্ষা অর্থাৎ উচ্চ মাধ্যমিক সমমানের শিক্ষা
২। পোস্ট গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের জন্য ন্যূনতম ১৬ বৎসরের পূর্বতন শিক্ষা অর্থাৎ ব্যাচেলর ডিগ্রীধারী
৩। ডিপ্লোমা কোর্সের জন্য নূনতম উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট
৪। ডক্টরাল (PhD) কোর্সের জন্য পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রী এবং ব্যাপক গবেষণালব্ধ অভিজ্ঞতা।
👇👇👇ভাষাগত যোগ্যতা
মালয়েশিয়ায় আন্ডার গ্র্যাজুয়েট ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েট পড়াশুনার জন্য বিদেশী শিক্ষার্থীদের ইংরেজী ভাষার নিম্নোক্ত যেকোন একটি যোগ্যতা থাকতে হবে।
১। TOEFL CBT SCORE 173 to 250
২। TOEFL IBT SCORE 61 to 100
৩। IELTS (academic) 6.0 to 7.0
✏✏✏যেসব বিষয় পড়ানো হয়
মালয়েশিয়ার উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অসংখ্য বিষয়ে পাঠদান করা হয়। নিচে মালয়েশিয়ায় উচ্চ শিক্ষার জন্য আদর্শ বিষয়গুলো উল্লেখ করা হলো:
১। বিজনেস ম্যানেজমেন্ট
২। ইনফরমেশন সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি
৩। মেডিসিন
৪। ভেটেরেনারী মেডিসিন
৫। মর্ডার্ন ল্যাঙ্গুয়েজ এন্ড কমিউনিকেশন
৬। ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্স
৭। বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন
৮। চার্টার্ড একাউন্টেন্সি
৯। হেলথ সায়েন্সেস
১০। ইঞ্জিনিয়ারিং
১১। এগ্রিকালচার
১২। ফরেস্ট্রি
১৩। ইসলামিক ষ্টাডিজ
১৪। সোশ্যাল সায়েন্স এন্ড হিউম্যানিটিজ
১৫। এনভায়রোনমেন্টাল সায়েন্স
১৬। ডিজাইন এন্ড আর্কিটেকচার
🚩বিদেশে শিক্ষার্থীদের জন্য মালয়েশিয়ার সেরা বিশ্ববিদ্যালয়🚩
১। University Technology Malaysia
২। University Tun Hussein Onn Malaysia
৩। University Utara Malaysia
৪। University of Malaya
৫। University Technical Malaysia Melaca
৬। University Sains Islam Malaysia
৭। Tunku Abdul Rahman University
৮। UCSL University
৯। University of Kualalumpur
১০। Malaysia Theological University
১১। Panang Medical College
১২। Wawsan Open University
১৩। University Technology Petronas
১৪। Swinburne University of Technology Sarawak Campus
১৫। Al-Madinah International University
✏✏✏বিদেশী শিক্ষার্থীদের আবেদন প্রক্রিয়া
১। আগ্রহী বিদেশী শিক্ষার্থীকে সর্বপ্রথম ইন্টারনেট থেকে তার পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়গু্লোর একটি তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। অত:পর তাকে জানতে হবে তিনি যে বিভাগে ভর্তি হতে চান নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সে বিভাগে ভর্তির আবেদনের শেষ সময়সীমা কবে নাগাদ বিদ্যমান।
২। প্রতিষ্ঠানটির ভর্তি অফিস বরাবর ভর্তি তথ্য এবং আবেদন ফর্মের জন্য সরাসরি লিখতে হবে।
৩। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকেও সরাসরি আবেদন ফর্ম ডাউনলোড করে নেয়া যেতে পারে।
৪। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে অন-লাইন আবেদন প্রক্রিয়া চালু আছে।
৫। ভর্তি অফিস থেকে আপনাকে আবেদনপত্র, ট্রান্সক্রিপ্ট এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংক্রান্ত সব তথ্য জানাবে।
৬। আপনাকে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে “student pass” এর জন্য আবেদন করতে হবে।
৭। আপনার পক্ষে আপনার পছন্দের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইমিগ্রেশন হেডকোয়ার্টার্স এর “পরিচালক, পাস ও পারমিট বিভাগ” বরাবর আবেদন করবে।
৮। আবেদনের ১ মাসের ভেতর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অবহিত করবে।
৯। প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র এবং তথ্যাবলী সংগ্রহের জন্য আপনাকে কমপক্ষে ৬ মাস সময় হাতে রেখে প্রস্ততি শুরু করতে হবে।
১০। আবেদনপত্র প্রক্রিয়াকরন, “Student pass” অনুমোদন এবং ভিসা ইস্যু ইত্যাদি সবকিছু মালয়েশিয়া থেকে সম্পন্ন করা হয়।
✏✏✏স্টুডেন্ট ভিসার শর্ত
১। মালয়েশিয়ার কোন সরকারি বা বেসরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন কোন কোর্সে ভর্তির অনুমতি থাকতে হবে। অবশ্যই ইংরেজি বিষটি কোর্সে অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
২। পড়াশোনা, থাকা-খাওয়া এবং ভ্রমণ ব্যয় নির্বাহের আর্থিক সঙ্গতি থাকতে হবে।
৩। কেবলমাত্র পড়াশোনার জন্য এ ভিসা দেয়া হবে।
৪। সুস্বাস্থ্য ও সচ্চরিত্রের অধিকারী হতে হবে।

🚩ভাষা শিক্ষা
মালয়েশিয়ার ভাষা শেখার জন্য সহায়ক হতে পারে http://www.bahasa-malaysia-simple-fun.com সাইটটি।

🚩শিক্ষা ব্যয়
১/ মালয়েশিয়ান পাবলিক/প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্ডার গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে টিউশন ফি ৮৮২১ মার্কিন ডলার থেকে ১৭৬৪২ ডলার (সর্বমোট)
২। মাষ্টার্স পর্যায়ে খরচ পড়বে ৫৫৮৬ মার্কিন ডলার থেকে ১০২৯১ মার্কিন ডলার (সর্বমোট)
৩। ডক্টরেট ডিগ্রীর গবেষনার জন্য খরচ পড়বে ৮৮২১ মার্কিন ডলার থেকে ১০২৯১ মার্কিন ডলার।
🚩🚩প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
১। যথাযথভাবে পূরণকৃত আবেদনপত্র
২। সকল শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের (এবং মার্কশীটের) ইংরেজি ট্রান্সক্রিপ্ট
৩। স্কুল/কলেজ ত্যাগের ছাড়পত্র
৪। TOEFL অথবা IELTS টেস্টের রেজাল্ট শীট
৫। পাসপোর্টের ফটোকপি
৬। আবেদন ফি পরিশোধের প্রমানপত্র
৭ ।Security/Personal bond ফি পরিশোধের প্রমাণপত্র
.৮/। Student pass এর ভিসা ফি পরিশোধের প্রমাণপত্র।
🚩জীবনযাত্রার ব্যয়
মালয়েশিয়ায় একজন বিদেশী ছাত্র/ছাত্রীর জীবনযাত্রার বাৎসরিক ব্যয় ২৭০০ থেকে ৩০০০ মার্কিন ডলার।
🚩স্বাস্থ্য বীমা

মালয়েশিয়ায় পড়তে আসা বিদেশী ছাত্রছাত্রীদের অবশ্যই পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য ও ভ্রমন বীমা থাকতে হবে। প্রতি সেমিষ্টারে বীমা খরচ ৩০ মার্কিন ডলার

🚩🚩কাজের সুযোগ
মালয়েশিয়ায় একজন বিদেশী ছাত্র/ছাত্রী তাদের পূর্ণকালীন (Full Time) শিক্ষা শুরু করার পর কাজের অনুমতির জন্য আবেদন করতে পারেন। একজন শিক্ষার্থী সেমিষ্টার পরবর্তী ছুটিতে অথবা ৭ দিনের অতিরিক্ত মেয়াদের কোন ছুটিতে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘন্টা কাজ করার অনুমতি পেয়ে থাকেন। ক্যাম্পাসে কাজ করে যে উপার্জন করা সম্ভব তা দিয়ে টিউশন ফি বা জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব নয়। কাজ করতে আগ্রহী একজন শিক্ষার্থীর অবশ্যই “student pass” থাকতে হবে।
🚩🚩যেসব ক্ষেত্রে কাজ পাওয়া যায়

মালয়েশিয়ায় বিদেশী শিক্ষার্থীরা রেস্টুরেন্ট, পেট্রোল পাম্প, মিনি মার্কেট ও হোটেলগুলোতে কাজ করতে পারেন। এসব কাজ থেকে মাসিক ৩০০ থেকে ৭৫০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত উপার্জন করা সম্ভব।
ইমিগ্রেশন ও স্টুডেন্ট পাস সংক্রান্ত আরও তথ্যের জন্য মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টে যোগাযোগ করা যেতে পারে:

ফোন: ৬০৩-৮৮৮০১০০০

ফ্যাক্স: ৬০৩-৮৮৮০১২০০

ওয়েবসাইট: http://www.imi.gov.my

এছাড়া মালয়েশিয়ার উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট: http://www.mohe.gov.my/educationmsia

ভিসা আবেদন
মালয়েশিয়ায় উচ্চ শিক্ষার্থে “student pass” এর জন্য ঢাকাস্থ মালয়েশিয়ান দূতাবাসে যোগাযোগ করতে হবে। দূতাবাস কর্তৃক নির্দেশিত প্রক্রিয়ায় আপনাকে ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। তবে ভিসা ইস্যু করা হবে মালয়েশিয়া থেকে।

🚩🚩🚩🚩ঢাকাস্থ মালয়েশিয়ান হাইকমিশনের ঠিকানা
বাড়ী- ১৯, রোড- ৬, বারিধারা,

ঢাকা-১২১২

ফোন: ৮৮২৭৭৫৯

ই-মেইল: mwdhaka@citechco.net

ফ্যাক্স: (০০৮৮) ০২ ৮৮২৭৭৬১, (০০৮৮) ০২ ৮৮২৩১১৫

ই-মেইল: maldhaka@kln.gov.my

ওয়েবসাইট: http://www.kln.gov.my/web/bgd_dhaka
অফিস সময়

– রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮:৩০ টা থেকে বিকাল ৪:৩০টা

– মধ্যাহ্নভোজন বিরতি দুপুর ১২:৩০টা থেকে দুপুর ১:৩০টা

– সাপ্তাহিক বন্ধ: শুক্রবার ও শনিবার

🚩মালয়েশিয়া যাওয়ার আগে যা জানা থাকা ভালো
শিক্ষার্থীর সাথে পরিবারের সদস্যদের অবস্থান

ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টের অনুমোদন নিয়ে পুরো কোর্স চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীর বাবা-মা মালয়েশিয়ায় অবস্থান করতে পারেন। আর পোস্ট গ্রাজুয়েট কোর্সের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে স্বামী/স্ত্রী, সন্তানরাও মালয়েশিয়ায় অবস্থান করতে পারেন।
🚩ডিহাইড্রেশন এবং সানবার্ণ

বিষুবরেখার একেবারে কাছাকাছি ২০ থেকে ৭০ উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে দেশটির অবস্থান। সারাবছর ধরে প্রখর সূর্যকিরণ দেশটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ঘামের কারণে পানিশূন্যতা, লবণের ঘাটতি এবং সানবার্ণের ঝুঁকিতে থাকেন অনভ্যস্ত ভ্রমণকারীরা। প্রচুর পানি পান করতে হবে, লবণের ঘাটতি পূরণের জন্য স্যালাইন জাতীয় পানীয় পান করতে হবে। এ অবস্থায় অ্যালকোহল জাতীয় পানীয় আরও ক্ষতিকর। আর সর্বোপরি উষ্ণ এবং আর্দ্র আবহাওয়ায় উপযোগী পোশাক সাথে নিতে হবে।
🚩মাদক

মালয়েশিয়ায় মাদকসংক্রান্ত আইন অত্যন্ত কঠোর। মাদক পরিবহন, উৎপাদন, আমদানী, রপ্তানী এসব ক্ষেত্রে মৃত্যুদন্ড নিশ্চিত। ১৫ গ্রামের বেশি হেরোইন, ৩০ গ্রামের বেশি মরফিন বা কোকেন, ৫০০ গ্রামের বেশি গাঁজা, ২০০ গ্রামের বেশি গাঁজা নির্যাস, ১ কেজি ২০০ গ্রামের বেশি আফিম কারো অধিকারে থাকলে তা দোষী সাব্যস্ত করার জন্য যথেষ্ট।
এছা্ড়া মাদকের অবৈধ ব্যবহারে সর্বোচ্চ দশ বছরের কারাভোগ করতে হতে পারে, উচ্চ অংকের জরিমানা হতে পারে কিংবা উভয় শাস্তি হতে পারে। কারো কাছে মাদক না পাওয়া গেলেও যদি মাদক ব্যবহারের আলামত পাওয়া যায় তবে শাস্তি ভোগ করতে হবে। এ অবস্থায় মাদক মালয়েশিয়ার বাইরে ব্যবহৃত হয়েছে এটা প্রমাণ করেও লাভ হবে না।
🚩🚩কেনাকাটা

মালয়েশিয়ায় কেনা প্রতিটি পণ্যে ৩০% শুল্ক দিতে হয়।
ট্যাক্সি

সম্প্রতি ট্যাক্সি ক্যাবের ভাড়া পুননির্ধারণ করা হয়েছে মালয়েশিয়ায় এবং মিটার ছাড়া চুক্তিতে ট্যাক্সি চালানো নিষিদ্ধ। কিন্তু সেখান অসাধু ট্যাক্সি ড্রাইভারের সংখ্যা একেবারে কম নয়। মালয়েশিয়ায় নতুন, এটা বুঝতে পারলে অনেক ট্যাক্সি ড্রাইভার ঘুরপথে গন্তব্যে যায় বেশি বিল তোলার জন্য। আবার সেখানে অবৈধ রেজিস্ট্রেশনবিহীন ট্যাক্সি রয়েছে যা ছদ্মবেশী ছিনতাইকারীরা চালায়।
🚩ধর্মীয় স্থাপনা পরিদর্শন

মালয়েশিয়ার ধর্মীয় স্থাপনা যেমন মসজিদ বা মন্দিরে প্রবেশের সময় জুতা খোলারা রেওয়াজ আছে। কিছু মসজিদে প্রবেশের সময় নারীদের আলখেল্লা জাতীয় পোশাক এবং স্কার্ফ দেয়া হয়। এসব জায়গায় ছবি তোলায় বিধিনিষেধ নেই, তবে ছবি তোলার আগে অনুমতি নেয়া ভালো।
🚩হাত মেলানো

মালয়েশিয়ায় নারী-পুরুষ উভয়ের মাঝেই হাত মেলানোর রীতি আছে। তবে মুসলিম নারীদের মাঝে এক্ষেত্রে অনীহা থাকতে পারে। কাজেই হাত মেলানোর ক্ষেত্রে নারীদের দিকে থেকে হাত বাড়ানোর জন্য অপেক্ষা করা উচিত। সামাজিকভাবে সালাম আদানপ্রদান হাত মেলানোর মতই বিবেচিত হয়।
🚩মালয়েশীয় বাড়িতে বেড়ানো

কারো বাড়ি যাওয়ার আগে ফোন করা ভদ্রতা বলে বিবেচিত হয়। অবশ্যই জুতা খুলে প্রবেশ করতে হবে। সাধারণত পানীয় পরিবেশন করা হয়, যা গ্রহণ করাটা ভদ্রতা বলে বিবেচিত হয়।
🚩মশা

সারাবছর ধরে আর্দ্র আবহাওয়া থাকার কারণে মশার উৎপাতও আছে দেশটিতে। মশাবাহিত বিভিন্ন রোগ যেমন ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু জ্বর, জাপানী বি এনকেফালাইটিস ইত্যাদি রোগের ঝুঁকি এড়াতে শরীরে এবং পোশাকে মশা নিবারক ব্যবহার করা উচিত। মালয়েশীয় উপদ্বীপে ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি খুব কম। কুয়ালালামপুর এবং অন্যান্য বড় শহরগুলিতেও ঝুঁকি খুব কম। কিন্তু পূর্ব মালয়েশিয়া ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হয় ভ্রমণকারীদের।
🚩🚩খাবার

খাদ্যের মান বিবেচনায় বলতে হয় পুরো মালয়েশিয়াতেই খাবারের মান বেশ ভালো। তবু খাবার ও পানীয় কেনার সময় মানের দিকটিতে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করা উচিত। বোতলজাত পানি ও কার্বনেটেড পানীয় পান করার চেষ্টা করতে হবে। ট্যাপ, ঝরনার পানি বা কিউব বরফ এড়িয়ে চলতে হবে। পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং ফিল্টার সাথে রাখা যেতে পারে। এছাড়া ডায়রিয়ার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ ও এন্টিবায়োটিক সাথে রাখা ভালো।

———————————————————————————-


🚩যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষা🚩
🚩যুক্তরাজ্যের কিছু শিক্ষাবৃত্তি
নিচে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাজ্যের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি শ্রেণীর স্কলারশিপ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেওয়া হলোঃ
কমনওয়েলথ স্কলারশিপ অ্যান্ড ফেলোশিপ প্ল্যান (সিএসএফপি)

কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় সহায়তার জন্য প্রতিবছর সারা পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীকে এই কার্যক্রমের আওতায় এ স্কলারশিপ দেওয়া হয়। এর বেশির ভাগই বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিগ্রির জন্য শিক্ষা অথবা গবেষণার জন্য দেওয়া হয়। তবে ক্ষেত্রবিশেষে রিসার্চ স্টাডি অথবা নন-ইউনিভার্সিটি কোর্সসমূহও বিবেচনা করা হয়। তবে আন্ডারগ্রাজুয়েট পর্যায়ে এ বৃত্তি দেওয়া হয়ে থাকে খুবই ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে।
🚩ব্রিটিশ সিভেনিং স্কলারশিপ

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থীকে এই স্কলারশিপের সুযোগ দেওয়া হয়। বিশেষ করে যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে-সেসব দেশের শিক্ষার্থীরাই অধিকহারে এ সুযোগ পেয়ে থাকেন। যেকোনো বিষয়ে ফুলটাইম পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিগ্রি কোর্স অথবা ফুলটাইম রিসার্চের ক্ষেত্রে এই স্কলারশিপের সুযোগ দেওয়া হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তিন মাস বা ছয় মাসের শর্ট টার্মেও কর্মমুখী কোর্সে এ বৃত্তি দেওয়া হয়।
🚩টেকনিক্যাল কো-অপারেশন ট্রেনিং (টিসিটি)

আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিভাগের অর্থায়নে একটি গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট স্কিমের আওতায় উন্নয়নশীল দেশসমূহের শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে এই লোকাল ট্রেনিং সুবিধা দেওয়া হয়। এটি একটি স্কলারশিপ প্রোগ্রাম না হলেও প্রতিবছর প্রায় চার হাজার নতুন অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। সাধারণত অনূর্ধ্ব ৪৫ বছরের প্রার্থীরা আবেদন করতে পারেন। তাঁদের লিখিত ও মৌখিক ইংরেজি পরীক্ষা নেওয়া হয়। ট্রেনিং হয়ে থাকে নানা বিষয়ে। আর সময়কাল তিন মাস থেকে তিন বছর।
🚩ডিএফআইডি শেয়ার্ড স্কলারশিপ (ডিএফআইডি এসএসএস)

আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিভাগ এবং নির্ধারিত ব্রিটিশ ইউনিভার্সিটি কতৃêক যৌথ অনুদানে পরিচালিত এ স্কিমের আওতায় উন্নয়নশীল কমনওয়েলথ দেশসমূহের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তার লক্ষ্যে পরিচালিত। পোস্ট গ্রাজুয়েট এবং আন্ডার গ্রাজুয়েট কোর্সের ক্ষেত্রে এ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। এ বৃত্তি সুবিধায় শিক্ষার পূর্ণ খরচ, যাতায়াতের বিমান ভাড়া, মেইনটেনেন্স এবং থিসিস ব্যয়ভার বহন করা হয়।
🚩ওভারসিস রিসার্চ স্টুডেন্টস অ্যাওয়ার্ডস স্কিম (ওআরএসএএস)

ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে নিয়মিত উচ্চমানের গবেষণা শিক্ষার্থীর কার্যক্রম বহাল রাখা এ অ্যাওয়ার্ডসের অন্যতম লক্ষ্য। প্রতিবছর ৮৫০টি নতুন অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে যথেষ্ট মেধাবী শিক্ষার্থীরাই সাধারণত এর সুযোগ পেয়ে থাকেন। এটি একটি পোস্ট গ্রাজুয়েট স্কলারশিপ। শিক্ষার্থীকে ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণকালীন গবেষণা শিক্ষা কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট থেকে উচ্চ ডিগ্রি গ্রহণে আগ্রহী থাকতে হয়। মেধা এবং রিসার্চ পটেনশিয়ালই শিক্ষার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা রাখেন। প্রথমত এক বছরের জন্য এ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। তবে প্রয়োজনে তা দুই বা তিন বছর পর্যন্ত নবায়ন করা যায়। প্রার্থী যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে ইচ্ছুক সে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমেই আবেদন করতে হবে। বাংলাদেশিরা যাঁরা স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী, তাঁরা এসব বৃত্তির ব্যাপারে ঢাকার ব্রিটিশ কাউন্সিলে যোগাযোগ করতে পারেন। ব্রিটিশ কাউন্সিলের ঠিকানা ৫ ফুলার রোড, ঢাকা। এ ছাড়া সিএসএফপি এবং ডিএফআইডি এসএসএস বিষয়ে অতিরিক্ত তথ্য জানতে পারেন নিচের ঠিকানায় যোগাযোগ করেঃ
The Commonwealth Scholarship Commission Association of Commonwealth Universities.

36 Gordon Square, London, WC1HOPF

United Kingdom.
🚩🚩🚩এ ছাড়া আরএসএএস সম্পর্কে ইউকে-এর নিচের ঠিকানা থেকেও জানা যাবে।

Overseas Research Scheme, Universities UK

Wobum House, 20 Tauistock Square, London WC1H9HQ UK.

✏✏✏✏যেসব ডিগ্রী প্রদান করা হয়
ব্যাচেলর ডিগ্রী

মাস্টার্স ডিগ্রী

এম.বি.এ ডিগ্রী

ডক্টরেট ডিগ্রী

হায়ার ন্যাশনাল ডিপ্লোমা

কারিগরী কোর্স

সার্টিফিকেট এবং ডিপ্লোমা কোর্স যেমন, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা (পিজি-ডিপ), পোস্ট গ্র্যাজুয়েট সার্টিফিকেট (পিজি-সার্ট) ইত্যাদি।

সেমিস্টার
অটাম সেমিস্টার-সেপ্টেম্বর-জানুয়ারী

স্প্রিং সেমিস্টার-জানুয়ারী থেকে জুন

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী
আপনি সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের এডমিশন অফিসে মেইল করে প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে নিতে পারেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে আপনি ভর্তি ফরম ডাউনলোড করে নিতে পারেন।

কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে অনলাইনে ভর্তির সযোগ

এডমিশন অফিস আপনার অনুসন্ধানের জবাবে ভর্তি এবং ভিসার জন্য কি কি ধরনের কাগজপত্র প্রয়োজন হবে তা বিস্তারিতভাবে জানিয়ে দিবে।

ভর্তি প্রক্রিয়াটি অন্তত ১ বৎসর সময় হাতে রেখে শুরু করা উচিত। আবেদনপত্র গ্রহনের পর ৬ থেকে ৮ মাসের মধ্যে কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিবে।

🚩প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
সকল শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট এবং মার্কশীটের ইংরেজী ভার্সন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র

টোফেল বা আইইএলটিএস স্কোর এর প্রমানপত্র

পাসপোর্টের ফটোকপি

রেফারেন্স লেটার

সকল কপি একজন পাবলিক নোটারী কর্তৃক সত্যায়িত হতে হবে

বিভিন্ন প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার শিক্ষাগত, ভাষাগত ও অন্যান্য যোগ্যতা এবং কোর্সের মেয়াদ

✏✏✏✏প্রয়োজনীয় যোগ্যতা
কোর্সের নাম প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ভাষাগত দক্ষতা মেয়াদ

ব্যাচেলর কমপক্ষে ১২ বৎসর মেয়াদী শিক্ষা আইইএলটিএস ৬-৬.৫ ৩-৪ বৎসর পূর্নকালীন স্টাডি

মাস্টার্স কমপক্ষে ১৬ বৎসর মেয়াদী শিক্ষা আইইএলটিএস ৬.৫-৭ ১-৩ বৎসর পূর্নকালীন স্টাডি

আইন ও চিকিৎসাবিদ্যার জন্য ৫ বৎসর পূর্নকালীন অধ্যায়ন প্রয়োজন।

স্থাপত্যবিদ্যার জন্য প্রয়োজন ৭ বৎসরের পূর্নকালীন অধ্যায়ন।

পি,এইচ,ডি প্রোগ্রামের জন্য ৩ থেকে ৪ বৎসর পূর্নকালীন অধ্যায়নের প্রয়োজন হয়।

✏✏✏যেসব বিষয়ে অধ্যায়ন করতে পারেন
ইংল্যান্ডে অধ্যায়নের জন্য আপনি নিম্নের যে কোন বিষয় বেছে নিতে পারেন:

তত্ত্বীয় ও ফলিত বিজ্ঞান

কম্পিউটিং এন্ড ম্যাথমেটিক্যাল সাইন্স

হেলথ এন্ড মেডিসিন

আইন

বিবিত্র

এমবিএ

সমাজবিজ্ঞান

হোটেল ম্যানেজমেন্ট

ক্রিয়েটিভ আর্ট ইত্যাদি

আরও তথ্যের জন্য এই পেজে যাওয়া যেতে পারেঃ

https://www.theguardian.com/education/universityguide

🚩শিক্ষা ব্যয়
ফাউন্ডেশন কোর্স প্রতি বছর ৪০০০ পাউন্ড থেকে ১২০০০ পাউন্ড

কলা বিষয়সমূহ -প্রতি বছর ৭০০০ পাউন্ড-৯০০০ পাউন্ড

বিজ্ঞান বিষয়সমূহ- প্রতি বছর ৭৫০০ পাউন্ড- ১২০০০ পাউন্ড

ক্লিনিক্যাল বিষয়সমূহ- প্রতি বছর ১০০০০ পাউন্ড -২১০০০ পাউন্ড

এম,বি,এ- প্রতি বছর ৪০০০ পাউন্ড -৩০০০০ পাউন্ড

🚩🚩কাজ করার সুযোগ
ইংল্যান্ডে ছাত্রছাত্রীরা প্রতি সপ্তাহে ২০ ঘন্টা কাজ করার সুযোগ পায় এবং ছুটির দিন এই সুযোগ ৩৬ ঘন্টার জন্য। বড় বন্ধের সময় কোন বাধা ধরা নিয়ম নেই সবসময়ই কাজ করতে পারে শিক্ষার্থীরা।
———————————————————————————


🚩ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষা🚩
ফ্রান্স পশ্চিম ইউরোপের দেশ। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিক্ষা, সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ এ দেশের খ্যাতি বিশ্বজুড়ে। উন্নত জীবনযাত্রা, শক্তিশালী অর্থনীতি ও মানসম্মত সময়োপযোগী শিক্ষার পরিবেশ বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করে এদেশে উচ্চশিক্ষা লাভ করতে।

🚩কোর্স প্রোগ্রাম
১· ডিপ্লোমা প্রোগ্রাম,
২· এসোসিয়েট ডিগ্রি,
৩· ব্যাচেলর ডিগ্রি,
৪· গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ডিগ্রি,
৫· মাস্টার ডিগ্রি এবং
৬· ডক্টর ডিগ্রি।
🚩🚩🚩ভর্তির সেশন
ফ্রান্সে বছরে তিন সেমিস্টারে পড়ালেখা করানো হয়।
১·সেমিস্টার এক – সেপ্টেম্বর/অক্টোবর,
২·সেমিস্টার দুই জানুয়ারি/ফেব্রুয়ারি এবং
৩·সেমিস্টার তিন – মে/জুন।
✏✏✏পড়ার বিষয়
ফ্রেঞ্চ ল্যাংগুয়েজ এন্ড লিটারেচার, হিস্ট্রি, ইংলিশ, ফিলোসফি, সোশাল সায়েন্স, পলিটিকাল সায়েন্স, সোসিওলজি, ল, ইকোনোমিক্স, চাইল্ড এন্ড ফেমিলি স্টাডিস, পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশন, বিজনেস অ্যাডমিনেসট্রেশন, ম্যানেজমেন্ট, একাউনটেন্সি, ম্যাথমেটিক্স, ফিজিক্স, জিওফিজিক্স, এপ্লাইড ফিজিক্স, এস্ট্রোনমি, কেমিস্ট্রি, এপ্লাইড কেমিস্ট্রি, বায়োকেমিস্ট্রি, বায়োলজি, ই-বিজনেস, কনভেনশন ইন্ডাস্ট্রি, ফুড এন্ড নিউট্রিশন, হিউম্যান ইকোলজি, ফুড সার্ভিস মেনেজমেন্ট, ট্যুরিজম মেনেজমেন্ট, হোটেল মেনেজমেন্ট, কলিনারি সায়েন্স এন্ড আর্টস, জিওগ্রাফি, ইনফরমেশন ডিসপ্লে, মেডিকাল সায়েন্স, ফার্মাসিউটিকাল সায়েন্স, ইলেকট্রনিক মেটেরিয়াল্‌স ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং, ক্লোথিং এন্ড টেক্সটাইল, সিরামিক ইঞ্জিনিয়ারিং, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার, ওরিয়েন্টাল ফার্মাসিউটিকাল সায়েন্স, ওরিয়েন্টাল মেডিসিন, ডেন্ট্রিস্টি, স্কুল অব নার্সিং সায়েন্স, হাউজিং এন্ড ইন্টেরিয়র ডিজাইন, ডিজাইন ক্রাফট, থিয়েটার এন্ড ফ্লিম, ক্রিয়েটিভ রাইটিং, ইনস্ট্রুমেন্টাল মিউজিক, কম্পোজিশন, ভয়েজ, ফাইন আর্টস, কোরিয়ান পেইন্টিং, ড্রয়িং এন্ড পেইন্টিং, স্কাল্পচার, ডেন্স, মডার্ণ ডেন্সিং, বেলেট প্রভৃতি বিষয়সমূহ পড়া যায়

✏✏✏পড়ালেখার মাধ্যম
ফ্রান্সে পড়ালেখার প্রধান ভাষা হলো ফ্রেঞ্চ ভাষা। তবে ইংরেজিতেও পড়ালেখা করা যায়। এজন্য শিক্ষার্থীদের অবশ্যই ইংরেজি জানা থাকতে হবে। এক্ষেত্রে আইইএলটিএস বা টোফেল করা থাকলেও চলবে। আন্ডারগ্রাজুয়েটের জন্য ৫·০- ৫·৫ আইইএলটিএস এবং ৫৫০ টোফেল স্কোর এবং পোস্টগ্র্যাজুয়েটের জন্য সাধারনত ৬·০ আইইএলটিএস এবং ৬০০ টোফেল স্কোর দরকার হয়।

✏✏✏পড়াশোনার খরচ
অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের তুলনায় ফ্রান্সে টিউশন ফি অনেক কম। সাধারণতঃ টিউশন ফি নির্ভর করে কোর্স এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উপর। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভেদে টিউশন ফি বছরে ৮০০-২৫০০ ইউরো পর্যন্ত হতে পারে।

🚩থাকা-খাওয়ার খরচ
বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাম্পাসে হোষ্টেল রয়েছে। তবে কেউ ইচছা করলে ভাড়া বাড়িতে বা পেয়িং গেষ্ট হিসাবেও থাকতে পারবে। থাকা খাওয়া ও অন্যান্য ব্যায়সহ একজন শিক্ষার্থীর মাসে ৪০০-৬০০ ইউরোর বেশী লাগে না। মেডিকেল ইন্স্যুরেন্স কভারের জন্য মাসে ৪২ ইউরো দিতে হয়।

🚩🚩কাজের সুযোগ
ফুলটাইম কোর্সের শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে ২০ ঘন্টা কাজ করতে পারবে। তবে ছুটি ও অবসরকালীন সময় ফুলটাইম কাজ করা যায়। মাসে প্রায় ৮০০-১০০০ ইউরো আয় করা যায়।

✏✏✏ভর্তির জন্য আবেদন
ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করতে হলে শিক্ষার্থীকে কমপক্ষে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস হতে হবে। ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীকে সেশন শুরুর কমপক্ষে ১০-১২ সপ্তাহ পূর্বে আবেদন করতে হয়। এদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত সেপ্টেম্বরের দিকে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি অথবা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যোগাযোগ ও ভর্তির আবেদন করতে হবে। আবেদন করার ১০-১৫ দিনের মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অফার লেটার চলে আসে। আবেদনকারী যোগ্য বলে বিবেচিত হলে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই শিক্ষার্থীকে জানিয়ে দেয়।

🚩ভিসার জন্য আবেদন
অফার লেটার আসার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন- শিক্ষাগত যোগ্যতার সকল মার্কশীট এবং সার্টিফিকেট, স্পন্সরের বৃত্তান্ত (ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং আয়ের উৎস), পাসপোর্ট, ছবি, বার্থ সার্টিফিকেট, আইইএলটিএস বা ইংলিশ প্রফিসিয়েন্সির সার্টিফিকেট, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ইত্যাদি কাগজপত্রসহ ভিসার জন্য আবেদন করতে হয়। ভিসার জন্য আবেদনকারীকে সব কাগজপত্রসহ দেশে অবস্থিত ফ্রান্স দূতাবাসে যোগাযোগ করতে হয়। তবে এক্ষেত্রে সাধারণত স্টাডি ভিসার জন্য ফ্রেঞ্চ জানা এবং ভালো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া ও আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ দেখাতে পারলে সহজেই ভিসা পাওয়া যায়। ভিসা ফি ৯৯ ইউরো।

🚩স্পন্সর
ভিসার জন্য শিক্ষার্থীর প্রথম রক্তের সম্পর্কের অভিভাবক স্পন্সর হলে ভিসা পাওয়া অনেকটা সহজ হয়। তবে শিক্ষার্থীর অন্য যেকোন অভিভাবক স্পন্সর করতে পারবে।

🚩🚩🚩যোগাযোগ
আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ, মিরপুর রোড-৩, কর্নার হাউস, ধানমন্ডি, আবাসিক এলাকা, ঢাকা।

ফ্রান্সের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট
1. University of Haut Alsace – http://www.uha.fr
2. University Strasbourg Louis Pasteur – http://www.ulp.u-strasbg.fr
3. University Robert Schuman – http://www.urs.u-strasbg.fr
4. University of Toulon – http://www.univ-tln.fr
5. University of Auvergne – http://www.u-clermont1.fr
6. University of Toulouse – http://www.univ-tlse1.fr
7. University of Franche Comte – http://www.univ-fcomte.fr
—————————————————————————


🚩ইতালিতে উচ্চশিক্ষা🚩
আমাদের দেশের অনেকেই মনে করেন, উচ্চ শিক্ষার জন্য ইউরোপের দেশ মানেই ইংল্যান্ড অথবা জার্মানি। তাদের ধারণা মিথ্যা নয়, তবে কিছুটা সনাতন। ইউরোপের অন্যতম প্রধান দেশ ইতালিতে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য এখন বিস্তর সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিবছর বিভিন্ন দেশ থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ছাত্রছাত্রী ইতালিতে আসছেন উচ্চ শিক্ষার জন্য। তারা গ্রাজুয়েশন, মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামে পড়াশুনা করেন। আন্ডারগ্রাজুয়েট লেভেলেও ছাত্রছাত্রী আসছেন, তবে তাদের সংখ্যা তুলনামূলক কম। উচ্চ শিক্ষার এই শুরুতে বাংলাদেশের ছাত্রছাত্রীরাও আছেন।
🚩🚩খরচ
আবাসন
ইতালির অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক হল বা এরকম কোন ব্যবস্থা নেই। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হাউজিং অফিস থাকে। এখান থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সাহায্য করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, বাজারদরের চেয়ে কম খরচে থাকার ব্যবস্থা করে দেন তারা।
বড় শহরগুলোয় এপার্টমেন্টের ভাড়া স্বাভাবিকভাবেই বেশি, এটা ৩০০ থেকে ১,০০০ ইউরো হতে পারে। সাধারণত অন্তত এক বছরের জন্য ভাড়া নিতে হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয় শহরগুলোতে স্বল্পমেয়াদে আসবসাব সজ্জিত কক্ষ ভাড়া পাওয়া যায়। পুরো এপার্টমেন্ট ভাড়া না নিয়ে একটি কক্ষও ভাড়া নিতে পারে শিক্ষার্থীরা। অবশ্য পত্রিকার বিজ্ঞাপন দেখে কিংবা রিয়েল এস্টেট এজেন্সীর সাথে যোগাযোগ করেও আবাসনের ব্যবস্থা করে নেয়া যায়।
🚩যাতায়াত
ইতালির গণপরিবহণ ব্যবস্থা বেশ ভালো এবং সস্তা। ইতালির শহরগুলোয় যাতায়াতের জন্য গণপরিবহণই উত্তম পন্থা। কারণ, পার্কিং এবং সড়কপথের টোল এখানে খুব বেশি। গণপরিবহণে চড়তে একটি টিকেট কিনলে খরচ বেশি পড়বে। এক সপ্তাহ বা এক মাসের টিকেট এক সাথে কেনাটা সাশ্রয়ী। বাসে কোন টিকেট বিক্রি করা হয় না। পত্রিকা বা সিগারেট বিক্রেতারা এসব টিকেট বিক্রি করে। ট্রেনে বা বাসে চড়ার আগেই টিকেটে সীল নিতে হবে।
🚩বাস
সবগুলো বড় শহরেই বিস্তৃত পরিসরে বাস এবং ট্রাম যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকলেও পিক আওয়ারে যানজটের কারণে এগুলো ধীর হয়ে পড়ে।
মেট্রোরেল
রোম, নেপলস, মিলান এসব শহরের মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক ব্যহার করা যেতে পারে ব্যস্ত সময়গুলোয়।
মিলান থেকে রোমের ট্রেনের টিকেট:
৩৮.০০ ইউরো, আন্তনগর ট্রেন

৪৭.০০ ইউরো, ইউরোস্টার ট্রেন

রোম এবং মিলান শহরে পাতাল রেলে প্রতি ভ্রমণে ১.০০ ইউরো গুণতে হবে।
ট্যাক্সি
ইতালির সব শহর বিশেষ করে বড় শহরগুলোয় প্রচুর ট্যাক্সি পাওয়া যায়। সাদা আর হলুদ রঙের হয় এগুলো। ওপরে নিয়ন আলোয় লেখা থাকে ‘ট্যাক্সি’। এখানে ট্যাক্সি বেশ ব্যয়বহুল। লাগেজ, পোষা প্রাণী ইতাদির জন্য অতিরিক্ত মাশুল গুণতে হয়। অফিসিয়াল ট্যাক্সিগুলোয় মিটার থাকে এবং প্রয়োজনে রশিদ দেয়া হয়। বখশিশ জরুরী নয়। তবে অধিকাংশ যাত্রী এক বা দুই ইউরো বখশিশ দেয়। বিমানবন্দর এবং রেলস্টেশনের কাছে প্রায়ই আনঅফিসিয়াল ট্যাক্সি  থাকে এগুলো থেকে সতর্ক থাকা উচিত।
সাইকেল
ইতালির বড় শহরগুলোয় না হলেও ছোট শহরগুলোয় অনেকই সাইকেলে যাতায়াত করে। সাইক্লিং ইতালিতে বেশ জনপ্রিয়। ছুটির দিনগুলোয় অনেকেই সাইকেল নিয়ে শহরের বাইরে বেরিয়ে পড়ে।
🚩🚩জীবনযাত্রার ব্যয়
ইতালির বড় শহরগুলো, পর্যটন শহরগুলো বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের শহরগুলোয় জীবনযাত্রার ব্যয় তুলনামূলকভাবে বেশি।
কিছু পণ্যের মূল্য তালিকা, ইউরোতে
দুধ- প্রতি লিটার ১.২০ ইউরো

রুটি- প্রতি কেজি ৩.৫০ ইউরো

মাখন- ২৫০ গ্রাম ১.৭০ ইউরো

গরু-মহিষের মাংস-প্রতি কেজি  ৯.০০ থেকে ১৯.০০ ইউরো

মুরগি- প্রতি কেজি ৮ থেকে ১০ ইউরো

পাস্তা- প্রতি কেজি ০.৮০ থেকে ১.২০ ইউরো

মিনারেল ওয়াটার- প্রতি লিটার ০.৫০ – ০.৮০ ইউরো

সিনেমা- ৭.৫০ ইউরো

ফাস্ট ফুড মেন্যু ৫.৫০ ইউরো

(সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্যানুসারে)
থাকা-খাওয়া, যাতায়াত, টেলিফোন এবং অন্যান্য খরচসহ একজন শিক্ষার্থীর মাসিক ব্যয় ১,০০০ থেকে ১,৫০০ ইউরো হতে পারে। (২০১৪ সালে ইতালির সরকারি ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্য।)
বাংলাদেশের মত ইউরোপের বাইরের দেশ থেকে যারা যাবেন তারা যাওয়ার আগেই বেসরকারি স্বাস্থ্যবীমার ব্যবস্থা করতে পারবেন। ইতালিতে সে স্বাস্থ্যবীমার সুবিধা পাওয়া যাবে কিনা আগেই ইতালি দূতাবাস থেকে সে সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। ইতালির চিকিৎসা সেবা এমনিতে বেশ ব্যয়বহুল।
🚩🚩পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ
ইউরোপীয় শিক্ষার্থীরা ওয়ার্ক পারমিট ছাড়াই কাজ করতে পারে ইতালিতে। কিন্তু বাংলাদশে বা ইউরোপের বাইরের অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য কাজের সুযোগ কম। শিক্ষার্থীদের জন্য ওয়ার্ক পারমিট যোগাড় করাটা বেশ কঠিন। একটি নিয়োগপত্র পুলিশকে দিতে হয়। কাজটা করতে হয় চাকরিদাতাকেই। আবার অনেক ক্ষেত্রে ভিসায় কাজ করার অনুমতি দেয়া হয় না।
ইতালি যাওয়া
ইউরোপ এবং সারা বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর সাথে সরাসরি ফ্লাইট আছে।  এছাড়া লন্ডন, আমস্টার্ডাম, ফ্রাঙ্কফুর্ট এবং প্যারিস হয়েও ইতালি প্রবেশ করা যায়।
বোলোগনা, ফ্লোরেন্স, নেপলস ইত্যাদি শহরের বিমানবন্দগুলোর সাথে ইউরোপের বিভিন্ন শহরের সরাসরি বিমান যোগাযোগ আছে। বেশ কিছু সাশ্রয়ী বিমান সংস্থাও ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইতালিতে।
ইউরোপের শহরগুলো থেকে রেল বা বাসে চড়েও ইতালি যাওয়া যায়। ইতালিজুড়ে বিস্তৃত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকায় সাধারণ গাড়িতে চড়েই দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাওয়া যায়।
পড়াশোনার জন্য
পড়াশনার জন্য ইতালি প্রবেশ করতে ইউরোপীয় শিক্ষার্থীদের ভিসা লাগে না। কিন্তু ইউরোপের বাইরের দেশ হওয়ার কারণে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রয়োজন হয় এবং সেটা ইতালি যাওয়ার আগেই সংগ্রহ করতে হয়। ইতালি প্রবেশের আট দিনের মধ্যে পুলিশকে অবহিত করতে হবে, বাড়িভাড়া নেয়ার পূর্বশর্ত এটি।

পড়াশোনার জন্য ইতালি প্রবেশের ক্ষেত্রে যা প্রয়োজন
ভিসা সহকারে পাসপোর্ট

নগদ অর্থ, ট্রাভেলার্স চেক, ক্রেডিট কার্ড, ইত্যাদি

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অনুমতিপত্র

প্রয়োজনীয় হেলথ ডকুমেন্ট

ইতালি থাকার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ আছে তার প্রমাণপত্র

এছাড়া সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য আরও কোন কাগজপত্র লাগবে কিনা সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

আবাহওয়া
ইউরোপের মূল ভূখন্ড থেকে বুটের মত করে ভূমধ্যসাগরে বেরিয়ে আসা ভূখন্ড হচ্ছে ইতালি। উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের আবহাওয়ায় তাই কিছুটা তফাত দেখা যায়। উষ্ণ গ্রীষ্ম এবং শীতল শীতকাল উত্তর ইতালির বৈশিষ্ট্য। তবে শীতকালে দিনের তাপমাত্রা সচরাচর হিমাঙ্কের নিচে নামে না। আর দক্ষিণাঞ্চলে শীতের প্রভাব ততটা বেশি নয়। গ্রীষ্মকালটা শুষ্ক এবং বেশ গরম। তবে পার্বত্য অঞ্চলগুলোয় দীর্ঘ শীতকাল পরিলক্ষিত হয়।
কেমন পোশাক নিতে হবে?
চারটি ঋতুর প্রভাব অনুভূত হয় পুরো ইতালিতেই। তবে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে আবহাওয়ায় কিছুটা পার্থক্য আছে। দক্ষিণে শীত ততটা প্রবল না হলেও উত্তরে বেশ শীত পড়ে। পুরো ইতালিতেই গ্রীষ্মকালটা বেশ উষ্ণ। তবে গ্রীষ্মের দৈর্ঘ্য দক্ষিণে তুলনামূলকভাবে বেশি। বসন্ত এবং শরতে বৃষ্টি বেশি হয়, উত্তরাঞ্চল তুলনামূলকভাবে বেশি আর্দ্র।
কি ধরনের পোশাক নিতে হবে সে সংক্রান্ত পরামর্শ বিশ্ববিদ্যালগুলোর তরফ থেকে দেয়া হয়। তবে উত্তর বা দক্ষিণ, গন্তব্য যেখানেই হোক না কেন শীতের পোশাক কিছুটা লাগবেই।
শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সেবা
বিদেশে পড়তে যাওয়াজনিত একটি উত্তেজনা শিক্ষার্থীদের মাঝে কাজ করে ঠিকই, কিন্তু নতুন জায়গায় গিয়ে কিছুটা ছন্দপতন ঘটতে পারে। নতুন দেশের জীবনযাপন পদ্ধতির সাথে মানিয়ে নেয়া কঠিন হতে পারে, একটি পর্যায়ে প্রায় সব শিক্ষার্থীই গৃহকাতর বা হোমসিক হয়ে পড়ে। এসব পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল অফিসের সাথে কথা বলা যেতে পারে।
অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রমের শুরুতে একটি পরিচিতিমূলক কর্মসূচি থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা  ও সেবা সম্পর্কে অবহিত করা হয় শিক্ষার্থীদের।
ইতালিতে থাকার সময় কিছু সতর্কতা
ছিঁচকে চোর এবং পকেটমারদের বিশেষ নজর থাকে অসতর্ক বিদেশীদের ওপর। তাই কিছু সাধারণ সতর্কতা অবলম্বন করা ভালো:
পাতালরেল, গণপরিবহন বা ভিড়ের মধ্যে সতর্ক থাকা

খাবারের দোকান, রেষ্টুরেন্ট এসব জায়গায় ব্যাগ, জ্যাকেট বা এ জাতীয় কিছু রেখে দূরে না যাওয়া।

মানিব্যাগ, পার্স ইত্যাদি লুকিয়ে রাখা।

হ্যান্ডব্যাগ বন্ধ রাখা।

পাসপোর্ট, নগদ অর্থ, ক্রেডিট কার্ড, ইত্যাদি একত্রে না রাখা।

একা হলে অচেনা জায়গা এড়িয়ে চলা।

গাড়ি পার্ক করার ক্ষেত্রে সতর্কতা

অল্প আলোকিত স্থানে গাড়ি না রাখা।

মূল্যবান জিনিসপত্র গাড়িতে দৃশ্যমান না রাখা।

নারীদের হয়রানি এড়াতে সতর্কতা
বাস বা রেলস্টেশনের পেছনের রাস্তা এড়িয়ে চলা।

রাতে রাস্তায় একা না হাঁটা।

গণপরিবহন এবং ট্যাক্সি নিরাপদ। তবে রাতে বা ভোরে একা যতায়াত না করা উচিত।

ট্রেনে বা মেট্রোরেলে কোন কামরায় একা না বসা।

অপরিচিত কারো বাহনে চড়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা না করা।

এখন ইতালিতে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ৫৮টি, সরকার অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ১৭ টি এবং বিদেশীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ২টি।
সেমিস্টার পদ্ধতি ও অন্যান্য
দুই সেমিস্টার মিলিয়ে এক শিক্ষাবর্ষ ধরা হয় ইতালিতে। প্রথম সেমিস্টার শুরু হয় সেপ্টেম্বর/অক্টোবরে আর শেষ হয় জানুয়ারি/ফেব্রুয়ারিতে। দ্বিতীয় সেমিস্টার শুরু হয় ফেব্রুয়ারিতে আর শেষ হয় জুলাই-এ। ঠিক কোন তারিখে সেমিস্টার শুরু হবে সেটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর নির্ভর করে। প্রতি সেমিস্টারের দৈর্ঘ্য ২০ সপ্তাহ; ১৪ সপ্তাহ ক্লাশের জন্য আর ৬ সপ্তাহ পরীক্ষার জন্য বরাদ্দ থাকে।
বছরে গড়ে ৮৫০ থেকে ১০০০ ইউরো খরচ হবে। তবে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর খরচ অনেক বেশি হয়ে থাকে। বৃত্তি, আর্থিক সাহায্য, আবাসন এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ইতালীয় এবং বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য। শিক্ষার্থীর প্রয়োজন এবং ফলাফলই বিবেচনার মাপকাঠি।
বিস্তারিত তথ্যের জন্য
উচ্চ শিক্ষার জন্য ইতালিতে আসার সুযোগ রয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশের অনেকে এ দেশে আসার জন্য বিভিন্ন মহলের শরণাপন্ন হয়ে প্রতারিত হন। দালালদের খপ্পরে পড়ে সর্বশান্ত হয়ে পড়েন। তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে আপনি ঘরে বসেই তথ্য পেয়ে যাবেন, কারো সহযোগিতার দরকার নেই। এ লিংগুলিতে ক্লিক করে জেনে নিতে পারেন ইতালির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য। ইতালিতে পড়তে আসতে আগ্রহীরা এসব লিংক ফলো করতে পারেন। আরো তথ্যের জন্য লেখকের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারেন।
http://www.study-in-italy.it/
http://www.daad.de/en/index.html
http://www.scholars4dev.com/
http://www.desperateguide.com/
http://www.unipi.it/
http://www.uniroma1.it/
http://ec.europa.eu/education/study-in-europe/index_en.html
http://www.unitn.it/en/ateneo/15404/enrolments
http://disi.unitn.it/announcements/267

বিদেশে উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের জন্য ভিজিট করুনঃ http://www.eduhighway.com
——————————————————————

🚩আমেরিকায় উচ্চশিক্ষা🚩
প্রথমেই বলে নেই এখানে উচ্চশিক্ষা বলতে আন্ডারগ্রাজুয়েট স্টাডিকে বুঝাচ্ছি আর আমেরিকা বলতে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র আর কানাডায় পড়াশোনার নিয়মাবলি লেখা হচ্ছে। যে কিছু লিখছি সেটা আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জানা কথাবার্তা-শোনা কথা নয়। চেষ্টা করবো সবকিছু সহজ করে বুঝিয়ে বলতে। তবু যদি কারো কাছে কোন অস্পষ্টতা লাগে-আমাকে যেকোন সময়ে ফোন করতে পারেন। সাহায্য করবার চেষ্টায় কোন ত্রুটি থাকবে না।
পুরো রচনাজুড়ে একটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে যে এখানে সাধারণত আর অধিকাংশ নিয়ে আলোচনা করে যাবো। কারণ আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রত্যেকটিতে নিয়ম কানুন আলাদা হওয়ায় প্রত্যেকটিতে আলাদা আলাদা কিছু নিয়ম থাকে। সেগুলোর পরেও সবগুলোতে সহজ ভাষায় একটা সামঞ্জস্য আছে। সেই সামঞ্জস্যের অংশটুকুন নিয়ে লেখা হচ্ছে। তারপরেও যে বিশ্ববিদ্যালয়ে এপ্লাই করতে চাচ্ছেন-তাদের স্পেশাল কোন নিয়মকানুন আছে কিনা সেটা তাদের ওয়েবসাইট থেকে দেখে নিতে অনুরোধ করবো।
🚩🚩🚩আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলতে গেলেই কিছু ব্যাপার জানতে হবে।
আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রক্রিয়া আমাদের ভর্তি প্রক্রিয়ার চেয়ে অনেক অনেক অনেক আলাদা।
🚩🚩প্রথমতঃ আসলে আমাদের দেশে যেমন একটা নির্দিষ্ট পরীক্ষায় ভালো করে সাথে সাথে একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে যাওয়া যায়-ওদের দেশের পদ্ধতিটা ঠিক এমন নয়। ভর্তির জন্য কিছু পরীক্ষা দেয়া লাগে বটে-তবে সেই পরীক্ষাগুলো ভর্তির অনেক অনেকগুলো অনুষঙ্গের মধ্যে একটা অনুষঙ্গ মাত্র-আর কিছুই নয়। পরীক্ষার রেজাল্ট যতটা গুরুত্বপূর্ণ-এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটি, এডমিশন এসে, লেটার অব রেকমেন্ডেশন ইত্যাদি সমভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আমি এমন অনেককেই চিনি যারা পরীক্ষায় মোটামুটি একটা স্কোর নিয়েও বাকি অনুষঙ্গগুলোর জোরে অনেক ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে।
🚩🚩দ্বিতীয়ত, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়াটি আসলে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ভর্তি করে নেয়-কোন সাবজেক্টে ভর্তি করে না। ওদের আন্ডারগ্রাজুয়েটে প্রথম দুই বছর মূলত সবাই মোটামোটি একই জিনিস পড়ে। এই দুইবছর চাইলে কেউ কোন নির্দিষ্ট সাবজেক্ট বাছাই নাও করতে পারে। ঘুরে ঘুরে সব সাবজেক্ট পড়ে পড়ে দেখতে পারে। এরপর দুইবছর পরে গিয়ে মেজর ডিক্লেয়ার করতে হয় অর্থাৎ যে সাবজেক্টে স্পেশালাইজ করতে চাও তার নাম বলতে হয়। কাজেই কোন ইউনিভার্সিটিতে চান্স পাওয়া মানেই মোটামুটিভাবে সব সাবজেক্টে পড়তে পারার স্বাধীনতা। তবে বিশেষ প্রতিষ্ঠানে বিশেষ বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে। বিশেষ নিয়মকানুনগুল সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে দেখে নিতে হবে।
🚩🚩তৃতীয়ত, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর সেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রেডিট ট্রান্সফার করে চলে যাওয়া যায়। ব্যাপারটা খুব কঠিন না। কাজেই সুঁচ হয়ে ঢুকে ফাল হয়ে বেরোনোর একটা উপায় থাকছে এবং এমন অনেককেই আমি চিনি যারা মোটামুটি গোছের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে পরে অনেক নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে পাস করেছে।
আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে কোটিখানেক টাকা লাগে না
অনেকের ধারণা আছে যে আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গেলে মহা বড়লোক হওয়া লাগে আর ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা দেখানো লাগে। আসলে ব্যাপারটা এরকম নয়। নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের কেউ যদি সেই পর্যায়ের মেধাবী হয়-তাহলে ফুল স্কলারশীপে আমেরিকায় পড়তে পারে। হ্যাঁ-এটা সত্যি যে গ্রাজুয়েট পর্যায়ের তুলনায় আন্ডারগ্রাজুয়েটে ফুল স্কলারশীপের সংখ্যা অনেক কম আর বেশ প্রতিযোগিতামূলক-তবে ব্যাপারটা অসম্ভব নয়। আমার মতন গাধাগোছের কেউ যদি ফুল স্কলারশীপ পেয়ে ফেলতে পারে-তাহলে অনেকেই চেষ্টা করলেই পারবে। অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুল স্কলারশীপ দেয় আর সেইগুলোর কয়েকটার নাম নিচে বললাম। বলে রাখি যে এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফুল স্কলারশীপে পড়ছে এমন মানুষদের আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি-কাজেই তথ্যে ভুল হবার সম্ভাবনা কম।

👇👇👇স্কলারশীপ পেতে প্রস্তুতি
ফুল স্কলারশীপ দেয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলো-

১)Amherst College

২)Dartmouth College

৩)Harvard University

৪)Massachusetts Institute of Technology

৫)Princeton University

৬)Yale University

৭) Goucher College

৮) Brown University

৯) Drexel University

১০)New York University

১১)Columbia University

১২)Duke University

১৩)Cornell University

১৪)Washington and Lee University

১৫)American University
এর বাইরেও আরো অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুল স্কলারশীপ দেয় যেগুলোর নাম একটু ঘাটাঘাটি করলে পাওয়া যাবে। এখন প্রশ্ন হলো কি দেখে আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই ফুল স্কলারশীপ বা এডমিশন ডিসিশনগুলো দেয়। আসলে একেক বিশ্ববিদ্যালয় একে জিনিস দেখলেও মোটামুটি একটা কমন লাইনআপ দেয়া যেতে পারে। সেইটার একটা লিস্টঃ

১)কমন এপ্লিকেশন আর কমন এপ্লিকেশনের এসে

২)SAT আর SAT Subject Test এবং IELTS

৩)একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট

৪)এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিস

৫) লেটার অব রেকমেন্ডেশন

১। কমন এপ্লিকেশন আর কমন এপ্লিকেশন এসে

কমন এপ্লিকেশন হল একটা কমন অনলাইন এপ্লিকেশন যেটা কিনা অধিকাংশ আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয় গ্রহণ করে। যারা করেনা-তাদের এপ্লিকেশনটাও অনেকটা কমন এপ্লিকেশনের মতন। কাজেই একবার কমন এপ্লিকেশন ফিল আপ করলে-সেখান থেকে কপি পেস্ট করে করে বাকি এপ্লিকেশনও ফিল আপ করা যায়।
কমন এপ্লিকেশনটা পাওয়া যায় এই ওয়েবসাইটেঃ http://www.commonapp.org এবার বলি কিভাবে ফিলআপ করতে হয়। ওয়েবসাইটে ঢুকেই প্রথমে ফেসবুকের মতন করে একটা একাউন্ট খুলতে হয় আর সেই একাউন্টটা দিয়ে লগইন করতে হয়। লগইন করলেই উপরে চারটা ট্যাবের মধ্যে একটা দেখা যাবে কমন এপ। ওইটা ক্লিক করলেই বামপাশে চারটা ট্যাব দেখা যাবে। এখানে অধিকাংশ ব্যাপারস্যাপার খুব স্বাভাবিক। নিজের নামধাম-বাপ মায়ের নামধাম এইসব। এছাড়াও এখানে একটা যায়গায় এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিসের একটা লিস্ট দিতে হয়। সেইটার ব্যাপারে পরে বলছি। একটা যায়গায় SAT-IELTS এর স্কোর দিতে হয়। একটা যায়গায় স্কুলের নামধাম লিখতে হয়। এগুলো ফেসবুক জেনারেশনের ছেলেপেলে একটু গুতাগুতি করলেই বুঝে ফেলবে। তবু যদি কারো বুঝতে সমস্যা হয়-আমি তো আছিই। আমাকে ফোন করে দিলেই সাহায্য করে বাধিত থাকবো।
এখানের যে ব্যাপারটা অনেকের বুঝতে ভুল হয় সেটা হলো গাইডেন্স কাউন্সিলর। এই বিষয়টা একটু বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন বোধ করছি।

🚩🚩গাইডেন্স কাউন্সিলরঃ আমেরিকান স্কুলগুলোতে একজন বিশেষ অফিসার থাকে যে ছেলেপুলের প্রোগ্রেস-ট্রোগ্রেসের খেয়াল রাখে। তাকে বলে গাইডেন্স কাউন্সিলর। আমাদের দেশের কিছু ইংরেজি মিডিয়াম স্কুল কলেজে গাইডেন্স কাউন্সিলর থাকলেও অধিকাংশ বাংলা মিডিয়াম স্কুল কলেজে গাইডেন্স কাউন্সিলর থাকে না। সেই ক্ষেত্রে নিজের পছন্দের কোন শিক্ষককে গাইডেন্স কাউন্সিলর বলে ঘোষনা দেয়া যায়। তার নামটা কমন এপ্লিকেশনের যথাযথ স্থানে লিখতে হয়। এই গাইডেন্স কাউন্সিলর খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার কেননা যাবতীয় একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট তার মারফতেই পাঠাতে হবে আর তার লেটার অব রেকমেন্ডেশন একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যপার। কাজেই দেখে শুনে বুঝে একজন ক্লোজ টিচারকে গাইডেন্স কাউন্সিলর বানাতে হবে যে কিনা তোমাকে ভালোমতন চেনে-জানে আর তোমাকে সাহায্য করতে ইচ্ছুক এবং অবশ্যই ইংরেজিতে খুব দখল।
কমন এপ্লিকেশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো কমন এপ্লিকেশনের এসে বা রচনা। এই বিষয়টাও একটু বুঝিয়ে বলার জন্য ব্যাখ্যা হিসাবে লিখছি-
🚩🚩এডমিশন এসেঃ অনেকের মতে এডমিশন এসে বা রচনাটাই ভর্তি প্রক্রিয়ার সবচেয়ে ভাইটাল অংশগুলোর মাঝে একটা। এই এসে দিয়ে একজন এডমিশন অফিসার শিক্ষার্থীকে চিনতে পারবে-জানতে পারবে। এসের টপিক থাকে এবং সেই টপিকে মোটামুটি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে তোমার এবং তোমার প্যাশনের সম্বন্ধে জানতে চাওয়া হয়। এই এসেটা একটু ধীরেসুস্থে-বুঝে শুনে লিখতে হবে। এই এসেটা এমন ভাবে লিখতে হবে যাতে সবার থেকে আলাদা করে তোমার লেখাটা ফুটে ওঠে। এসে লেখার তেমন কোন নিয়মকানুন নেই তবে একটা ইনফরমাল আপন-আপন আবহাওয়া আছে যেটা আমাদের অতিফরমাল এসএসসির ‘ক্লাইমেট চেইঞ্জ’ মার্কা রচনার অনেকটাই বিপরীত। কাজেই এই ভাবধারাটা বোঝার জন্য কিছু স্যাম্পল এসে পড়া যেতে পারে। গুগলে সার্চ দিলেই অনেক স্যাম্পল এডমিশন এসে পাওয়া যাবে। কেউ যদি চায় তাহলে https://www.facebook.com/groups/BdBeyondBorder এই গ্রুপটাতে গিয়ে ফাইল সেকশনের স্যাম্পল এসেগুলোও দেখতে পারে। স্যাম্পল এসে ছাড়াও এখানে আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় আর প্রয়োজনে অনেক প্রশ্ন পোস্টও করা যায়। কাজেই ভর্তিচ্ছু সকলকে বলবো গ্রুপটা একবার ঘুরে দেখতে।

২। SAT এবং SAT Subject Tests

এডমিশনের এই অংশটাকে নিয়ে অনেকে অনেক স্বাচ্ছন্দ বোধ করতে পারেন কারণ এই পরীক্ষাত ব্যাপারটি আমাদের মোটামুটি পরিচিত। আর এই পরীক্ষাটি একক নির্ধারণী বিষয় না হলেও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই বিষয়ে জানাও দরকার।
প্রথমে বলি SAT এর কথা। এটা একটা বেসিক পরীক্ষা। আপনি যে বিষয়েই পড়তে চান না কেন-আপনাকে এই পরীক্ষাটি দিতে হবে। পরীক্ষাটি ২৪০০ মার্কে হয়-চার ঘন্টার পরীক্ষা।পরীক্ষা নেয়া হয় তিনটি অংশে-ম্যাথ,ক্রিটিকাল রিডিং আর রাইটিং।তিনটাতে আটশ করে মোট চব্বিশ শো।
ম্যাথ অংশটা বেশ সোজা। মোটামুটি মাথা ঠান্ডা রাখলে ক্লাস টেনের একটা ছেলেরও ম্যাথগুলো ভুল করার কোন কারণ নেই। তবে সমস্যাটা হলো-কম সময়ে অনেক বেশি অংক করতে হয়। কাজেই এই সময়ের মধ্যে মাথা ঠান্ডা রেখে ঠিকঠাক অংক করতে পারাটা একটা প্রাকটিসের ব্যাপার।
রাইটিং অংশ মূলত গ্রামারভিত্তিক। এরর আইডেন্টিফিকেশন-রিরাইটিং এর মতন বিষয়গুলো থাকে। তবে এই গ্রামারটুকুন আমাদের চিরপরিচিত ব্রিটিশ গ্রামার থেকে একটু ভিন্ন ধাঁচের। একটু বেশি কনভারসেশনাল। তবে মোটামুটি একটু পড়াশোনা আর কারো সামান্য গাইডেন্স পেলে ব্যাপারটা বেশি একটা কঠিন নয়। সাথে অবশ্য একটা এসেও লিখতে হয়। কেউ যদি এডমিশন এসে নিয়ে একটু ঘাটাঘাটি করে তাহলে এই এসেতেও খুব একটা সমস্যা হবেনা-তবু বইয়ের কিছু মডেল দেখা যেতে পারে।
রিডিং অংশটা একটু ক্রিটিকাল বলেই নাম ক্রিটিক্যাল রিডিং। আনসিন পেসেজ থাকে-সেগুলোর থেকে প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। এইখানে কিছু টিপস-ট্রিকসের ব্যাপার আছে। বই আর কারো সাহায্য নিলে সহজেই পারা যেতে পারে। সাথে যে ঝামেলার জিনিসটা আছে সেটা হল সেনটেন্স কমপ্লিশন। এইখানে প্রচুর ভোকাবুলারির জ্ঞান লাগে আর বেশ কিছু শব্দ মুখস্ত করতে হয়। তাই বলে ডিকশনারি নিয়ে বসে যেতে হবে এমন নয়। শব্দ শেখারও কিছু কায়দা আছে।
এইসব কায়দা-নিয়মকানুন-টিপস ট্রিকস খুব সুন্দর করে লেখা আছে Princeton Review এর Cracking the SAT বইটাতে। এছাড়া Barrons এর SAT বইটাও বেশ ভালো। তবে প্রাকটিস টেস্টের জন্য Collegeboard এর নীল রঙের SAT বইটি ব্যবহার করা নিরাপদ।
এই বইগুলোর দাম খুব বেশি না। নীলক্ষেতে আর চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লায় সহজেই পাওয়া যেতে পারে।তেমন সমস্যা নেই।
কেউ প্লিজ মনে করবেন না যে পরিক্ষাটি খুব কঠিন-কারণ এটা খুব একটা কঠিন নয়। শুধু দরকার একটু পরিশ্রম আর গাইডেন্স। আমার SAT এর সেরা স্কোর ২২০০ যেটা কিনা ৯৯ পারসেন্টাইল-অর্থাৎ সারা পৃথিবীর শতকরা ৯৯ জন পরীক্ষার্থীর চেয়ে বেশি-আর বিশ্বাস করেন-আমি একদম সুপার জিনিয়াস লেভেলের কেউ না। আর আমি যখন পরীক্ষার পর কিছু মানুষকে SAT পরীক্ষার জন্য পড়িয়েছি তখন তাদেরকেও সহজেই ২০০০+ পাবার জন্য সাহায্য করতে পেরেছি। কাজেই ব্যাপারটা নিয়ে এতো ঘাবড়ানোর কিছুই নেই।
কেউ যদি SAT এর জন্য কোচিং করতে চান তাহলে ঢাকায় Mentors আর চট্টগ্রামে Executive Care এ যোগাযোগ করতে পারেন। ঢাকায় চারিদিকে Mentors ছড়ানো আর চট্টগ্রামে Executive Care হলো ইঞ্জিনিয়রস ইন্সটিউটে। এরা তাদের কোর্সটা নিয়ে অনেক বেশি সিরিয়াস এবং বেশ ভালো অংকের টাকা চার্জ করে। আমার জানামতে এরা তিনমাসের কোর্সের জন্য বিশ হাজার টাকার মতন নিয়ে থাকে। এই ব্যাপারটা অনেকের কাছে পেশাদারিত্ব-অনেকের কাছে কমার্শিয়াল ব্যবহার। তবে কোচিং ছাড়া পরীক্ষাটা দিয়ে ফেলা অসম্ভব কিছু না আর আমি সাহসী শিক্ষার্থীদের সেটা করতেই অনুপ্রাণিত করবো। সবচেয়ে ভাল হয় যদি প্রাইভেট কোন টিউটর খুঁজে পান-কারণ সেক্ষেত্রে আপনার নির্দিষ্ট সমস্যা-বিশেষ করে এসের ব্যাপারে খুব ভালো নজরদারি পেরে পারেন।
আমি সবকিছু খোলাখুলি জানিয়ে রাখছি বলে কারো কাছে চাঁছাছোলা মনে হলে দুঃখিত-আমি আসলে অন্যদের মতন ঘোলাটে করে একটা ব্যাখা লিখতে চাইনি। যেমন ঘটনা তেমন করে লিখে দিলাম। এখন আপনারা বুঝে নিন।
যাহোক SAT পরীক্ষাটি নেয় Collegeboard নামের একটা বেসরকারী সংগঠন। এটার জন্য অনলাইনে রেজিস্টার করা যায় বা Mentors থেকেও রেজিস্ট্রেশন করা যায়। Mentors থেকে রেজিস্ট্রেশন করাই কম ঝুকিপূর্ণ। চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীতা Executive Care এর সাহায্য নিতে পারেন।
SAT subject test হলো মূলত নির্দিষ্ট সাবজেক্টের উপর একেকটা পরীক্ষা। এই পরীক্ষাটি না দিলেও চলে তবে বিশেষত বিজ্ঞানের বিষয়গুলোতে পড়তে চায় এমন মানুষদের এই পরীক্ষাটি দেয়া উচিত। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় নির্দিষ্ট কোর্সের জন্য আবার এটাকে অনিবার্য বলেও ঘোষণা দেয়। Mathematics,Physics,Chemistry,Biology বিভিন্ন বিষয়ে Subject test দেয়া যায়। কে কোন কোন সাবজেক্ট টেস্ট দেবে এটা তার সাবজেক্ট চয়েসের ওপর নির্ভর করে। আমার এক বন্ধু গণিতে অনার্স করতে চায়-সে Mathematics আর Physics এর Subject Test দিয়েছে। এই সাবজেক্ট টেস্টগুলোর রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াও এমনি SAT এর মতন।এগুলোর জন্যেও Barrons এর বই পাওয়া যায়। সিলেবাসগুলো আমাদের ইন্টারের সিলেবাসের মতই আর প্রশ্ন বেশ একটা কঠিন নয়। Barrons থেকে কিছু প্রাকটিস করলেই পারা যেতে পারে।
IELTS একটা অপরিহার্য পরীক্ষা। অনেকে আবার IELTS এর বদলে TOEFL ও দেয়-কিন্তু IELTS সহজতর আর অনেক দেশের জন্য প্রযোজ্য। মূলত এই পরীক্ষার ফলাফলের উপর রেজাল্ট নির্ভর করেনা। এইটা একটা ইংরেজিতে কমিউনিকেট করতে পারার প্রমাণ। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় IELTS এর জন্য একটা পাসিং মার্জিন দেয় (সাধারণত 6) তার বেশি পেলেই তারা ইংরেজিতে পারদর্শী ধরে নেয়। IELTS এর জন্যে অনেকেই কোচিং করায়। রাস্তায় হাটলেই হাজার বিজ্ঞাপন দেখা যায়। তবে যে SAT দিয়েছে তার কাছে IELTS পানিভাত।

৩। একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট

একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট হিসেবে এসএসসির সনদ,ফার্স্ট ইয়ার ফাইনালের রেজাল্ট আর সেকেন্ড ইয়ারের টেস্টের রেজাল্ট জমা দিতে হয়। ভয় পাওয়ার কারণ নেই-এইগুলা খুব একটা অতিজরুরি না। কিন্তু প্রথম সারির ছাত্ররা স্কলারশীপের ক্ষেত্রে কিছু অগ্রাধিকার পায়। এই ট্রান্সক্রিপ্টগুলো একাডেমিক কাউন্সিলরের মারফত পাঠাতে হবে। নিজের মতন করে কাউন্সিলরকেও একটা কমন এপ একাউন্ট খুলে দিতে হবে আর সেইখানে এই ডকুমেন্টগুলো পিডিএফ আকারে আপলোড দিতে হবে।

৪। এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটি

এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটি ওদের কাছে বড় একটা বিবেচনার বিষয়। এই জিনিসটা এডমিশনের কাজে অনেক সাহায্য করে। মূলত কারো যদি কোন চ্যারিটি-সোশ্যাল ওয়ার্ক বা আন্তর্জাতিক সনদ থাকে, তাহলে সেটাকে ওরা বিশেষ মূল্যায়ন করে। তবে কারো যদি মনে হয় তার এরপর কোন এচিভমেন্ট নেই-তাহলে খুব ভয় পাবার কিছু নেই কারণ অনেকেই আছে যাদের এমন কোন রেকর্ড নেই কিন্তু অন্য অনুষঙ্গগুলো এতটাই পাকপোক্ত যে অনেক ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছো

৫। লেটার অব রেকমেন্ডেশন

লাস্ট বাড় নট দ্য লিস্ট-লেটার অব রেকমেন্ডেশন!

এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার। মূলত গাইডেন্স কাউন্সিলর সহ আরো দুইজন টিচারের কাছ থেকে সুপারিশ পত্র নিয়ে সেটা সাবমিট করতে হয়। কমন এপ্লিকেশনে একাউন্টের মাধ্যমে বা মেইল করে সেগুল ইউনিভার্সিটিতে পাঠানো যায়। তবে কোনভাবেই এই চিঠিগুলো যাতে ম্যাড়মেড়ে চারিত্রিক সনদের মতন না হয়। পত্রটা পড়ে মনে হতে হবে যে পত্রকার শিক্ষার্থীকে ব্যক্তিগতভাবে চেনে এবং ব্যক্তিগতভাবে তার গুণাবলি তুলে ধরে তাকে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা যোগ্য চয়েস হিসেবে ব্যাখ্যা করবে। এই পত্রটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে সবচেয়ে ভালো হয় যদি শিক্ষক আর ছাত্র মিলেঝুলে ঠিক করে যে কি কি লেখা যায়।

✏✏✏লেখাপড়ার ভাষা
যুক্তরাষ্ট্র্রে লেখাপড়ার ভাষা ইংরেজি। তবে ভাষার ওপর দক্ষতা ও যোগ্যতা যাচাই করার জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন ফ্যাকাল্টি তাদের পছন্দ অনুযায়ী টেস্ট নিয়ে থাকে। যেমন: SAT, ACT, GMAT, GRE, IELTS, TOEFL, TSE ইত্যাদি। যারা অনার্স করতে চান, তাদের অবশ্যই SAT অথবা ACT পরীক্ষা দিতে হবে। বর্তমান মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য GRE টেস্টের নাম্বারটা গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়। এসব টেস্টের ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করতে পারেন:

http://sat.learnhub.com/

http://sat.collegeboard.org/home

http://www.act.org

http://www.mba.com

http://www.ets.org/gre

http://www.ielts.org

http://www.toefl.org
🚩কোর্সের মেয়াদ
এসোসিয়েট ডিগ্রি : কমপক্ষে ১২ বছরের শিক্ষাবর্ষ শেষে এসোসিয়েট ডিগ্রিতে ভর্তি হতে হয়। কোর্সের মেয়াদ ২ বছর।

✏✏✏ব্যাচেলর ডিগ্রি :

এখানেও ভর্তির ক্ষেত্রে কমপক্ষে ১২ বছরের শিক্ষাবর্ষ অতিক্রম করতে হয়। কোর্সের মেয়াদ চার বছর।
✏✏✏মাস্টার্স ডিগ্রি :

কমপক্ষে ১৬ বছরের শিক্ষাবর্ষ অতিক্রমের পর মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য আবেদন করা যায়। কোর্সের মেয়াদ দুই বছর।
✏✏✏ডক্টরেট ডিগ্রি :

মাস্টার্স অথবা এমফিল পর্যায়ের শিক্ষাবর্ষ শেষে ডক্টরেট করার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এ কোর্স শেষ করতে সাধারণত তিন থেকে ছয় বছর লাগে।

🚩শিক্ষা ব্যবস্থা
এখানকার উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের সময়কাল আমাদের দেশের মতোই। ব্যাচেলর কোর্স করতে ৩-৪ বছর আর মাস্টার্স করতে ২ বছর লাগে। তবে পিএইচডি’র সময়সীমা রিসার্চের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে। তাছাড়া এখানে নন- ডিগ্রি প্রোগ্রামেরও আয়োজন করা হয়।

✏✏✏পড়ার বিষয়
প্রায় সব বিষয়েই যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চতর ডিগ্রি নেয়া যায়। তবে অধিকাংশ শিক্ষার্থী সেখানে গবেষণামূলক বিষয় বা ইঞ্জিনিয়ারিং করতে যায়। উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় হলো- ফিজিক্স, ম্যাথ, কেমিস্ট্রি, বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন, আর্টস, সোশ্যাল সায়েন্স, আইন, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রভৃতি। এছাড়া মেডিক্যাল সায়েন্সের নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ের ওপর গবেষণা করা যায়।

🚩🚩খরচ
যুক্তরাষ্ট্রে লেখাপড়ার মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি খরচ অনেক বেশি। চার বছরের কোর্স করতে টিউশন ফি ১৫-২০ লাখ টাকা। তাছাড়া মাস্টার্স কোর্স করতে টার্ম প্রতি প্রায় ৩০-৭০ হাজার টাকা মত লাগবে।

🚩🚩স্কলারশিপ ও পার্টটাইম জব
আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের অধ্যয়নকালীন চাকুরি করার কোনো সুযোগ নেই, তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে ক্যাম্পাসভিত্তিক চাকুরি করা যায়। বাংলাদেশ থেকে আগত শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করে ঘন্টায় ছয় থেকে ২৫ ডলার উপার্জন করতে পারেন। ভাষাগত দক্ষতা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ থাকলে অফিসিয়াল কাজ করার সুযোগ পেতে পারেন। কম আয়ের কাজগুলো এখানেও তুলনামূলক বেশি পরিশ্রমের।আছে স্কলারশিপ পাওয়ার ব্যবস্থা। এক্ষেত্রে বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে তাদের সর্বশেষ স্কলারশিপের ব্যাপারে জানতে পারেন। বিস্তারিত জানতে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসেও যোগাযোগ করতে পারেন। তবে স্কলারশিপের জন্য অবশ্যই বিগত পরীক্ষার ফলাফল ও ভর্তির আগে তারা যেসব পরীক্ষা নেবে তাতে নির্দিষ্ট মার্কস পেতে হবে। এ সংক্রান্ত কিছু লিংক-

http://www.educationusa.info/pages/students/finance.php

http://www.nafsa.org/students.sec/financial_aid_for_study

http://www.graduateshotline.com/costs.html
🚩🚩🚩ভর্তি এবং অতপর
আপনি যদি অনার্স কোর্স করতে যেতে চান, তবেSATঅথবা ACT পরীক্ষার পর আপনার পছন্দের কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে ভর্তিফরম সংগ্রহসহ যাবতীয় নিয়ম জেনে নিন। আর আপনি যদি গবেষণার কোনো বিষয়ে মাস্টার্স বা পিএইচডি কোর্সে ভর্তি হতে চান, তাহলে যার অধীনে আপনি গবেষণা করতে আগ্রহী, তাকে নিজের যোগ্যতা, দক্ষতা, থিসিস দিয়ে মোটিভেশান চালান। স্টেটমেন্ট অব মোটিভেশান সিভি পাঠান। ঘরে বসেই তাদের সাথে ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ বাড়ান। অত:পর সেখান থেকে সাড়া পেলে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস থেকে ভিসা সংগ্রহ করুন।

🚩থাকার ব্যবস্থা
ভর্তির পর অবশ্যই ক্লাস শুরুর আগেই সেখানে থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব হোস্টেল আছে, তারপরও অনেকেই মাসিক ব্যয়, যাতায়াত খরচ ও যাবতীয় সুবিধা বিবেচনা করে হোটেল, মোটেল, যুব হোস্টেল, আন্তর্জাতিক হাউজিং, এমনকি সেখানকার স্থানীয় ফ্যামিলির সাথেও থাকেন। আরো বেশি জানতে নিচের লিঙ্কে ভিজিট করুন- http://www.educationusa.info/pages/students/housing.php

✏✏✏✏সেরা বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ
মনে রাখা ভালো, যেহেতু বিদেশে প্রচুর প্রতিযোগিতা, তাই নিজের যোগ্যতা অনুযায় বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই করতে হবে। নিম্নে কিছু বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট দেয়া হলো। আগ্রহীরা ভিজিট করতে পারেন।

http://www.mit.edu

http://www.harvard.edu

http://www.yale.edu

http://www.stanford.edu

http://www.caltech.edu

http://www.upenn.edu

✏✏✏ডিগ্রী সমূহ
আমেরিকার উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে নিম্নলিখিত ডিগ্রীগুলো প্রদান করা হয়:

* এসোসিয়েট ডিগ্রী

* ব্যাচেলর ডিগ্রী

* মাষ্টার্স ডিগ্রী

* পি,এইচ,ডি বা ডক্টরেট ডিগ্রী

✏✏✏সেমিষ্টার
* স্প্রিং সেমিষ্টার: জানুয়ারী থেকে মে পর্যন্ত

* সামার সেমিষ্টার: মে থেকে জুলাই পর্যন্ত

* ফল সেমিষ্টার: আগষ্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত

✏✏✏আবেদন প্রক্রিয়া
* আপনার কাঙ্খিত বিভাগে আবেদনপত্র জমা দেয়ার শেষ সময়সীমা প্রথমে যাচাই করুন।
* আবেদন ফরম ও অন্যান্য তথ্যের জন্য সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডমিশন অফিস বরাবর লিখুন।
* বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকেও আপনি আবেদন ফরম ডাউনলোড করতে পারেন।
* অ্যাডমিশন অফিস আপনাকে ভর্তি সংক্রান্ত সব ধরনের তথ্য জানাবে।
* কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে ভর্তির পদ্ধতি চালু আছে।
* আপনি অন্তত: ১ বৎসর সময় হাতে রেখে ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়াটি শুরু করুন।
* বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সাধারণত ৬ থেকে ৮ মাসের মধ্যে তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন।
🚩প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
* পূরণকৃত আবেদনপত্র
* আবেদন ফি পরিশোধের প্রমানপত্র
*পূর্বতন শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের ইংরেজী সংস্করন। শুধুমাত্র অনুমোদিত যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রতিলিখন সম্পন্ন হতে হবে।
* স্কুল/কলেজের ছাড়পত্র
* টোফেল পরীক্ষার ফলাফলের সনদ
* প্রয়োজন সাপেক্ষে জি আর ই, স্যাট বা জি-ম্যাট এর ফলাফলের সনদ।
* পাসপোর্টের ফটোকপি
🚩আমেরিকায় পড়তে আগ্রহীদের কিছু পরামর্শ
আমেরিকায় উচ্চতর শিক্ষার ইচ্ছে বাংলাদেশের উঠতি বয়সী অনেক ছেলেমেয়ের থাকে। কিন্তু সঠিক দিক নির্দশনার অভাবে ঠিক সময় ঠিক পদক্ষেপ নিতে পারে না অনেকে। আমার এই লেখাটি এই প্রসেসকে আরেকটু সহজ করার লক্ষ্যে তৈরী।
🚩🚩পুরো প্রক্রিয়া কে পাঁচ ভাগে বিভক্ত করা যায়ঃ

১। কেন আমেরিকার শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ?

২। কিভাবে বিষয় বাছাই করতে হয়?

৩। কিভাবে ইউনিভার্সিটি বাছাই করতে হয়?

৪। ইউনিভার্সিটি আপনার কাছে কি চায়?

৫। ফান্ডিং কিভাবে জোগাড় করতে হয়?
১। কেন আমেরিকার শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ?

একসময় শিক্ষা দীক্ষায় চীন, ভারত, যুক্তরাজ্য ছিল মানুষের লক্ষ্য। ধীরে ধীরে সেরা শিক্ষাক্ষেত্রের মুকুটটা যুক্তরাষ্ট্র কিভাবে ছিনিয়ে নিয়েছে সেটা আমার জানা নেই। তবে আজকের এই বিশ্বায়নের যুগে শিক্ষা দীক্ষায় প্রতিযোগিতা কম চলছে না। তাই কোন দেশের শিক্ষাকেই আমি ছোট করি না। তবুও যুক্তরাষ্ট্রের ডিগ্রীর দিকে অনেক ঝোক মানুষের। সবাই এখানে পড়তে আসতে চায়। কেন? কিভাবে?

কারন হিসেবে আমি যেগুলো চিহ্নিত করেছি সেগুলোর মধ্যে প্রথমেই আসে ভাল চাকুরী চট করে পেয়ে যাবার নিশ্চয়তা। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে বছর প্রতি ৫০-৬০ হাজার ডলারের চাকুরী পেয়ে গেলে জীবনে আর কি চাইবার থাকে। অন্যান্য ক্ষেত্রেও বেশ ভালো অবস্থা। বিশেষ করে ইলেকট্রিক্যাল আর কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং এ আরো ভাল বেতন। তবে তুলনা মূলক ভাবে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর প্রতিযোগিতা অনেক বেশী। চাকুরীর বাজার হিসেবে পড়াশোনার অন্যান্য ক্ষেত্রও কিন্তু খুব ভালো। তবে আর্টস বা কর্মাসে পড়তে আসলে কিন্তু ইংরেজী কমিউনিকেশনটাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
তবে যে বিষয়েই পড়ার চিন্তা করুন না কেন, বাজার যাচাই করে নিতে ভুলবেন না। এক্ষেত্রে বিভিন্ন চাকুরীর ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখাটা হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
বাইরে পড়তে চাইলে আরেকটা টেনশন থাকে সেটা হলো টিউশন পে করা যাবে কিভাবে? আমেরিকায় এ ব্যাপারে সুযোগের অভাব নেই। ইউনিভার্সিটিগুলোতে টিচিং , রিসার্চ, গ্রাজুয়েট এসিসটেন্টশীপ মেলা তেমন দুষ্কর নয়। তার উপর আছে ঘন্টাচুক্তিতে চাকুরী, বাইরে বিভিন্ন দোকানে চাকুরী। আর প্রোগ্রামীং বা ওয়েব ডেভলপমেন্টের কাজ জানা থাকলে তো ‘লারে লাপপা’। টিচিং এসিসটেন্টদেরকে বিভিন্ন কোর্সের খাতা দেখা, ছাত্রদের সাহায্য করার কাজ করতে হয়। রিসার্চ এসিসটেন্টদেরকে কোন প্রফেসরের আওতায় কোন গবেষনা জায়ঃ সাহায্য করতে হয়। এই দুইধরনের কাজে ইউনিভার্সিটি থেকে টিউশন পুরোটা দিয়ে দেয়, আর থাকা খাওয়ার জন্য মাসে বারশ থেকে পনেরশ ডলার বেতন। তবে বিভিন্ন দোকানে চাকুরীটা সত্যিই খুব কষ্টকর এবং আমাদের বাঙ্গালী মানসিকতার উপর বড় ধকল।
আরেকটা ব্যাপার হলো আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পড়তে আসলে কিন্তু এইসব চাকুরী মেলা প্রায় অসম্ভব। তাই এক্ষেত্রে বেশীরভাগকে বাইরে ঘন্টা চুক্তির কাজ করতে হয়। কিন্তু মাস্টার্স বা পিএইচডি করতে আসলে এসব ফান্ডিং পাওয়া বেশ সহজ হয়ে যায়। তাই যত বড় ডিগ্রীতে এনরোল করবেন তত সুযোগ বেশী।এরপরে আসে শিক্ষাদীক্ষা। আমেরিকার শিক্ষা পদ্ধতি সারা দুনিয়ায় স্বীকৃত। তাই এখান থেকে একটা ডিগ্রী বাগাতে পারলে পৃথিবীর যেকোন জায়গায় সেটার স্বীকৃতি থাকবে বলাই বাহুল্য। গবেষনা, বা সাধারন পড়াশোনা এত বাস্তব কাজের সাথে সম্পৃক্ত যে চাকুরীর ক্ষেত্রে কোন অসুবিধাই হয়না। যে সমস্ত বিষয়ের বাস্তব এপ্লিকেশন নেই সেসব জিনিস এরা সিলেবাস থেকে কবেই বের করে দিয়েছে! এব্যাপারে আমার প্রফেসরের একটা কথা মনে পড়ল। তিনি বলছিলেন, ‘আমরা এখানে শিক্ষা প্রদান করি না, শিক্ষা বিক্রী করি। তাই যারা শিক্ষা কিনছে তারা যেন না ঠকে সেটা আমাদের দেখতে হয়।
‘তাছাড়া আরো একটা কিছু কিছু কারন আছে। তার মধ্যে একটা হল এখানকার সমাজ ব্যবস্থা। অরূপ সেদিন যেমনটা বলল, মানুষের ব্যবহার এখানে এত ভাল! সকাল বেলা দেখা হলে চেনে না জানে না এমন লোকও কি সুন্দর একটা হাসি দিয়ে বলে গুড মনিং। বিদায়ের সময় কি সুন্দর করে বলে হ্যাভ অ্যা নাইস ডে। এই সমস্ত সোশ্যাল এলিমেন্ট সত্যিই অতুলনীয়।
তাছাড়া জীবন যাপনে, ভাল এবং সেরা চিকিৎসার নিশ্চয়তা, খাবার দাবার শতকরা ভাগ ভাল হবার নিশ্চয়তা, পৃথিবীর সেরা যে কোন পন্য বা সেবা পাবার নিশ্চয়তা এসব তো আছেই। আর আপনি আপনার ধর্ম কর্ম নিয়ে আপনার মতো করে বাঁচুন আপনাকে কেউ ঘাঁটাবে না, বরং আপনাকে সাহায্যই করবে। আগে আমেরিকান সমাজকে মিশ্র সমাজ ব্যবস্থা বলা হত। কিন্তু সব জাতির লোক এখানে তাদের স্বাতন্ত্র্য নিয়ে থাকতে পারে বলে এখন এটাকে ‘সালাদ সোসাইটি’ বলা হয়।
এই সমস্ত বিষয় ইউরোপের বা এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক আকর্ষণীয় বলে আমেরিকা সত্যিই উচ্চতর শিক্ষার জন্য একটি ভাল পছন্দ।

২। কিভাবে বিষয় বাছাই করতে হয়?

বিষয় বাছাই করা জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। আপনার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে একটি সঠিক বা ভুল সিদ্ধান্ত। আমাদের দেশে ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা করতে দেখা যায় না বেশী। একেক সময় একেক বিষয়ের প্রতি ক্রেজ ওঠে আর সবাই দল বেঁধে সেই বিষয়ে পড়ার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে। আন্ডারগ্রাজুয়েট শেষে সেই বিষয়ের কোন চাকুরী পাওয়া যাবে কিনা, ১০/১৫ বছর পর সে ধরনের চাকুরী থাকবে কিনা, বিষয়টি ছাত্রটির জন্য উপযুক্ত কিনা, ভবিষ্যতে উচ্চতর শিক্ষা লাভের জন্য উপযুক্ত কিনা এসব কিছু চিন্তা না করেই বাতাসে ভেসে বেড়ানো ক্রেজের উপর অভিভাবক এবং ছাত্ররা সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। মজার ব্যপার হচ্ছে আমি নিজেও এর ব্যতিক্রম নই।
আমার লেখার ফোকাস হচ্ছে আমেরিকায় উচ্চতর শিক্ষা। তাই বিষয়টাকে আমি বাংলাদেশের পারস্পেকটিভে বা আন্ডারগ্রাজু্যয়েট পার্সস্পেটিভে আপাতত আলোচনা করব না। উচ্চতর শিক্ষা বলতে আমি মাস্টর্াস বা পিএইচডি বুঝাচ্ছি এখানে।
আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শেষে কেন মানুষ উচ্চতর শিক্ষার কথা ভাবে? এক. জ্ঞান বাড়ানোর জন্য। আমার বুনো আন্দাজ হচ্ছে বড়জোড় ২-৩% ভাগ ছাত্র এই ক্যাটাগরীতে পড়বে। দুই. ভাল বেতনের, নির্ভরযোগ্য চাকুরীর জন্য। অধিকাংশ ছাত্র এই ক্যাটাগরীতে পড়বে। তিন. ‘বেকার হয়ে তো বসেই আছি, মার্স্টাসটা করেই ফেলি’। একটা বড় অংশের ছাত্র এই ক্যাটাগরীতে পড়বে। আমার লেখার টার্গেট এই শেষ দুই ক্যাটাগরীর ছাত্র। তবে আমি নিজেই এখন ছাত্র, আমার পদ্ধতির বেশীরভাগই এক্সপেরিমেন্টাল। এর কতটা সত্যি সত্যি কারে কাজে লাগবে সেটা নিয়ে আমি নিজেই সন্দিহান। তবুও আমার ধারনা গুলো কারো কাজে আসতে পারে ভেবে লিখে ফেলা।
চলতি হাওয়ার সাথে তাল মেলানো একটা ভাল পদ্ধতি হতে পারে। অর্থাৎ যে ক্রেজের নিন্দা আমি শুরুতেই করছিলাম সেটাই একটা ভাল পদ্ধতিও হতে পারে। বিভিন্ন বন্ধু বান্ধবের আড্ডায়, বা শিক্ষিত লোকের গল্প গুজবের সময় বিভিন্ন ফ্যাকচুয়াল ব্যাপার আলোচিত হয়। অনেকে অনেক পত্রিকা বা ব্লগ পড়ে থাকেন সেগুলো শেয়ার করেন। আর এভাবেই আস্তে আস্তে গুঞ্জন উঠতে পারে কোন একটা বিষয়ের উজ্জ্বল ভবিষ্যত নিয়ে। সুতরাং এই পদ্ধতিতে পাওয়া তথ্যকে অনেকাংশে নির্ভরযোগ্য মনে করা যেতে পারে। আমি এই পদ্ধতির কয়েকটা উদাহরন দিই।
মনে করুন আমার কাছে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করা কেউ জানতে চাইল কোন বিষয়ে মার্স্টাস বা পিএইচডি করতে আসা উচিত? ‘আমেরিকাতে এখন বায়োইঞ্জিনিয়ারিং খুব ভালো চলছে’ আমি এই উত্তরটা দিলাম। কিন্তু আমার এই ধারনাটা কিভাবে তৈরী হল? প্রথমত এখানে এসেই দেখলাম চোখের সামনে ঝকঝকে তকতকে বায়োইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট গড়ে উঠল। বেশ কয়েকজন ইন্ডিয়ান প্রতিবেশী দেখলাম পোস্টডক করছে এই বিষয়ে এবং তারা ওয়েল পেইড। তদুপরী বিভিন্ন আড্ডায় কিছু সাকশেস স্টোরী শুনে দৃঢ় বিশ্বাস হল যে এই বিষয়ের রমরমা অবস্থা। এক ইলেক্ট্রিক্যালের ভাইয়া বললেন তার প্রফেসর ইলেক্ট্রিক্যাল-বায়ো বিষয়ক গবেষনার জন্য প্রস্তাব করেছিল কোন এক জাতীয় গবেষনা কেন্দ্রের কাছে। সেই প্রফেসর যে পরিমান ফান্ডিং আশা করেছিল তারও দ্বিগুন পয়সা পেয়েছেন।এই চলতি বিষয় কোনটা জেনে নেয়াটা একটা ভাল শুরু হিসেবে ধরা যেতে পারে। সুতরাং প্রথম পদ্ধতি হিসেবে পরিচিত বন্ধু বান্ধব, মেন্টর এদের সাথে আলাপ করে জেনে নিন কোন কোন বিষয়ের পালে হাওয়া লেগেছে। কাগজে একটা তালিকা করে ফেলুন।
এরপরে যাচাই করে দেখুন ঐ বিষয়ের চাকুরীর বাজার কেমন। আমেরিকার জন্য বেশ কিছু ওয়েবসাইট আছে যারা চাকুরীর জন্য সাহায্য করে থাকে। এরকম কয়েকটি ওয়েবসাইট হচ্ছে: http://www.monster.com/, http://www.careerbuilder.com/, http://hotjobs.yahoo.com/ ইত্যাদি। এছাড়া গবেষনা ভিত্তিক চাকুরীর জন্য পিএইচডিস ওয়েবসাইট (http://www.phds.org/), বা বিষয়ের সাথে সর্ম্পকযুক্ত কোন ফোরাম আপনাকে সাহায্য করতে পারে।
এসমস্ত ওয়েবসাইটে গিয়ে রীতিমত সত্যিকারের চাকুরী প্রার্থী হিসেবে গবেষনা করে বের করুন, গড় পড়তা বেতন কত পেতে পারেন, বেতনের ধরন কিরকম (অর্থাৎ শুরুতে কিরকম বেতন, পরে সেটা কততে দাঁড়াবে), অন্যান্য কি কি সুবিধা দেয়, আপনার মার্স্টাস বা পিএইচডির মূল্য পাবেন কিনা (অর্থাৎ তুলনামূলক ভাবে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট যা আয় করে আর পিএইচডি করলে পরে যা আয় করে তার পার্থক্য কতটা), ভবিষ্যতে এই চাকুরী থাকবে কিনা, পদোন্নতি জনিত ব্যাপারটা কতটা ইফেক্টিভ, এইসব। অনেক সময় এই সমস্ত তথ্য সামারাইজ করে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় আর্টিকেল প্রকাশ করে। গুগল করে সেগুলোও পড়ে নিতে পারেন। তাতে অনেকটা সময় বাঁচবে। তবে এই সমস্ত রির্সাচ করা থাকলে ভবিষ্যতে চাকুরীর ক্ষেত্রে কোথায় কি করতে হবে সে ব্যাপারে আপনার দৃষ্টি পরিচ্ছন্ন থাকবে।
কোন একটি বিষয় পড়ার পর ভবিষ্যতে কি হতে পারে সেটা আন্দাজ করা খুব শক্ত। যেমন ধরুন পাঁচ/দশ বছর আগেও মাইক্রো-ইলেক্ট্রো মেকানিক্যাল সিস্টেম নামে একটা বেশ প্রমিজিং বিষয় ছিল উচ্চতর শিক্ষার জন্য। তখন অনেক রিসার্চার এই বিষয়ে সুইচ করেন। এখন হঠাৎ করে বাজার পড়ে যাওয়ায় সেই বিষয়ের ছাত্রদের অবস্থা বেশ নাজুক। তেমনি হঠাৎ করে লক্ষ্য করা গেছে যে ইন্টেলে আর লোক নিচ্ছে না। তো যারা এ বিষয়গুলোতে পড়াশোনা করছে তাদের কাছে বিষয়টা চিন্তার বইকি। এব্যাপারে সর্বোত্তম যেটা করা যেতে পারে সেটা হচ্ছে বিভিন্ন খবরা খবর, ফোরামে আলোচনা, ব্লগ এগুলো ঘেঁটে দেখা। এতে করে হয়ত একটা আন্দাজ পাওয়া যেতে পারে। উদাহরন স্বরূপ পিএইচডিস ওয়েবসাইটের আর্টিকেল গুলো পড়ে দেখতে পারেন।
এরপর আপনার পছন্দের বিষয়ের ব্যপার থাকে। সমস্ত কিছু বিবেচনা করার পর আপনার মনকে জিজ্ঞেস করে দেখুন যে বিষয়ে সবচেয়ে ভালো অবস্থা বলে মনে হচ্ছে সেটা আপনার মনপুত: হচ্ছে কিনা। কেননা শেষ পর্যন্ত আপনাকেই ঘানি টানতে হবে। তখন যদি আপনার সন্দেহ বা দোনোমনা থেকে থাকে সেটা মোটেই সুখকর হবে না।
এই পর্যায়ে এসে পুরো প্রসেসটার একটা আউটলাইন দাঁড় করানো যাক।
১। মেন্টর বা বন্ধু, সিনিয়র কেউ – এদের সাথে আলোচনা করে চলতি বিষয়গুলোর একটা তালিকা করুন।
২। জবের অবস্থা কেমন সেটা যাচাই করুন বিভিন্ন জবওয়েবসাইট ঘেঁটে।
৩। ভবিষ্যত কিরকম হতে পারে সেটা আন্দাজ করার চেষ্টা করুন।
৪। সবশেষে আপনার পছন্দের সাথে মিলিয়ে বিষয়গুলোকে প্রয়োরিটি দিন। অর্থাৎ ১০০ মধ্যে প্রতিটা বিষয়ের কোনটা কত পেল সেটা ঠিক করুন।

অনেক দেশ, যেমন ইন্ডিয়ায় বিভিন্ন ক্যারিয়ার কাউনেসলিংয়ের ব্যবস্থা আছে। আমাদের দেশে জিনিস সম্প্রতি তৈরী হতে যাচ্ছে। হয়ত কেউ কোথাও কোথাও এই ব্যাপারটা দেখেও থাকবেন। এরা এই সমস্ত জিনিস সম্বন্ধে ভালো জানে, তদুপরী আপনার অন্যান্য তথ্য জেনে আপনাকে ভাল পরামর্শও হয়ত দিতে পারবে। আধুনিক সব ক্যারিয়ার মেট্রিক্স তৈরী হয়েছে যেখানে একসেট প্রশ্ন উত্তরের মাধ্যমে যাচাই করা যেতে পারে আপনার জন্য সেরা বিষয় কোনটা হতে পারে। সুতরাং একবার চেষ্টা করে দেখতে পারেন এই পদ্ধতিতে।
এভাবে আগালে হয়ত আপনার কাঙ্খিত লক্ষ্যে আগানো অনেক সহজ হয়ে যাবে আপনার জন্য। অন্তত: আমার জন্য সহজ হয়েছিল যখন আমি মার্স্টাস করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম।

৩। কিভাবে ইউনিভার্সিটি বাছাই করতে হয়?

আপনি আমেরিকায় উচ্চতর শিক্ষা নিতে আসবেন কিনা আর আসলেও কোন বিষয়ে পড়তে আসবেন সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবার পর আসে ইউনিভার্সিটি বাছাইয়ের ব্যাপারটি।
কোন ইউনিভার্সিটি বেছে নেবেন? কেন বেছে নেবেন?এ ব্যাপারে কখন কিভাবে আগাবেন? ব্যাপারগুলো খুব কনফিউজিং বলে মনে হতে পারে। কিন্তু একটু পরিচিত হয়ে গেলে সেটা সহজ হয়ে আসবে আপনার জন্য।
কোন ইউনিভার্সিটি সেরা এটা একটা খুব সাধারন জিজ্ঞাসা। আর এই জিজ্ঞাসাকে সামনে রেখে ইউএসনিউজ প্রতিবছর একটা র‌্যাঙ্ক লিস্ট (http://www.usnews.com/usnews/edu/grad/rankings/rankindex_brief.php) প্রকাশ করে। এই র‌্যাঙ্ক লিস্টকে মোটামুটি সবাই বেশ ভাল বলেই মেনে নেয়। এই র‌্যাঙ্কিং করার সময় ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকের কোয়ালিটি, তাদের মোট প্রকাশ করা পেপার, সেই পেপারগুলোর মান, ইউনিভার্সিটিতে ছাত্রদের দেয়া আর্থিক সাহায্য এই সবকিছুকে বিবেচনা করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে ইউনিভার্সিটিতে পার্কিং সুবিধার মত অদরকারী বিষয়গুলোও বিবেচনা করা হয়, সেজন্য অনেকে এই র‌্যাকিং প্রথার বিরুদ্ধে মতামত দিয়ে থাকেন। এই র‌্যাংক লিস্টটা দেখতে হলে পয়সা দিতে হয়। তাই কেবল উপরের দিকের কয়েকটা ইউনিভার্সিটির নাম দেখা ছাড়া আর কিছুই করা যায় না এ দিয়ে।
এছাড়া ইউনিভার্সিটিগুলোর র‌্যাঙ্কিং করার জন্য পিএইচডিস অর্গ ওয়েবসাইটাও (http://www.phds.org/rankings/) দেখতে পারেন। সেখানে আপনার পছন্দের সিলেকশন ক্রাইটেরিয়া বাছাই করে ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্ক করতে পারেন। জিনিসটা খুব কাজের।
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের করা র‌্যাঙ্ক লিস্টের একটা রিভিউ ধরনের তৈরী করেছে ইলিনয় ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরী (http://www.library.uiuc.edu/edx/rankgrad.htm) সেখানে গিয়েও দেখে নিতে পারেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কোন একটি ইউনিভার্সিটিকে কিভাবে র্যাঙ্ক করছে।
সুতরাং প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আপনি ইউনিভার্সিটি গুলোর ধরন ধারন, আপনার বিষয়ের কোয়ালিটি এইসব জেনে নিলেন। এরপর আপনার নিজের কোয়ালিটির সর্ম্পকে একটু নজর দিতে হবে। যদি আপনি ইউনিভার্সিটি মাঝামাঝি ধরনের ছাত্র হন তাহলে মাঝারী ধরনের ইউনিভার্সিটির দিকে নজর দেয়া ভাল। আর সেই সাথে একটা একটু ভাল ধরনের, আর একটা একটু নীচু র‌্যাঙ্কিংয়ের ইউনিভার্সিটির দিকে নজর দেয়া উচিত। এভাবে র‌্যাঙ্ক লিস্ট থেকে ১০-২০টা ইউনিভার্সিটিকে টার্গেট করে ফেলুন।এরপর টার্গেট করা ইউনিভার্সিটি গুলোর ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখুন আপনি যে বিষয়ে পড়তে চাচ্ছেন সে সব বিষয়ে সেই ইউনিভার্সিটিতে কোন প্রফেসর কাজ করেন কিনা। করলে কি ধরনের কাজ করে থাকেন। প্রফেসর বা সেখানে কাজ করছে এরকম কোন ছাত্রকে সরাসরি ইমেইল করে আলাপ করুন কাজের ধরন সর্ম্পকে। দেখুন সেটা আপনার মনপুত: হচ্ছে কিনা। যেসব ইউনিভার্সিটির কাজ আপনার মন:পুত হচ্ছে না সেগুলোকে বাদ দিয়ে দিন আপনার লিস্ট থেকে।
আরও দেখুন যে প্রফেসরকে পছন্দ হয়েছে তার সাথে কতজন কাজ করে। সেমস্ত ছাত্রের কোয়ালিটি কেমন। সেই প্রফেসরের কোয়ালিটিই বা কেমন। লোকটা মানুষ হিসেবে কেমন। তার সাথের ছাত্ররা কেমন আর্থিক সাহায্য পায় এইসবও দেখুন।
প্রতিটা ইউনিভার্সিটির পড়ালেখার খরচ কত সেটাও দেখুন। প্রতিটা ইউনিভার্সিটির ওয়েব পেইজে সার্চ করার অপশন থাকে সেটা ব্যবহার করুন। এ পর্যায়ে সে সমস্ত তথ্য আপনার টুকে রাখা দরকার সেগুলো হল:
১। ইউনিভার্সিটি কোথায় অবস্থিত
২। আপনার পছন্দের বিষয়ে কোন কোন প্রফেসের কাজ করছে, তাদরে বৃত্তান্ত
৩। ইউনিভার্সিটির খরচাপাতি কেমন
৪। ভর্তির জন্য কি চাই?

ক. ডেডলাইন কবে

খ. টোফেল কত চায়

গ. জিআরই কত চায়

ঘ. এপ্লিকেশন ফি কত

৫। ইউনিভার্সিটি যেখানে অবস্থিত সেখানকার জীবন যাত্রার মান কেমন
৬। ইউনিভার্সিটি যেখানে অবস্থিত সেখানকার আবহাওয়া কেমন?

এই সমস্ত তথ্য যোগাড় হয়ে গেলে পরে আপনার ইউনিভার্সিটি গুলো সর্ম্পকে মোটামুটি একটা ধারনা চলে আসবে। কোনটাতে এপ্লাই করা যায় কোনটাতে যায় না তখন সে ব্যাপারে আপনি সিদ্ধান্তে আসতে পারবেন। ইউনিভার্সিটির ওয়েবপেইজে বাংলাদেশ সার্চ করে দুই একটা বাঙ্গালী যোগাড় করে নিন। তাদের যোগাযোগ করে জেনে নিন অন্যান্য তথ্য।
এ পর্যায়ে আপনার লিস্টটা ধরে ইউনিভার্সিটিগুলোতে এপ্লাই করার প্রস্তুতি নিতে পারেন।
৪। ইউনিভার্সিটি আপনার কাছে কি চায়?

ভর্তির জন্য ইউনিভার্সিটি কি চায়? আপনার কোন কোন যোগ্যতা তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ? কিভাবে প্রস্তুতি নেবেন আমেরিকার ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির জন্য?
ভর্তির জন্য আপনার যে সমস্ত যোগ্যতা দেখবে সেগুলো একটা তালিকা আকারে দেয়া যাক প্রথমে:
১। আপনার ইংরেজীতে কমিউনিকেশনের ক্ষমতা

২। আপনার বুদ্ধিমত্তা – গানিতিক, যৌক্তিক, (ইংরেজী) ভাষাগত দক্ষতা

৩। নিজেকে প্রকাশ করবার বা বিক্রি করবার ক্ষমতা

৪। শিক্ষা এবং কাজের ব্যাপারে আপনার দক্ষতা

৫। আপনার শিক্ষা এবং তার মান
৬। কোন কোন ক্ষেত্রে কোন কোন ইউনিভার্সিটি আপনার টিউশন ফি দেবার মত অর্থনৈতিক সচ্ছলতা আছে কিনা সেটাও দেখে থাকে
আপনার ইংরেজী কমিউনিকেশনের যোগ্যতা পরিমাপের পদ্ধতির জন্য ইউনিভার্সিটিগুলো নির্ভর করে টোফেলের উপর। টোফেল একটি পরীক্ষা যেখানে আপনার ইংরেজী শোনা (কতগুলো কথা হেডফোনের মাধ্যমে শুনে কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে), ইংরেজী পড়া (কতগুলো প্রশ্ন পড়ে উত্তর করতে হবে), ইংরেজী লেখা (দুটো রচনা লিখতে হবে) এইসব যাচাই করা হয়। শুনেছিলাম বর্তমান টোফেলে ইংরেজী বলা নামক একটা অংশ থাকবে। কম্পিউটার ভিত্তিক টেস্টিং এ টোফেলে ৩০০র মধ্যে ২৪০ থাকলে বেশীরভাগ ইউনিভার্সিটিতে গ্রহনযোগ্যতা পাওয়া যায়। তবে আপনার পছন্দ করা ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইট থেকে এব্যাপারে আরো জানতে পারবেন।
ইদানীং ইন্টারনেট বেজড টেস্টিং বলে একটা নতুন ধরনের পদ্ধতি বের করেছে টোফেল অথরিটি। ব্যাপারটা সর্ম্পকে আমার ধারনা নেই। এ ব্যাপারে আরো বিস্তারিত জানতে http://www.ets.org/
আপনার বুদ্ধিমত্তার যাচাই করবার জন্য ইউনিভার্সিটি গুলো নির্ভর করে থাকে জিএরই নামের টেস্টের উপর। এতে তিনটি সেকশন থাকে – গানিতিক সমস্যা সম্বলিত সেকশন (মোট নাম্বার ৮০০), ইংরেজী ভাষার দখল সর্ম্পকিত একটি সেকশন (মোট নাম্বার ৮০০), আর যুক্তিভিত্তিক রচনা লেখবার সেকশন (মোট নাম্বার ৬)। মোট কত নম্বর পেতে হবে সে ব্যাপারে সাধারনত ধরা বাঁধা নিয়ম থাকেনা। তবু ইউনিভার্সিটির ওয়েব পেইজ ঘেঁটে দেখতে ভুলবেন না। বিস্তারিত জানতে http://www.ets.org/portal/site/ets/menuitem.1488512ecfd5b8849a77b13bc3921509/?vgnextoid=e1b42d3631df4010VgnVCM10000022f95190RCRD&vgnextchannel=5416e3b5f64f4010VgnVCM10000022f95190RCRD । অনেক সময় বিষয় ভিত্তিক জিআরই বা কর্মাসের পড়ার জন্য জিম্যাট পরীক্ষা চাইতে পারে কোন কোন ইউনিভার্সিটি। এ ব্যাপারে আপনার পছন্দের ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্টে যোগাযোগ করতে পারেন।
নিজেকে কতটা তুলে ধরতে পারেন অন্যের কাছে বা নিজেকে কিভাবে বিক্রি করতে পারেন সেটা যাচাই করা হয় আপনার স্টেটমেন্ট অফ পারপাস বা ইনটেন্ট নামের একটা রচনার মাধ্যমে। এখানে আপনাকে এক বা দুপৃষ্টার মধ্যে কি কারনে আপনি এই বিষয়ে পড়া শুরু করেছিলেন, কি কারনে আপনি উচ্চতর শিক্ষা নিবেন, নেবার পরে কি করবেন এই সব বিষয় নিয়ে লিখতে হয়। এ ব্যাপারে জানতে http://www.statementofpurpose.com/
শিক্ষা বা আপনার কাজের যোগ্যতার ব্যাপারে ইউনিভার্সিটি গুলো নির্ভর করে রেকমেন্ডেশন লেটারের উপর। আপনার প্রাক্তন ইউনিভার্সিটি বা কাজের যায়গায় আপনার যে বস ছিল তার চোখে আপনি কেমন মানুষ সেটাই জানাতে হয় এখানে। মোট তিনটা রেকমেন্ডশন লাগে অনেক জায়গায়। নিদির্ষ্ট ফরমও থাকে এর জন্য। আপনাকে এই ফরম ডাউনলোড করে প্রিন্ট নিয়ে কারও কাছ থেকে রেকমেন্ডেশন লেটার লিখিয়ে নিয়ে আসতে হবে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখতে পারেন।
আপনার পূর্বের বিভিন্ন পরীক্ষার সার্টিফিকেট তাতে প্রাপ্ত নম্বর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোয়ালিটি এসবের উপর ভিত্তি করে ঠিক করা হয় আপনার শিক্ষাগত যোগত্যা কতটা। এব্যাপার গুলো সাধারণত পূর্ব নির্ধারিত বলে তেমন কিছু করা থাকেনা।
অর্থনৈতিক সচ্ছলতা জানার জন্য ইউনিভার্সিটির কাছে ব্যাঙ্ক ব্যালেনস প্রদর্শন পূর্বক বিভিন্ন ডকুমেন্ট পাঠাতে হয়।
এই সমস্ত জিনিস ছাড়াও অনেক ইউনিভার্সিটি স্পেশাল জিনিস পত্র চাইতে পারে। যেমন অনেকের আপনার ইউনিভার্সিটির নম্বরের আর্ন্তজাতিক ইক্যুইভ্যালেন্ট নম্বর চাইতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনাকে ডব্লিউ.ই.এস. (http://www.wes.org/ ) বলে একটি সার্ভিসের শরনাপন্ন হতে হবে। তাদের কাছে আপনার রেজালটের এক কপি পাঠালে তারা আপনার ইউনিভার্সিটির কাছ থেকে আরো এক কপি চাইবে। এই দুই কপিকে যাচাই করে ইউএস ইকুইভ্যালেন্ট নাম্বার পাঠাবে আপনার পছন্দের ইউনিভার্সিটিতে।
ইউনিভার্সিটিতে এপ্লাই করতে মূলত এই ব্যাপার গুলিই টেক কেয়ার করতে হয়।

৫। ফান্ডিং কিভাবে জোগাড় করতে হয়?

আমি আগের একটি লেখায় উল্লেখ করেছি যে এখানে ছাত্ররা মূলত চারভাবে টিউশন এবং থাকা খাওয়ার খরচ জোগাড় করে থাকে।

১। টিচিং এসিসট্যান্টশীপ,

২। রিসার্চ এসিসট্যান্টশীপ,

৩। ইউনিভার্সিটিতে ঘন্টাভিত্তিক কাজ,

৪। ইউনিভার্সিটির বাইরে ঘন্টাভিত্তিক কাজ।
প্রতিটি পদ্ধতির ভাল-মন্দ দিক আর কিভাবে যোগাড় করতে হয় সেটা আলোচনা করব এবারে।
টিচিং এসিসট্যান্টশীপ ব্যাপারটা নির্ভর করে আপনি যে বিষয়ে পড়তে যাবেন সেটার বিভাগীয় প্রধান এবং ভর্তি নির্বাচকের উপর। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এটাকে ব্যবহার করে ভাল ছাত্র যোগাড় করার টোপ হিসেবে। ধরেন আইআইটির কোন ছেলে একটা মধ্যম ধরনের ইউনিভার্সিটিতে এপ্লাই করেছে। সেই ইউনিভার্সিটি তখন তাকে আর্থিক সাহায্য দিয়ে লোভনীয় অফার পাঠাবে। যাতে সে এখানে পড়তে আসে। তাই এখাতে প্রথমেই আর্থিক সাহায্য আশা করে লাভ নেই। তবে প্রথম সেমিষ্টারে ভালো রেজালট করলে তখন টিচিং এসিসট্যান্ট হিসেবে কিছু আশা করা যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে কোন প্রফেসরের নেক নজরে থাকলেও অনেক কাজ হয়। কিভাবে এই নেক নজর লাভ করা যায় সেটা পরে আলোচনা করব।
টিচিং এসিসট্যান্ট হিসেবে যে কাজগুলো করতে হয় তার মধ্যে অন্যতম হলো খাতা দেখা। বিভিন্ন কোসে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ছাত্রদের হোমওর্য়া দেয়া হয়। সেগুলোর খাতাগুলো দেখে দিতে হয়। এছাড়া মাঝে মাঝে প্রফেসরের অনুপস্থিতে ক্লাস নিতে হতে পারে, তাই সাধারনত টিএসই (টেস্ট অফ স্পোকেন ইংলিশ) নামের একটা পরীক্ষা দিতে হয় অনেক সময়। তাছাড়া ল্যাব ভিত্তিক কোর্সের টি এ হলে ল্যাবে সাহায্য করতে হতে পারে অনেক সময়।
রিসার্চ এসিসট্যান্টদের কাজ প্রফেসরদের বিভিন্ন গবেষনায় সাহায্য করা। সেইসাথে যে বিষয়ের উপর গবেষনা করছে সেটা তার নিজের গবেষনা পত্র হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। তাই কাজটা মন্দ নয়। তবে রিসার্চের ব্যাপারটাই খটোমটো। উপরন্তু প্রফেসরদের আচার আচরনের উপরও অনেক কিছু নির্ভর করে। অনেকের জন্য তাই এই কাজটা অতটা পছন্দের নয়।তবে রিসার্চ এসিসট্যান্টশীপ নির্ভর করে সম্পূর্ণ একজন প্রফেসরের উপর। তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন বিষয়ে রিসার্চ করবার প্রপোজাল বা প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজে সে গবেষনা গ্রহন যোগ্য মনে হলে তারা সেই প্রফেসরকে কিছু অর্থ যোগান দেন। সেই অর্থ থেকে কিছু ছাত্রকে রিসার্চ এসিসট্যান্ট হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তাই সেই সমস্ত ছাত্রদেরও সবসময় দৌড়ের উপর থাকতে হয়।
রিসার্চ এসিসট্যান্টশীপ পাওয়ার মূল ব্যাপার তাই হচ্ছে কোন প্রফেসরের নেক নজরে থাকা। কিভাবে এই নেকনজরে আসা সম্ভব? প্রথমত ভর্তির আগে থেকেই এব্যাপারে চেষ্টা শুরু করতে হবে। উদাহরন স্বরূপ আমি একটি বিষয় বেছে নিই: মনে করুন আপনি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে চান। তবে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের রোবোটিক্স বিষয়ে আপনার সবচেয়ে আগ্রহ বেশী। সুতরাং আপনার কাঙ্খিত ইউনিভার্সিটিতে যে প্রফেসর এ বিষয়ে কাজ করছে তাকে খুঁজে বার করলেন ইউনিভার্সিটির ওয়েব পেইজ থেকে। তারপর তার নিজস্ব ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনি তার বর্তমান রির্সাচ গুলো ঘাঁটাঘাটি করলেন। তারপর তাকে ইমেইল করুন তার রিসার্চের ব্যাপার জানতে চেয়ে। এব্যাপারে সাবধান – প্রথম ইমেইলে তাকে কোনভাবেই ফান্ডিংয়ের ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞেস করবেন না। আপনার মূল লক্ষ্যা থাকবে রিসার্চের ব্যাপারে আলোচনা করা।
এভাবে প্রাথমিক যোগাযোগ শেষ হলে পরে সুযোগ খুঁজুন আপনার ব্যাপার জানানোর জন্য। অনেকে মুখের উপর না করে দিবে। কিন্তু আপনার কাছে দরকার মনে হলে পরে লেগে থাকতে ভুলবেন না। লেগে থাকা মানে রিসার্চের ব্যাপারে কাজ করে যাওয়া বিশ্বাস স্থাপন করা এসব। অনেক সময় দেশে থেকেই ফোন করে আলাপ করুন। ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে যদি ক্লাস শুরু করে ফেলেন (অবশ্যই প্রথম সেমিস্টারের টাকা পরিশোধ করে) তাহলে তাদের সাথে যোগাযোগ করুন। তার সাথে সেমস্ত ছাত্ররা কাজ করছে তাদের সাথে কথা বলুন। অন্যান্য ছাত্রদের সাথে যোগাযোগ করুন। মনে রাখবেন যোগাযোগ এই ক্ষেত্রে খুবই ইফেক্টিভ।
ইউনিভার্সিটিতে ঘন্টা ভিত্তিক কাজ খুব সুলভ না হলেও মোটামুটি পেতে খুব সমস্যা হয় না। লাইব্রেরীতে বই আদান-প্রদানের কাজ, বিভিন্ন অফিসে টুকটাক সহায়ক কারীর কাজ এধরনের বিভিন্ন কাজ করতে হতে পারে এক্ষেত্রে। সমস্যা এখানে দুটো:
১। থাকা-খাওয়ার খরচটা উঠে আসলেও টিউশনটা আপনাকেই পরিশোধ করতে হবে
২। ঘন্টা চুক্তিতে কাজ বলে ঘড়ি ধরে আপনাকে বসে থাকতে হবে অফিসে। তবে কাজ চলে যায় এরকম একটা কাজ পেলেও।
ঘন্টা ভিত্তিক ইউনিভার্সিটির কাজ গুলো অনেক সময় ইউনিভার্সিটির ওয়েবাসইটে পাওয়া যায়, অনেক সময় বন্ধুবান্ধবের মাধ্যমে জানা যায়, আবার অনেক সময় প্রফেসররাও জানাতে পারে। তবে এক্ষেত্রে প্রোগ্রামীং বা ওয়েব ডেভলপমেন্ট জানা থাকলে অনেক সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।
তবে আসল পেইন হল বাইরে কাজ করতে যাওয়া। এই কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বিভিন্ন পেট্রল পাম্পগুলোতে কাজ করা, বিভিন্ন ফাস্টফুডের দোকানে কাজ করা। এই বাইরের কাজ নিয়ম বর্হিভুত হওয়ায় খুব অল্প দরে কাজ করতে হয়। আর রক্তচোষা মালিক ছিবড়ে ফেলে একবারে। তবুও নিতান্তই দরকার পড়লে এধরনের কাজ পেতে দেশী লোকদের নেটওর্য়াক ব্যবহার করতে পারেন।
———————————————————————————–


🚩অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা🚩
অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যাচেলর কোর্স, ব্যাচেলর সার্টিফিকেট কোর্স, ব্যাচেলর ডিপ্লোমা কোর্স, স্নাতকোত্তর কোর্স, স্নাতকোত্তর রিসার্চ কোর্সসহ ডক্টরাল পর্যায়ের বিভিন্ন কোর্সে পড়াশোনা ও গবেষণা করার সুযোগ রয়েছে। ব্যাচেলর কোর্সের মেয়াদ ৩ বছর, সার্টিফিকেট কোর্সের মেয়াদ ৬ মাস, ডিপ্লোমা কোর্সের মেয়াদ ১ বছর, স্নাতকোত্তর রিসার্চ কোর্সের মেয়াদ ২ বছর এবং ডক্টরাল কোর্সগুলোর মেয়াদ ৩ বছর। শিক্ষাবর্ষ জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত।

🚩পড়াশোনার ভাষা
অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার মাধ্যম ইংরেজি। এ দেশে আন্ডার গ্র্যাজুয়েট শিক্ষায় আগ্রহীদের অবশ্যই ইংরেজিতে দক্ষ হতে হবে এবং আইইএলটিএস-এ ৫.৫ অথবা টোয়েফল-এ ৫৫০ এবং ২১৩ কম্পিউটার বেজড্ স্কোর থাকতে হবে। না হলে ভর্তির আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না। পোস্ট গ্র্যাজুয়েট, এমবিএ বা রিসার্চ প্রোগ্রামে আইইএলটিএস স্কোর ন্যূনতম ৬ বা টোয়েফল স্কোর ৬০০ থাকতে হবে।

🚩🚩থাকা-খাওয়া ও অন্যান্য খরচ
অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের থাকা-খাওয়ার ব্যাপারে সহায়তা দিয়ে থাকে। আপনি ইচ্ছা করলে ক্যাম্পাসের ভেতরে কিংবা বাইরে থাকতে পারেন। এ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক ছাত্রাবাস রয়েছে। আবাসন ও ব্যক্তিগত খরচ বাবদ বছরে প্রায় ৬ লাখ টাকা খরচ হতে পারে। অস্ট্রেলিয়াতে শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারে। এছাড়া ছুটির সময় ফুলটাইম কাজ করারও সুবিধা আছে। এখানে একজন শিক্ষার্থী কাজ করে উপার্জিত অর্থে তার পড়াশোনার খরচ বহন করতে পারে।

✏✏✏আবেদন
ভর্তির জন্য সরাসরি প্রতিষ্ঠানের সার্ভিস সেন্টারে ভর্তি তথ্য ও ফরম চেয়ে আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্র চিঠি, ফ্যাক্স কিংবা ই-মেইলেও পাঠানো যেতে পারে। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আবেদন ফরম এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ যাবতীয় শর্তাদি পাঠিয়ে দেয়া হবে। ফরমটি পূরণ করে যাবতীয় কাগজপত্রসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে দিতে হবে। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ আবেদন ফিও পাঠাতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আপনাকে ভর্তি করে নিলে তার প্রমাণস্বরূপ আপনার ঠিকানায় অফার লেটার পাঠাবে এবং অস্ট্রেলিয়ান সরকারের কাছে আপনাকে ভিসা দেয়ার জন্য সুপারিশ করবে।

🚩ভিসা প্রসেসিং
অস্ট্রেলিয়ার ভিসা পাওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার, শিক্ষাগত কাগজপত্র, আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণপত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে ঢাকাস্থ অস্ট্রেলিয়ান দূতাবাসে যোগাযোগ করতে হবে। তবে অস্ট্রেলিয়ার ভিসা পাওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো, অভিভাবককে আর্থিকভাবে যথেষ্ট সচ্ছল হতে হবে।

অর্থাত্ যে আপনার স্পন্সর তার সম্পর্কে যাবতীয় খুঁটিনাটি, আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ, ঘনিষ্ঠতা ইত্যাদি বিষয় নিশ্চিত হয়ে তবেই ভিসা দেয়া হবে। এজন্য যে কাগজপত্র প্রয়োজন সেগুলো হচ্ছে মূল পাসপোর্ট, পাসপোর্ট সাইজ ছবি, অফার লেটার, আবাসন ও খরচ ব্যবস্থার নিশ্চয়তাপত্র, পুলিশ ছাড়পত্র, বার্থ সার্টিফিকেট, সকল শিক্ষাগত সনদপত্র, বর্তমান শিক্ষা ও জবের এক্সপ্লানেশন লেটার, IELTS, TOEFL সংক্রান্ত সনদপত্র, স্পন্সরশিপের কাগজ, স্পন্সর ও আবেদনকারীর সম্পর্কের প্রমাণপত্র, ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং স্পন্সরের আর্থিক সামর্থ্যের পক্ষে তার যাবতীয় সম্পদের ডকুমেন্টস।

🚩🚩🚩অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা নিতে শিক্ষার্থীদের করনীয়
এইচএসসি পাসের পর বুয়েটে বা ইউনিভার্সিটিতে আমরা ৪ বছরে যা পড়ি, তা হচ্ছে আন্ডারগ্র্যাড। এই ৪ বছর শেষে আমরা যে ডিগ্রি পাই, তার নাম ব্যাচেলর ডিগ্রি। এরপর আমরা যা পড়বো, অনেক জায়গায় (বিশেষত নর্থ আমেরিকায়) তার নাম গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ, আবার অনেক জায়গায় (যেমন অস্ট্রেলিয়ায়) এর নাম পোস্টগ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ। এসব দেশে স্কুল মানে আসলে বাচ্চাদের পড়ার জায়গা না, এটা আসলে ডিপার্টমেন্ট এরই সমার্থক শব্দ। যেমন আমি আমার ভার্সিটির আন্ডারে যে স্কুলে রিসার্চ করি, তার নাম School of Electrical Engineering and Computer Science। এটা আবার Faculty of Engineering and Built Environment এর আন্ডারে। কাজেই, ফ্যাকাল্টি শব্দের অর্থ আমাদের দেশে যেরকম, এসব দেশেও একই রকম। গ্র্যাজুয়েট করা মানে আসলে পাস করে বের হওয়া। ‘গ্র্যাজুয়েশন’কে আমরা সাধারণত একটা ডিগ্রি মনে করি, কিন্তু এটা আসলে পুরোপুরি তা না।
এখানে আন্ডারগ্র্যাড করার জন্য প্রচুর পরিমাণ টাকা লাগে। বছরে প্রায় ৪০-৫০ লাখের মতো। কাজেই, দেশের বেশিরভাগ মানুষের জন্য সেই অপশন বাদ। পোস্টগ্র্যাড আবার দুই রকম, একটা Postgrad/Masters by coursework, আরেকটা Postgrad/Masters/Higher degree by research। রিসার্চের ক্ষেত্রে ডিগ্রিটা পিএইচডিও হতে পারে, কাজেই Higher Degree শব্দটাও অনেক সময় জুড়ে দেয়া হয়। Coursework এর উপর ভিত্তি করে মাস্টার্সে থিসিসের পরিমাণ অনেক কম থাকে। এটা করতে প্রচুর টাকা লাগে, আন্ডারগ্র্যাডের মতোই। অবশ্য পাস করে ভালো চাকরির নিশ্চয়তা আছে। তবে এখানে স্কলারশিপ পাওয়া যায় না। যদি বা যায়, তাহলেও বড়জোর ৫০% ওয়েভার পাওয়া যেতে পারে, এর বেশি না। কাজেই, রইলো বাকি PGR বা RHD। এই ক্ষেত্রেই আমাদের বুয়েট বা অন্য ভার্সিটির ছেলেরা বেশি অ্যাপ্লাই করে। এক্ষেত্রে সাধারণত কোন কোর্সওয়ার্ক থাকে না, বা থাকলেও অনেক কম থাকে। পুরো মাস্টার্স/পিএইচডি জুড়েই থাকে শুধু থিসিস। আমি যে নিয়মাবলীর কথা এখানে বলবো, তা এই PGR বা RHD এর জন্যই প্রযোজ্য হবে। আর হ্যাঁ, ইউনিভার্সিটি বিশেষে নিয়ম কানুন কিছু এদিক সেদিক হতে পারে, কিন্তু মূল জিনিসটা সব জায়গায় প্রায় একই।
ধাপ – ১: কী করতে চান তা আগে ঠিক করেন : আগে ঠিক করেন কী করতে চান। এটা যে একদম খুব স্পেসিফিক হতে হবে তা না। কিন্তু মোটামুটি একটা আইডিয়া থাকা দরকার। যেমন অনেকেই পিএইচডি করতে চায়, আবার অনেকে মাস্টার্স করে কয়েক বছর একটা ভালো চাকরি করতে চায়। যদি আপনি দ্বিতীয় লাইনের লোক হন, তাহলে বরং নর্থ আমেরিকাই আপনার জন্য ভালো জায়গা হবে। কারণ সেখানকার মাস্টার্সে কোর্সওয়ার্ক আর থিসিস দুটোই ভালো পরিমাণে থাকে। কাজেই সেখানে পাস করে চাকরি বা পিএইচডি দুই জায়গাতেই যাওয়া যায়। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় যেহেতু পুরোটা বা বেশিরভাগই রিসার্চ, কাজেই মাস্টার্স করে পিএইচডি না করাটা আসলে ভালো সিদ্ধান্ত না (এটা একান্তই আমার ব্যক্তিগত মতামত)। কাজেই, যদি আপনি রিসার্চ লাইনে আসতে চান, তাহলেই কেবল অস্ট্রেলিয়ার PGR/RHD স্কিম আপনার জন্য প্রযোজ্য। এরপরে আসে আপনার টপিক। টপিকের উপর মোটামুটি একটা ধারণা থাকা উচিত। আপনার পিএইচডি থিসিসের টাইটেল কী হবে, সেটা ঠিক করা না থাকলেও চলবে (:-P), কিন্তু কোন বিষয়ের উপর পড়তে চান, তা ঠিক করেন, যেমন পাওয়ার অথবা টেলিকমিউনিকেশন (ইলেক্ট্রিক্যালের সাপেক্ষে উদাহরণ দিলাম) ইত্যাদি। আর হ্যাঁ, আপনি আন্ডারগ্র্যাডে কী পড়েছেন, তা নিয়ে মাথা ঘামাবার দরকার নাই। আন্ডারগ্র্যাডে পাওয়ার বা অন্য কিছু নিয়ে পড়াশোনা করে মানুষ পোস্টগ্র্যাড করে টেলিকমে, এমন বহু নজির আছে (আমি নিজেই তাদের একজন)। কাজেই, আপনি কোথায় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, সেটা ঠিক করেন।
ধাপ – ২: IELTS দেন : অস্ট্রেলিয়ায় এটা সবার আগে জরুরি। এখানে GRE লাগে না। কিন্তু IELTS দিতে হবে। খুব আহামরি স্কোর দরকার নাই। সব ব্যান্ডে ৬.৫ করে রাখতে পারলেই বেশিরভাগ ইউনিভার্সিটিতে চান্স পাবেন। তবে হ্যাঁ, IELTS এর মেয়াদ থাকে মাত্র ২ বছর। কাজেই, যখন সিদ্ধান্ত নিবেন যে অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে আসবেন, তখনই IELTS দেন। বেশি আগে দিয়ে মেয়াদ উত্তীর্ণ করে ফেলার কোন কারণ দেখি না।
ধাপ – ৩: নেট ঘাঁটাঘাঁটি করেন : ধরে নিলাম আপনি ধাপ ১ আর ২ কমপ্লিট করেছেন। এবার আপনার পালা নেটে বসার। প্রাচীন যুগের মানুষরা বলতো, অ্যারিস্টটলে যা নেই, তা নিয়ে চিন্তা করার দরকার নেই। আর এখন আমরা বলি, গুগলে যা নাই, বস্তুজগতে তার অস্তিত্ত্বই নাই। কাজেই, জাগতিক সবকিছুই গুগলে পাবেন। অতএব, নেটে যান। সবচেয়ে ভালো বুদ্ধি সবগুলো ইউনিভার্সিটির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে চষে বেড়ানো। কাজেই শুরু করে দেন।
ধাপ – ৪: প্রফেসর ‘ধরা’ : রিসার্চ হাইয়ার ডিগ্রির জন্য শুরুতেই যা করতে হবে, তা হলো একজন সুপারভাইজর খুঁজে বের করা। ইউনিভার্সিটির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ঘাঁটলে আপনি আপনার রিসার্চ ইন্টারেস্ট অনুযায়ী সুপারভাইজর খুঁজে পাবেন। এরকম কয়েকজন পোটেনশিয়াল সুপারভাইজরের লিস্ট করেন। এরপর তাদের ইমেইল করেন।
ধাপ – ৫: প্রফেসরকে ইমেইল করা : প্রফেসরদের লিস্ট ও তাঁদের ইমেইল অ্যাড্রেস জোগাড় হয়ে গেলে তাদের ইমেইল করা শুরু করেন। সবচেয়ে ভালো হয় ইমেইলের একটা টেম্পলেট তৈরি করে নিলে। কোন জায়গা থেকে চোথা মারার দরকার নাই। সাজেশন পেতে পারেন বড় ভাই-আপুদের কাছ থেকে, বা গুগল ঘেঁটে। কিন্তু ধরে পুরাটা কপি করে দিয়ে মান-সম্মান ডুবায়েন না (:-P)! সিম্পল, কিন্তু অবশ্যই নির্ভুল ভাষায় একটা জুতসই দেখে ইমেইল দাঁড় করান। ইমেইলে আপনার পড়াশোনা, চাকরির অভিজ্ঞতা, পাবলিকেশন (যদি থাকে), থিসিস, IELTS স্কোর, রিসার্চের প্রতি আপনার ইন্টারেস্ট ইত্যাদি ফোকাস করেন। নিজের ঢোল পিটাতে গিয়ে অ্যারোগেন্ট হবার দরকার নাই। আবার একদম মিনমিন করারও দরকার নাই। স্পষ্ট করে আত্মবিশ্বাসের সাথে নিজের যোগ্যতার কথা তুলে ধরেন। যদি আপনার কোন নেগেটিভ দিক থাকে, সেগুলো সুনিপুণভাবে এড়িয়ে যান।
ধাপ – ৬: শুরু হলো অপেক্ষার পালা : এটাই আসলে আপনার নিজে থেকে করার সবশেষ ধাপ। কারণ এরপর আপনার নিজ থেকে আর কিছু করার নাই। প্রফেসরদের মেইল করে বসে থাকেন। ভুলেও আশা করবেন না যে তাঁরা আপনাকে রিপ্লাই দেবে। কারণ তাঁদের খেয়ে দেয়ে আরো অনেক কাজ আছে! শুধু তাঁরাই আপনার সাথে যোগাযোগ করবে, যারা আপনার ব্যাপারে, অর্থাৎ আপনাকে স্টুডেন্ট হিসাবে নেয়ার ব্যাপারে ইন্টারেস্টেড। কেউ যদি আপনার ব্যাপারে ইন্টারেস্টেড না হয়, তাহলে তাঁর এতো তেল নাই যে সেটা মেইল করে আপনাকে জানাবে। যদি কেউ পজিটিভ রিপ্লাই দেয়, তাহলে তাঁর সাথে আপনার রিসার্চ ইন্টারেস্ট নিয়ে আরো বিস্তারিত আলাপ করে (ইমেইলে বা স্কাইপে) রিসার্চ টপিক ঠিক করেন। পজিটিভ রিপ্লাই পাওয়ার র‍্যশিও (অর্থাৎ কয়টা মেইল করলে কয়টা রিপ্লাই পাওয়া যায়) বিভিন্ন রকম হতে পারে। আমি নিজে প্রায় ৩০ জনকে মেইল করে একজনের কাছ থেকে পজিটিভ রিপ্লাই পেয়েছিলাম, আর এখন তাঁর আন্ডারেই রিসার্চ করছি।
ধাপ – ৭: প্রফেসরের কাছ থেকে গাইডলাইন নিয়ে ইউনিভার্সিটিতে অ্যাপ্লাই করা : প্রফেসর আপনাকে সুপারভাইজ করবে, কিন্তু অ্যাডমিশন বা স্কলারশিপ দেবে ইউনিভার্সিটি। প্রফেসরের কাজ হচ্ছে শুধু আপনার ব্যাপারে সুপারিশ করা। কাজেই, আপনাকে অবশ্যই ইউনিভার্সিটির অ্যাডমিশন ও স্কলারশিপের জন্য অ্যাপ্লাই করতে হবে। সাধারণত অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটিগুলোর ইন্টারন্যাশনাল অ্যাপ্লিকেশনের লাস্ট ডেট হয় অগাস্টের শেষের দিকে। অর্থাৎ আপনি যে বছরে রিসার্চ শুরু করতে চান, তার আগের বছর অগাস্টের মধ্যে আপনাকে অ্যাপ্লাই করতে হবে। কাজেই প্রফেসরের সাথে যোগাযোগ শুরু করবেন তারও কমপক্ষে ৩ মাস আগে থেকে। অ্যাপ্লাই করার জন্য কী কী লাগবে, তা আপনার সুপারভাইজর আপনাকে বলে দিবেন। সাধারণত রিসার্চের অ্যাপ্লিকেশনের সাথে একটা রিসার্চ প্রপোজাল দিতে হয়। ভয়ের কিছু নাই। আপনি কী করতে চান, তার উপর ২/৩ পেইজ লিখে দিলেই হবে। কীভাবে লিখতে হবে, আপনার প্রফেসর আপনাকে বলবেন। তবে সাধারণত আপনি কী বিষয়ে কাজ করবেন তার একটা আউটলাইন, আর ঐ বিষয়ে অন্যান্য জায়গায় কীরকম কাজ হচ্ছে, এসবই হয় রিসার্চ প্রপোজালের বিষয়। অস্ট্রেলিয়ায় অনেক ভার্সিটিতে অ্যাপ্লিকেশন ফি নাই। যেসবের ক্ষেত্রে আছে, সেসবের জন্য ফি দিবেন। ফি অস্ট্রেলিয়ায় থাকে এমন পরিচিত কাউকে দিয়ে দেয়াতে পারেন, তবে সবচেয়ে ভালো হয় নিজের একটা ইন্টারন্যাশনাল কার্ড করে নিলে। দেশের সব ব্যাঙ্কেই এখন এটা করা যায় বলে জানি। আমি নিজে করি নাই, তবে শুনেছি Standard Chartered ব্যাঙ্কের I-Card নাকি সবচেয়ে ভালো। এতে সুবিধা হচ্ছে, আপনার নিজের টাকা পয়সার হিসাব নিজের কাছেই থাকে, আর খুব কাছের মানুষ না হলে বিভিন্ন জায়গায় অ্যাপ্লিকেশনের জন্য মানুষজনকে বেশি পেইন না দেয়াই ভালো!
শেষ ধাপ: Get visa and fly to Australia : ইউনিভার্সিটি যদি আপনার অ্যাপ্লিকেশন গ্রহণ করে (সাধারণত সুপারভাইজরের রিকমেন্ডেশন/সুপারিশ থাকলে তারা অ্যাপ্লিকেশন গ্রহণ করে), তাহলে তাদের কাছ থেকে অ্যাডমিশনের অফার লেটার, স্কলারশিপের অফার লেটার, CoE (Confirmation of Enrolment, এটা ভিসা পাওয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট) ইত্যাদি সময়মতো পেয়ে যাবেন। সেটা নিয়ে ভিসার জন্য অ্যাপ্লাই করে চলে যান সোজা অস্ট্রেলিয়া!
ফরমালিটি //আবেদন প্রক্রিয়া : সরাসরি দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদন করা যায়। আবার, অনলাইনে আবেদন করা যায় ও বিভিন্ন কনসালট্যান্সি ফার্ম এর মাধ্যমে আবেদন করা যায়।
আবেদনের নিয়মাবলী : শিক্ষাগত যোগ্যতা : ক) শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে Student দের Undergraduate থেকে Doc. Degree Certificate থাকলে সে উচ্চ শিক্ষা জন্য অস্ট্রেলিয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে IELTS অবশ্যই লাগবে। Undergraduate এর ক্ষেত্রে ন্যূনতম IELTS স্কোর ৫.৫ এর ক্ষেত্রেএবং Post graduate এর ক্ষেত্রে ন্যূনতম ILTS স্কোর 6.0 প্রয়োজন।
খ) অস্ট্রেলিয়াতে IELTS ছাড়া Students এর উচ্চ শিক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা নেই। সেক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া গিয়ে IETS দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
গ) School শিক্ষার্থীদের জন্য O/A Level Certificate থাকলে IELTS দরকার হয় না।
স্পন্সর : ক) বিষয়ভেদে বিভিন্ন পরিমাণ টাকা Sponsor দেখাতে হয়। Under graduate এর ক্ষেত্রে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা Sponsor দেখাতে হয় এবং Degree Program এর জন্য প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ টাকা ৬ মাস এর জন্য Sponsor দেখাতে হয়।
খ) Sponsor Money এর সম্পদ মূল্য দেখানো যাবেনা, শুধুমাত্র নগদ টাকা দেখাতে হবে। তবে ডলার এর মূল্য তারতম্য হলে এর জন্য Sponsor Money হিসেব করে মোট টাকা দেখাতে হয়।
গ) কোন ছাত্রের স্পন্সর দেখানোর জন্য blood Relation হলে ভাল। তবে Post graduation এর ক্ষেত্রে first blood Relation হতে হবে। এর জন্য Bank Statement লাগে ও জাতীয় পরিচয়পত্র এবং জন্ম সনদ ইত্যাদির কাগজ জমা দিতে হয়।
স্পাউস : শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে স্পাউসসহ আবেদন করা যায়। সেক্ষেত্রে তার স্ত্রীকে মাস্টার ডিগ্রী প্রাপ্ত হতে হবে, তার জন্য সে ৫ পয়েন্ট পাবে।
স্কলারশিপ : সাধারণত উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে Scholarship (full) পাওয়ার জন্য তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে Graduation complete করে আবেদন করতে হবে। সাধারণত স্কলারশিপ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ৫% শিক্ষার্থী যেতে পারে।
🚩🚩অস্ট্রেলিয়ায় পার্ট টাইম জব
পড়া-লেখার পাশাপাশি সপ্তাহে ২০ ঘন্টা rপার্ট টাইম চাকরির সুযোগ রয়েছে। পার্ট টাইম জব করে একজন ছাত্র তার খরচ চালাতে পারে। Engineering, MBA, ACCA এবং Health study ইত্যাদি কোর্সগুলো ভাল চাকুরী পাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়।

🚩🚩অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী বসবাস সুবিধা
অন্য রাষ্ট্রের তুলনায় এখানে সহজে PR (Permanent Residence) এর সুযোগ থাকে। Students Graduation Complete করার পর সে PR এর জন্য আবেদন করতে পারে। সেক্ষেত্রে Result যদি ভাল থাকে তাহলে সরকার তাকে PR করে নিতে পারে। সাধারণত ACCA, LLB, MBA, Advanced diploma, Health student এবং Engineering ডিগ্রি অর্জনকারীদের PR পেতে সুবিধা হয়।

🚩🚩🚩অস্ট্রেলিয়া দূতাবাস
এটি গুলশান ১, ৮নং রোড এর সামনে অবস্থিত।
ঠিকানা- জেড এন টাওয়ার (১ম তলা), রোড# ৪, প্লট# ২, ব্লক# এস ডব্লিউ ১, গুলশান এভিনিউ, ঢাকা-১২১২। ফোন ৯৮৯৫৮৯৪।

🚩বিভিন্ন অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান
বিভিন্ন অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ান দূতাবাস Student file গ্রহন করে থাকে। তাদের কয়েকটির নাম ঠিকানা হল-
ক) M.K Basher, BSB Global Network, Plot# 22, Goshen circle-2, Dhaka. Phone- 8818816, 9885066.
খ) Allen Joseph Homes : ANTIOCH – Home# 15, Road# 13, Ground floor, Baridhara Diplomatic Zone, Dhaka-1212. Phone- 8831370, 8831254.
গ) Humidor Rahman Shohag, Bangladesh students consultancy Ltd : 30, Toyenbee circular Road (4th floor), Doynik Bangla more, Motijheel, Dhaka-1000. Phone- 9565905, 7176524
ঘ) দূতাবাসে সরাসরি আবেদন করা সম্ভব না হলে সেক্ষেত্রে অনলাইন এবং বিভিন্ন অস্ট্রেলিয়ান দূতাবাস অনুমোদিত Consultant Company এর মাধ্যমে ফরম পূরণ ও জমাসহ যাবতীয় ব্যবস্থা করা যায়। Education consultant company গুলো student file open করতে প্রায় ১০,০০০ টাকা এবং ভিসার পর ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে থাকে। সাধারণত Application fee 550 dolar visa রিফিউজ হলেও Application fee ফেরত দেয়া হয় না।

———————————————————————————–


🚩সিঙ্গাপুরে উচ্চশিক্ষা🚩
🚩সিঙ্গাপুরে পড়াশোনার সুযোগ
সিঙ্গাপুর বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ একটি দেশ। বিশ্বে প্রচলিত প্রায় সব বিষয়েই পড়ার সুযোগ রয়েছে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। এশিয়ার এই দেশটিতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে পড়াশোনার অনেক সুযোগ।
সিঙ্গাপুরে ব্যাচেলর ডিগ্রি, মাস্টার ডিগ্রি, ডক্টরেট ডিগ্রি ছাড়াও বিভিন্ন ডিপ্লোমা কোর্সের জন্য আপনি আবেদন করতে পারেন। ব্যাচেলর ডিগ্রির জন্য সাধারণত তিন থেকে পাঁচ বছর ফুলটাইম পড়াশোনা করতে হয়। মাস্টার ডিগ্রির জন্য সাধারণত এক থেকে তিন বছর ও ডক্টরাল ডিগ্রির জন্য সাধারণত দুই থেকে পাঁচ বছরের ফুল টাইম স্টাডির প্রয়োজন হয়। সিঙ্গাপুরে অনেক খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ রয়েছে, তবে সীমিত আকারে। খণ্ডকালীন কাজের জন্য কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে।
সিঙ্গাপুর পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যয়বহুল নগরী আর তাই বৃত্তি নিয়ে পড়াশোনা করতে না এলে খরচ জোগাতে হিমশিম খাওয়াই স্বাভাবিক। তবে আজ অন্য একটি উপায় বাতলে দেবার চেষ্টা করব।
সিঙ্গাপুরে বিশ্বের খ্যাতনামা অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা রয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে সান্ধ্যকালীন ক্লাস। এ সকল ক্লাসের জন্য উপস্থিতির ক্ষেত্রেও দেওয়া হয় শিথিলতা। ফি প্রদানের ক্ষেত্রেও থাকে কিস্তিতে প্রদানের সুব্যবস্থা। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে ব্যাংকের চুক্তির জন্য ক্ষেত্রভেদে নামমাত্র সুদে থাকে ঋণের ব্যবস্থাও। তবে এ জন্য যে কাজটি জরুরি তা হলো এ দেশে অবস্থান। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় দিচ্ছে ক্রেডিট ট্রান্সফারের সুযোগ। তার মানে সিঙ্গাপুরের পড়াশোনা শুরু করে শেষ করা যাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসে। সিঙ্গাপুরের কর্মক্ষেত্রের ভাষা ইংরেজি। তাই বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হতে আলাদা করে আইইএলটিএস বা টোফেল টেস্টের দরকার পড়ছে না।
এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশি অনেকেই তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতাকে বাড়িয়ে নিচ্ছে ক্রমাগত। পরীক্ষার ফলাফলে ছাপিয়ে যাচ্ছে অন্য দেশীয়দের (সিঙ্গাপুরিয়ানসহ)। স্কুলগুলো স্থানীয় কিছু এজেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থী সংগ্রহ করে। স্কুল ভর্তি হতে ও ভর্তি পরবর্তী সহায়তায় এগিয়ে আসে। অবশ্য এ জন্য লাগবে সংকল্পবোধ ও ছাড় দেবার মানসিকতা। ইচ্ছা আর চেষ্টায় অনেক কিছুই সম্ভব। সেই সঙ্গে পড়াশোনার এ সুযোগ অনেকর জন্যই উন্মোচন করছে ক্যারিয়ারের নয়া দিগন্ত। সিঙ্গাপুরের বেড়ে উঠছে আর একটি ভিন্ন বাঙালি জাতি। হয়তো আর একটু সুযোগের অপেক্ষা মাত্র। বিশ্ব দেখবে আর একটি ভিন্ন ভোর, যার আলোকচ্ছটায় উদ্ভাসিত হবে চারদিক।
🚩🚩🚩সিঙ্গাপুরে বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্যাম্পাস
বিশ্বের কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস রয়েছে সিঙ্গাপুরে৷ আরও কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যাচ্ছে সেখানে৷ এর ফলে সিঙ্গাপুরের শিক্ষার্থী ছাড়াও লাভবান হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো৷ প্রায় এক ডজন শীর্ষস্থানীয় বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় সিঙ্গাপুরে তাদের শাখা খুলেছে৷ এর মধ্যে যেমন রয়েছে ‘ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি’ বা এমআইটি, তেমনি রয়েছে স্ট্যানফোর্ড, ডিউক ইউনিভার্সিটি ইত্যাদি৷ রয়েছে ফ্রান্স তথা ইউরোপের অন্যতম সেরা বিজনেস স্কুল ‘ইএসএসইসি’, রয়েছে ফ্রান্সেরই আরেকটি বিজনেস স্কুল ‘আইএনএসইএডি’ এর ক্যাম্পাস৷
এসব প্রতিষ্ঠানে পড়ছেন এশিয়ার সেরা শিক্ষার্থীরা৷ রয়েছে স্থানীয় মেধাবীরাও৷ ফলে সিঙ্গাপুরের শিক্ষার্থীরা দেশেই পাচ্ছেন উচ্চমানের শিক্ষা৷ তাদেরকে যেতে হচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা অস্ট্রেলিয়ায়৷ এতে বন্ধ হচ্ছে মেধা পাচার৷
সিঙ্গাপুর ‘ইকোনোমিক ডেভেলপমেন্ট বোর্ড’ বা ইডিবি’র নির্বাহী পরিচালক এলভিন তান বলছেন, এশিয়ায় কাজ করছে বিশ্বের নেতৃস্থানীয় অনেক কোম্পানি৷ কিন্তু মাঠ পর্যায়ে কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত লোকবলের অভাব বোধ করছে এসব কোম্পানি৷ কেননা সেখানে প্রয়োজন দক্ষ স্থানীয় কর্মী৷ অর্থাৎ ঐসব কোম্পানিতে কাজ করার মতো মধ্য পর্যায়ের কর্মকর্তার যথেষ্ট অভাব রয়েছে৷ তাই সিঙ্গাপুরের এসব বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাসগুলোতে পড়াশোনা করাদের যথেষ্ট চাহিদা দেখা যাচ্ছে৷
জার্মানির অন্যতম প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ‘টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অফ মিউনিখ’ বা টিইউএম ২০০২ সালে সিঙ্গাপুরে তাদের ক্যাম্পাস খুলেছে৷ সেখানে মাইক্রোইলেক্ট্রনিক্স, ইন্ডাস্ট্রিয়াল কেমেস্ট্রি ও ট্রান্সপোর্টেশনের উপর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি দেয়া হচ্ছে৷
টিইউএম এর এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক মার্কুস ভেশটার বলছেন, ‘‘আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে এই অঞ্চলে যেসব জার্মান কোম্পানি কাজ করছে তাদের জন্য দক্ষ লোকবলের ব্যবস্থা করা৷”
জানা গেছে, সিঙ্গাপুরের টিইউএম থেকে বের হওয়া স্নাতকদের অর্ধেকই কাজ করছে বিভিন্ন জার্মান কোম্পানিতে৷
কাটারিনা ক্লাজের নামে ২৪ বছরের এক জার্মান তরুণী সিঙ্গাপুরে টিইউএম’এ ‘ট্রান্সপোর্ট ও মোবিলিটি’র উপর পড়াশোনা করছেন৷ তিনি জার্মানির ম্যুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসায় প্রশাসনের উপর পড়াশোনা করেছেন৷
ক্লাজের বলছেন, সিঙ্গাপুর টিএউএম এ তিনি জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার পরিবেশ পাচ্ছেন৷ সেই সঙ্গে পাচ্ছেন এশিয়া সম্পর্কে তথ্য৷ ভবিষ্যতে এশিয়ায় কাজ করতে চান তিনি৷
আগামী বছর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ‘ইয়েল ইউনিভার্সিটি’ সিঙ্গাপুরের ‘ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি’ এনইউএস’এর সঙ্গে যৌথভাবে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করতে যাচ্ছে৷ এজন্য ভবন তৈরির কাজ শুরু হয়ে গেছে – যা শেষ হবে ২০১৫ সালে৷ তবে আপাতত ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসেই ক্লাস হবে৷
তবে সিঙ্গাপুরের মতো দেশে ইয়েলের শাখা খোলায় যুক্তরাষ্ট্রে ইয়েলের ক্যাম্পাসে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে৷ সমালোচকদের অভিযোগ, সিঙ্গাপুরে প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নেই৷
তবে সিঙ্গাপুরের শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, সিঙ্গাপুরের আইনের মধ্যে থেকে ‘ইয়েল-এনইউএস কলেজ’ এর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা গবেষণা ও মত প্রকাশের পর্যাপ্ত স্বাধীনতা পাবে৷
উল্লেখ্য, প্রায় ৫০ বছর আগে স্বাধীনতা পাওয়ার পর থেকে একচ্ছত্রভাবে সিঙ্গাপুর পরিচালনা করছে দেশটির জনক লি কুয়ান ইউ’এর দল৷ তাদের দাবি, সিঙ্গাপুরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে কঠোর হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে৷
সিঙ্গাপুরের তিন চতুর্থাংশ জনগণ চীনা বংশোদ্ভূত, ১৩ শতাংশ মালয়েশীয় ও ৯ শতাংশ ভারতীয়৷
✏✏✏শিক্ষা ব্যবস্থা
সিঙ্গাপুরে ব্যাচেলর ডিগ্রি, মাস্টার ডিগ্রি, ডক্টরাল ডিগ্রি ছাড়াও বিভিন্ন ডিপ্লোমা কোর্সের জন্য আপনি আবেদন করতে পারেন। দেশটির বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় বছরে সাধারণত দুটি সেমিস্টার অফার করে থাকে। প্রথম সেমিস্টার হলো আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত। আর দ্বিতীয় সেমিস্টার হলো জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত। ব্যাচেলর ডিগ্রির জন্য সাধারণত তিন থেকে পাঁচ বছর ফুল টাইম পড়াশোনা করতে হয়। মাস্টার ডিগ্রির জন্য সাধারণত এক থেকে তিন বছর এবং ডক্টরাল ডিগ্রির জন্য সাধারণত দুই থেকে পাঁচ বছরের ফুল টাইম স্টাডির প্রয়োজন হয়।
সিঙ্গাপুরের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর ব্যাপারে জানতে হলে ভিজিট করুনঃ http://www.topuniversities.com/singapore/study-abroad-Singapore

🚩🚩🚩ভর্তির যোগ্যতা
ব্যাচেলর প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য কমপক্ষে ১২ বছরের শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ আপনাকে নূ্যনতম এইচএসসি পাস হতে হবে। মাস্টার ডিগ্রির জন্য ভর্তি হতে চাইলে অবশ্যই সফলতার সঙ্গে কমপক্ষে ১৫ বছরের শিক্ষাগত জীবন শেষ করতে হবে। মাস্টার ডিগ্রি থাকলে আপনি আরও উচ্চতর ডিগ্রির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

🚩🚩টিউশন ফি ও অন্যান্য খরচ
সিঙ্গাপুরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ব্যাচেলর প্রোগ্রামের জন্য বার্ষিক টিউশন ফি ১৬ হাজার ২৫৪ থেকে শুরু করে ১৯ হাজার ৫০৫ ডলার। মাস্টার ডিগ্রির জন্য প্রতি শিক্ষাবর্ষে এফি তিন হাজার ৯০১ থেকে ১৩ হাজার তিন ডলার। এমবিএ করতে চাইলে এক বছরের জন্য আপনাকে গড়ে ৩৩ হাজার ১৫৮ ডলার গুনতে হবে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোর্সভেদে খরচ আরও কম হতে পারে। টিউশন ফির সঙ্গে প্রতিমাসের খাবার খরচ ১৯৫-২৯৩ ডলার যোগ করতে হবে। এছাড়া থাকার খরচ বাবদ মাসে ১৩০-৯৭৫ ডলার, যাতায়াতের জন্য ৩৩-৯৮ ডলার, বইপত্র বাবদ মাসে ২০-৬৫ ডলার প্রয়োজন হবে। এছাড়া আনুষঙ্গিক আরও কিছু খরচ তো রয়েছেই।

🚩🚩স্কলারশিপ/ফান্ডিং
🚩🚩🚩এই লিঙ্কগুলোয় দেখে নিনঃ-
1.http://l.facebook.com/l.php?u=http%3A%2F%2Ffurrybrowndog.wordpress.com%2F2011%2F07%2F07%2Fsingapore-education-scholarships-for-foreign-students-only%2F&h=8AQGxuNXjAQEJHO2jGntf3K9-cCoKP8Hi26HKxCZNfwiBzQ&enc=AZOhsVB-b3YZ8xUP-BSpXGnQ9W-IL0T4XSTcbMFOuV3AO7Lwmhni-Zd0eHT1lZ-insSKas1-OkakKNE4Rd-eoIZ-706uDCq1ru-DwJNDKvVBAqEcc1O_otJPwHfjkVuLPXjVrQmKK7vyIAd5u1hw6bBIYh4_BvvauHxG7ZIrry0XO4huNdVWWpuvhwuBDWOApw1_89uYPOs5NNzJ1bctPggL&s=1
2. http://www.moe.gov.sg/education/scholarships/
3. http://l.facebook.com/l.php?u=http%3A%2F%2Fwww.singaporeedu.gov.sg%2Fhtm%2Fmis%2Ffaq02.htm&h=vAQEbqnlgAQHSGIOIam2lhf1iCTwW2hpyncwGZDtV3JssCg&enc=AZPaQ_15sw2fb4lCA3dc0JBcloyE4ThJn2zPtgdM4hZ8i-FL1jchyLDe846W4rvgz2jkffhuM5e1Wq46kOpsBY_sRSt4qx7Bvto0WBmwvjnt1ksb6ueIRmpz_6sJU-mj0CLCioURn4iC3xB9o8Oddda_cBIWYxgaKsjHInE5aPIjMD3u9nQeNRNxDPqI4oF8hqPadTFAc-k5SExWbTAtvL50&s=1
4.http://l.facebook.com/l.php?u=http%3A%2F%2Fgraduateschool.topuniversities.com%2Farticles%2Fsingapore%2Fgraduate-studies-singapore&h=dAQHZoFsNAQH0bNrx2grN0m0Y78iNXxAwcwdZ9fHCAquNjQ&enc=AZO49AZGVxuvYKZZ3XA0bc0CR-LMObv43YybV_zSKKn73BjtcizhYZZAkZbM4oDOJyhD__4P0Xtnnu50VsNOzcgK5MKjmNfMimaMYqTk2CSX0plbND4lmA0CiiuJg1L0HrOxvgM_R_0JZIsr8uq6domjz_Hzf0NAYM9rpj6w5uHJOcIhhRDY32-NwUxiGbw6u2tdK_rG61SDm-3-uSW2OpKr&s=1
🚩🚩খndo -কালীন কাজের সুযোগ
সিঙ্গাপুরে অনেক খ-কালীন কাজের সুযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে ১৬ ঘণ্টা কাজ করার সুযোগ পায়। খ-কালীন কাজের জন্য কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে। তবে ছুটির সময় পূর্ণকালীন কাজ করা যায়। সিঙ্গাপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের রেস্টুরেন্ট, লাইব্রেরি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, দোকান, হোটেল, ক্যাফে, রেস্টুরেন্ট, ক্লাব ও ল্যাবরেটরিতে খ-কালীন কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

✏✏✏কীভাবে আবেদন করবেন
যে বিভাগে ভর্তি হতে চান, বিস্তারিত জানতে সেই বিভাগের এডমিশন অফিস বরাবর সরাসরি লিখতে পারেন। সিঙ্গাপুরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওয়েবসাইটেও আবেদন ফরম পাওয়া যায়। দেশটির কিছু বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনের মাধ্যমেও আবেদনপত্র পূরণ করার সুবিধা দিয়ে থাকে। এরপর ভিসা ও অন্যান্য কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন হবে সে তথ্য আবেদনকারীকে জানিয়ে দেয়া হয়। এ সময় পূর্ণাঙ্গ আবেদনপত্র, মার্কশিটসহ সব শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের ইংরেজি ভার্সন, বিদ্যালয় বা কলেজের ছাড়পত্র, আইইএলটিএস বা টোফেল টেস্ট স্কোর, পাসপোর্টের ফটোকপি প্রভৃতি কাগজপত্রের প্রয়োজন হবে।

🚩ভিসা প্রক্রিয়া
সিঙ্গাপুরের স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার জন্য খুব বেশি কাঠ-খড় পোড়াতে হয় না। আপনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করলে সহজেই ভিসা পেয়ে যাবেন। এ সময় কমপক্ষে ছয় মাসের মেয়াদসহ পাসপোর্ট, সচ্ছলতার সনদ বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সিঙ্গাপুরের বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার, মার্কশিটসহ সব শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, জন্ম সনদসহ আনুষঙ্গিক কাগজপত্রের প্রয়োজন হতে পারে। ভিসার জন্য আপনাকে বাংলাদেশে অবস্থিত সিঙ্গাপুরের দূতাবাসে যোগাযোগ করতে হবে। বাংলাদেশে সিঙ্গাপুরের দূতাবাসের ঠিকানা : বাড়ি- ১৫, সড়ক- ৬৮/এ, গুলশান- ২, ঢাকা- ১২১২। ফোন : ৯৮৮০৪০৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৯৮৮৩৬৬৬। স্টুডেন্ট ভিসার ফি হিসাবে ১৩ মার্কিন ডলার পরিশোধ করতে হয়।

✏✏✏পড়াশোনার মাধ্যম
বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইংরেজি ভাষায় শিক্ষা দেয়া হয়। তাই দেশটির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় উচ্চশিক্ষা করতে চাইলে ইংরেজিতে দক্ষতা থাকতে হবে। তবে অনেক ক্ষেত্রে মালয়, ম্যান্ডারিন ও তামিল ভাষাতেও শিক্ষাদান করা হয়।

🚩🚩🚩সিঙ্গাপুরের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ
ইন্টারনেটে সিঙ্গাপুরে ভর্তিসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সব তথ্য দেওয়া আছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওয়েবসাইট ভিজিট করেও দরকারি সব তথ্য পেতে পারেন। ভর্তির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সরাসরিও যোগাযোগ করতে পারেন। সিঙ্গাপুরে চারটি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় আছেঃ
1. National University of Singapore (NUS)

21, Lower Kent Ridge Road, Singapore 119077.

Tel: 0065 6516 2301, Fax: 0065 6778 6371

Web: http://www.nsu.edu.sg
2. Nan Yang Technological University (NTU)

36, Nan Yang Avenue, Singapore- 639798.

Tel: 0065 6790 6823, Fax: 0065 9170 0634

Web:www.ntu.edu.sg
3. Singapore Management University (SMU)

Oei Tiong Han Building, 469, Bukit Timah Road,

Singapore- 259756.

Web:www.smu.edu.sg
4. Singapore Institute of Management (SIM)

461, Clementi Road, Singapore- 599491.

Tel: 0065 6248 97777, Fax: 0065 6763 9077

Web: http://www.unisim.edu.sg
এছাড়া রয়েছে,
1. Insead

1 Ayer Rajah Avenue, Singapore- 138676.

Tel: 0065 67995388, Fax: 0065 67995399

Web:www.insead.edu
2. Ngee Ann Polytechnic

535, Clementi Road, Singapore- 599489.

Tel: 0065 6466 6555, E-mail: dept_ee@np.edu.sg, Web: http://www.np.edu.sg
3.Singapore Polytechnic

500, Dover Road, Singapore-139651.

Tel: 0065 6772 1288, Fax: 0065 6772 195

বিদেশে উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের জন্য ভিজিট করুনঃ http://www.eduhighway.com

——————————————————————-
🚩নিউজিল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা🚩
বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মধ্যে নিউজিল্যান্ড অন্যতম। নিউজিল্যান্ডে পড়াশোনার মানও অত্যন্ত উন্নত। কর্মবান্ধব এই দেশটিতে নিজেকে ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করার জন্য রয়েছে অফুরন্ত সম্ভাবনা। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ছাত্রদের পাশাপাশি বাংলাদেশি ছাত্ররাও নিউজিল্যান্ডকে পছন্দের তালিকায় রেখেছে। অস্ট্র্রেলিয়া মহাদেশে অবস্থিত এই দেশটি অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এখানে রয়েছে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনস্টিটিউট। যাদের শিক্ষার মান, অবকাঠামো, পরিবেশ বিশ্বমানের।

✏✏✏পড়াশোনার ধরণ ও সেমিস্টার
নিউজিল্যান্ডে উচ্চশিক্ষার জন্য ডিপ্লোমা ডিগ্রি, ব্যাচেলর্স ডিগ্রি, অনার্স ডিগ্রি, মাস্টার্স ডিগ্রি ও ডক্টরেট করার করার সুযোগ রয়েছে। তিনটি সেমিস্টারে শিক্ষা কার্যক্রম চলে। প্রথম সেমিস্টার ফেব্রুয়ারিতে দ্বিতীয় সেমিস্টার জুলাইয়ে তৃতীয় সেমিস্টার নভেম্বরে শুরু হয়। তবে বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে দু্থটি সেমিস্টারে ভর্তি করা হয়।

✏✏✏ভর্তির যোগ্যতা
ব্যাচেলর্স ডিগ্রিতে ভর্তির জন্য টোফেল সিবিটি স্কোর ২১৩ অথবা টোফেল আইবিটি স্কোর ৭৯-৮০ অথবা আইইএলটিএস স্কোর ৬ থাকতে হয়। মাস্টার্সে ভর্তির জন্য টোফেল সিবিটি স্কোর ২৪০ অথবা টোফেল আইবিটি স্কোর ৯৪-৯৫ অথবা আইইএলটিএস স্কোর ৬.৫ থাকতে হয়।
বাংলাদেশি যেসব ছাত্র ডিপ্লোমা কিংবা আন্ডার গ্র্যাজুয়েট লেভেলে পড়তে ইচ্ছুক তাদের এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় নূ্যনতম জিপিএ-৩.৫ এবং আইইএলটিএসএ ৫.৫ থাকতে হবে।

🚩কোর্সের মেয়াদ
ডিপ্লোমা ডিগ্রি দু্থবছরমেয়াদি, ব্যাচেলর্স ডিগ্রি তিন বছর মেয়াদি, অনার্স ডিগ্রি চার বছরমেয়াদি, মাস্টার্স ডিগ্রি দু্থবছরমেয়াদি এবং ডক্টরেট ডিগ্রি সাধারণ বিষয়ে ৩ বছরমেয়াদি এবং মেডিকেল সায়েন্সে ৪-৫ বছরমেয়াদি।

✏✏✏বিষয়
এগ্রিকালচার, হর্টিকালচার, কোয়ান্টিটি সার্ভেইং, এডভান্সড স্টাডিস ফর টিচার, ল্যাঙ্গুয়েজ, সোস্যাল সায়েন্স, ব্যবসায় প্রশাসন, একাউন্ট্যান্সি, অফিস সিস্টেম, ম্যানেজমেন্ট, কমিউনিটি এডুকেশন, নন-ফরমাল এডুকেশন, জেনারেল এডুকেশন, কম্পিউটার সায়েন্স, ভেনস্টিট্রি, ইঞ্জিনিয়ারিং, টেকনোলজি, ফাইন আর্টস, ডিজাইন, হেলথ সায়েন্স, আইন, মেডিসিন, মিউজিক, ট্রেড, ভেটেরিনারি, নার্সিং, মেডিকেল ইমেজিং, মিডউইফারি, অকুপেশনাল থেরাপি, ফিজিওথেরাপি, মেডিকেল রেডিয়েশন থেরাপি, ফার্মেসি, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিসহ বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য নিউজিল্যান্ড যেতে পারেন।

🚩🚩ব্যয়
নিউজিল্যান্ডে ব্যাচেলর্স ডিগিগ্র জন্য ১৫ হাজার ডলার, মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য প্রায় ২০ হাজার ডলার, পিএইচডির জন্য ২৫-৪০ হাজার ডলার বার্ষিক খরচ হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য। পলিটেকনিক অথবা টেকনোলজি ইনস্টিটিউটে ব্যাচেলর্স ডিগ্রির জন্য ১৫ হাজার ডলার, ডিপ্লোমার জন্যও প্রায় ১৫ হজার ডলার। সার্টিফিকেট কোর্সের জন্যও প্রায় ১৫ হাজার ডলার ব্যয় হয়। থাকা-খাওয়াসহ অন্যান্য খরচ প্রায় ১২-১৪ হাজার ডলার। হল অথবা হোস্টেলে প্রতি সপ্তাহে ২০০ ডলার ও বাড়িতে থাকলে প্রতি সপ্তাহে ১৮০ ডলার ব্যয় হয়। ফ্ল্যাটের ভাড়া সপ্তাহে ১২০ ডলার। বিদেশি ছাত্রদের জন্য হেলথ ও ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। এজন্য প্রতি মাসে ৩৩ ডলার অথবা বছরে ৩৯০ ডলার ব্যয় হয়। এখানে উলি্লখিত সব খরচই নিউজিল্যান্ড ডলারে দেখানো হয়েছে।

✏✏✏আবেদনের প্রক্রিয়া
আবেদনের জন্য শেষ তারিখ আছে কিনা দেখা উচিত। সরাসরি প্রতিষ্ঠানের ভর্তি অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকেও আবেদনপত্র ডাউনলোড করা যায়। এক বছর আগে থেকে আবেদনের প্রস্তুতি শুরু করলে ভালো হয়। সাধারণ ছয় থেকে আট মাস আগে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে থাকে। আবেদনপত্রের সঙ্গে সব সনদ ও মার্কশিটের ইংরেজি কপি থাকতে হবে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ছাড়পত্র লাগবে। ভাষাগত যোগ্যতার প্রমাণপত্র ও মেডিকেল টেস্ট প্রয়োজন হবে।

🚩🚩কাজের সুযোগ
নিউজিল্যান্ডের পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করার সুযোগ পাওয়া যায়। এক বছরের বেশির ভিসা থাকলে কাজ করার অনুমতির জন্য আবেদন করা যায়। কোর্স চলাকালে প্রতি সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজের অনুমতি দিয়ে থাকে। ছুটির সময় পুরো সময় কাজ করা যায়। চাকরির সুযোগ। এখানকার ৪, ৫ ও ৬ তারকা মানের হোটেল কিংবা ফাইন-ডাইনিং রেস্টুরেন্টে রয়েছে চমৎকার জবের সুযোগ।

✏✏✏ক্রেডিট স্থানান্তর
আন্ডার গ্র্যাজুয়েট ও পোস্টগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে ক্রেডিট স্থানান্তর করা যায়। অর্ধেকের কম ক্রেডিট স্থানান্তরের সুযোগ দেয়া হয়। বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয় ্তুবি্থ গ্রেড থাকলে ক্রেডিট স্থানান্তরের সুযোগ দেয়। কোর্সের কতটুকু সম্পন্ন হয়েছে এই তথ্যসহ কোর্সের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে এজন্য আবেদন করতে হয়।

🚩🚩🚩স্কলারশিপ
নিউজিল্যান্ডের উচ্চশিক্ষার জন্য প্রচুর বৃত্তির সুযোগ আছে। কমনওয়েলথ স্কলারশিপ ও ফেলোশিপ, নিউজিল্যান্ড এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (এনজেডএআইডি) পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপ ও এনজেডএআইডি স্টাডি এওয়ার্ড বৃত্তি দিয়ে থাকে। নিম্নে নিউজিল্যান্ডের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব ঠিকানা দেয়া হলো-
1. The University of Auckland – http://www.auckland.ac.nz
2.the University of Canterbury – http://www.canterbury.ac.nz
3.University of Otago – http://www.otago.ac.nz
4.Victoria University of Wellington – http://www.victoria.ac.nz
5.The University of Waikato – http://www.waikato.ac.nz
ভিসা আবেদনে স্পন্সর
ভিসা আবেদনের সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নূ্যনতম ২৮ লাখ টাকার ব্যাংক স্থিতি আছে এমন একজন স্পন্সর আবশ্যক। স্পন্সরকে তার আয়ের উৎসের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন সে ব্যবসায়ী হলে তার ব্যবসায়ের ট্যাক্স/ভ্যাট পরিশোধের রেকর্ডপত্র ও ট্রেড লাইসেন্স দেখাতে হবে। নিউজিল্যান্ড অ্যাম্বাসির প্রয়োজনীয় রিকোয়ারমেন্টস সম্পন্ন করলে এবং মোটামুটি নির্ভুলভাবে ভিসা আবেদন প্রস্তুত করলে ভিসা পাওয়ার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।
বিদেশে উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের জন্য ভিজিট করুনঃ http://www.eduhighway.com

———————————————————————-


🚩ভারতে উচ্চশিক্ষা🚩
একটা সময় ছিল, যখন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে কম্পিউটারে উচ্চশিক্ষার বিশেষ গন্তব্যস্থল ছিল ভারতের বেঙ্গালুরু। বছর দশেক আগে ভারতে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগই ভর্তি হতো ভারতের প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। বর্তমানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী প্রযুক্তির পাশাপাশি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও পড়াশোনা করছে। মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীদের ইউরোপ-আমেরিকার ব্যয়বহুল উচ্চশিক্ষার বিকল্প হতে পারে ভারতের কম খরচের মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

✏✏✏শিক্ষাব্যবস্থা
হিন্দির পাশাপাশি ইংরেজিতে শিক্ষাদান করা হয় বেশির ভাগ ভারতীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। আইইএলটিএস ছাড়াও বিদেশি শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার জন্য দেশটির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবেন। ভারতে ইংরেজি বহুলব্যবহৃত ভাষা হওয়ায় ভর্তির আগেই ইংরেজিতে দক্ষতা অর্জন করা ভালো। শিক্ষাব্যবস্থা ও দরকারি তথ্যের বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন ভারত সরকারের শিক্ষাবিষয়ক ওয়েব পোর্টাল-www.india.gov.in/overseas/study-india/studyinindia.php

✏✏✏যেসব বিষয়ে পড়াশোনা
আন্তর্জাতিক চাহিদাসম্পন্ন প্রায় সব বিষয়েই পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, বিজনেস, অ্যাকাউন্টিং, মেডিসিন, ডেন্টাল, ফার্মেসি, নার্সিং, ফিজিওথেরাপি, ট্যুরিজম অ্যান্ড হোটেল ম্যানেজমেন্ট ছাড়াও অনেক বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট, পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট অধ্যয়নের সুযোগ রয়েছে এ দেশে।

✏✏✏ভর্তিপ্রক্রিয়া ও আবেদন
অন্যান্য দেশের মতো ভারতে বাংলাদেশিদের উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হতে ভিসাপ্রাপ্তিতে ততটা হয়রানি হতে হয় না। ‘বিষয়’ ও ‘বিশ্ববিদ্যালয়’ নির্বাচন করার পর ঢাকার ভারতীয় দূতাবাসের শিক্ষাসংক্রান্ত শাখা ‘এডুকেশন উইং’-এর সঙ্গে যোগাযোগ করলেই প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে। টিউশন ফিসহ অন্যান্য ফির তথ্য জানা যাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে। ভর্তি সেশন শুরুর আগেই নির্ধারিত সময়ে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আবেদন করতে হয়। শিক্ষার্থীদের প্রেরিত আবেদনপত্র ও আনুষঙ্গিক কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ঠিকানায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীকে ডাকযোগে ভর্তির অনুমতিপত্র প্রেরণ করে থাকে।

🚩ভিসা আবেদন
ভর্তির অনুমতিপত্র অর্থাৎ অফার লেটার হাতে পাওয়ার পর শিক্ষার্থীকে ভিসা আবেদনের জন্য যোগাযোগ করতে হবে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে।
ঢাকার ভারতীয় দূতাবাস কর্তৃক পরিচালিত এ ভিসাকেন্দ্রের ঠিকানা : বাড়ি-১২, রোড-১৩৭, গুলশান-১, ঢাকা। ফোন : +৮৮ (০২) ৯৮৯৩০০৬।
ভিসা ফি ও ভিসাসংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য জানতে ভিজিট করুন http://www.ivacbd.com

🚩🚩টিউশন ফি ও অন্যান্য খরচ
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিষয়ভেদে টিউশন ফি ভিন্ন। আন্ডারগ্র্যাজুয়েট স্তরের বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা করতে বছরে (অর্থাৎ দুই সেমিস্টারে) বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতোই খরচ হয়। তবে মেডিক্যালে অধ্যয়ন করতে খরচ তুলনামূলক বেশি। বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্ডারগ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করতে হলে পাঁচ থেকে ১০ লাখ টাকা গুনতে হবে। থাকা-খাওয়া বাবদ প্রতি মাসে সাধারণত চার থেকে ছয় হাজার টাকা খরচ হয়। উল্লেখ্য, এক ভারতীয় রুপি প্রায় ১ দশমিক ৫ টাকার সমান।

🚩🚩পার্টটাইম কাজের সুযোগ
বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দেশের সরকারের শ্রম আইন অনুযায়ী পার্টটইম কাজের সুযোগ পেলেও ভারতে এ ধরনের কাজের অনুমতি নেই। তবে বিদেশি শিক্ষার্থীদের অনেকেই গৃহশিক্ষকের কাজ করে থাকেন।

🚩🚩🚩ভারতের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
* আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়, উত্তর প্রদেশ – http://www.amu.ac.in
* কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, পশ্চিমবঙ্গ – http://www.caluniv.ac.in
* বেঙ্গালুরু বিশ্ববিদ্যালয়, কর্ণাটক – http://www.bub.ernet.in
* রাজীব গান্ধী ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্স, কর্ণাটক -www.rguhs.ac.in
* অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয়, অন্ধ্র প্রদেশ – http://www.andhrauniversity.info
* গুরু গোবিন্দ সিং ইন্দ্রপ্রসাদ বিশ্ববিদ্যালয়, দিল্লী – http://www.ggsipu.ac.in
* ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, দিল্লী – http://www.iitd.ac.in
—————————————————————
বিদেশে উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের জন্য ভিজিট করুনঃ http://www.eduhighway.com

———————————©copyright : 2017, January 16

BY: Ananda Mohan Shil

               Facebook :www.facebook.com/Ananda.Mohan.shil

☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆

Advertisements